× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধানের চারা নিয়ে বন্যাদুর্গত কৃষকদের পাশে

মো. আমান উল্লাহ, বাকৃবি

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১৪:৫০ পিএম

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১৪:৫০ পিএম

বন্যার পানি নেমে গেলে দুর্গত এলাকায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে আমন ধানের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের চার একর জমিতে চলছে ধানের চারা তৈরির কাজ। প্রবা ফটো

বন্যার পানি নেমে গেলে দুর্গত এলাকায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে আমন ধানের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের চার একর জমিতে চলছে ধানের চারা তৈরির কাজ। প্রবা ফটো

বন্যাপরবর্তী খাদ্যসংকট হওয়া নতুন কিছু নয়। এর আগেও বন্যাপরবর্তী দেশে খাদ্যসংকট হয়েছিল। দেশের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এই আকস্মিক বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়েছে আমন ধানের চারা। কিছু দিন পর বন্যার পানি নেমে গেলেও আবার চারা তৈরি করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। এতে আমন ধান লাগানোর সময় চলে যাবে। আবার বন্যার কারণে চারা তৈরি করতে কৃষকরা সমস্যায় পড়বেন। দেশে দেখা দেবে খাদ্যসংকট। এই খাদ্যসংকটের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা বন্যাপরবর্তী কৃষকদের ধানের চারা দিয়ে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে অন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীজ কোম্পানি ও কৃষি উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, বন্যাপরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে আমন ধানের চারা বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন এসব শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেই আমন ধানের চারা সরবরাহ করবেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেই দ্রুত চারা সরবরাহ করা গেলে দেশের খাদ্যসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে জানান তারা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিইউ ধান-১ জাতের চারা সরবরাহ করবেন। ধানের চারার পর সবজির বীজও সরবরাহ করা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গ্যালারিতে একটি আলোচনা সভায় বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উদ্যমী শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন অধ্যাপক, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি উদ্যোক্তা ও করপোরেট ব্যক্তির পরামর্শক্রমে বন্যার্তদের চারা সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাগ্রি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’ গঠন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৪-২১ দিন বন্যার অবস্থা থাকলে বা তার বেশি সময় পার হয়ে গেলে আমরা আমন মৌসুম আর ধরতে পারব না। সেক্ষেত্রে চাহিদা মেটাতে আমাদের বিশাল পরিমাণে চাল আমদানি করতে হবে বা দুর্ভিক্ষ অবস্থা হতে পারে। এতে কয়েক হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ থেকে চলে যাবে। সেটা মোকাবিলায় আমাদের খুব দ্রুতই চারা তৈরি শুরু করতে হবে। যেন আমরা পানি নেমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চারা সরবরাহ করতে পারি। এতে আমরা অনেক এগিয়ে থাকব। পরবর্তীতে বোরো মৌসুম যথাসময়ে ধরতে পারব এবং এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

এ বিষয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মুন্না বলেন, ‘বীজ করার জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ একর জমির ব্যবস্থা হয়েছে। বাকৃবি ক্যাম্পাস থেকে চার একর এবং নোয়াখালী থেকে এক একর জমিতে বীজ বপন করে চারা তৈরির কাজ করা হবে। জমির পরিমাণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমরা ধানের বীজ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা যত বেশি বীজ সংগ্রহ করতে পারব, তত বেশি বন্যাদুর্গত এলাকায় ধানের চারা রোপণ করতে পারব। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশপাশের অঞ্চলে জমি ব্যবস্থা করতে পারলে সেটা খুবই ফলপ্রসূ হবে। এতে যোগাযোগ সহজ হবে, খুব সহজেই চারা ওই এলাকার মাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।’

বাকৃবির খামার ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের চারা সংকট রয়েছে। তবে আমরা খামার ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে তিন একর জায়গা দিয়ে সাহায্য করতে পারব। শিক্ষার্থীরা তিন একর জায়গায় বীজধান বপন করে ধানের চারা উৎপাদন করতে পারবেন।’

বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম আরিফ হাসান খান রবিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ বন্যাপরবর্তী দেশের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই মহৎ উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এই প্রক্রিয়ায় বেশি সিড ও বেশি জমির প্রয়োজন। চারা প্রস্তুত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক একর জমি নেওয়ার ব্যবস্থা করব। এখন যেহেতেু আমন মৌসুম চলছে, বন্যাপরবর্তী সময়ে ব্রি-৫২, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫ ও বিনা-১৬, বিনা-১৭ ধানের জাতগুলো বন্যা এলাকার জন্য উপযুক্ত হবে। ব্রি-৫২ জাতের ধান পানির নিচে ১৫ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এ ছাড়া বিআর-২৩, ব্রি-৩৪, ব্রি-৪৬, ব্রি-৪৯ জাতের ধানগুলো সংগ্রহ করা যেতে পারে। তবে নতুন করে বীজ থেকে চারা উৎপাদন করতে ২০-৩০ দিন সময় লাগবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় পানি নেমে যাওয়ার পরপরই যেন চারা রোপণ করা যায়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে ময়মনসিংহ বা আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণে ধানের চারা আছে। এলাকার মানুষেরা তাদের জমিতে ধানের চারা রোপণ করার পরও অতিরিক্ত চারা পড়ে আছে। এগুলো দ্রুততার সঙ্গে সংগ্রহ করতে হবে, যেন বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই বন্যাদুর্গত এলাকায় ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা