বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২২:০২ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ আহনাফ ও সাজিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শহিদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানস্বরূপ চেক হস্তান্তর করা হয়। ছবি : আইএসপিআর
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্র শহিদ শাফিক উদ্দিন আহম্মেদ আহনাফ ও সাবেক ছাত্র ইকরামুল হক সাজিদ স্মরণে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও দোয়া আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলাবার (২০ আগস্ট) ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল মো. শরীফ উদ্দীন সরকার।
অনুষ্ঠানে কলেজ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরাসহ কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালীন গত ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আহনাফ। একই দিনে কলেজের সাবেক ছাত্র ইকরামুল হক সাজিদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা সিএমএইচ-এ ১৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে শহিদ আহনাফ ও সাজিদকে অকুতোভয় বীর হিসেবে উল্লেখ করে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কায়সুল হাসান বলেন, ভবিষ্যতে তাদের এই আত্মত্যাগ সকল শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রেরণা যোগাবে।
অনুষ্ঠানে শহিদ আহনাফের মা তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আহনাফ সবসময় চাইতো আবু সাইদ ও মুগ্ধের মতো দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে। আজ এখানে ওর বন্ধুরা আছে কিন্তু আহনাফ নেই। আমার ছেলের জন্য আমার যেমন গর্ব হচ্ছে তেমনি কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথি এসময় আহনাফের স্মরণে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনসহ আহনাফের মৃত্যু দিবসকে ‘আহনাফ দিবস’ হিসেবে কলেজে উদযাপনের ঘোষণা দেন। এছাড়াও আহনাফের ছোট ভাইয়ের বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় বিনা বেতনে পড়াশুনার সকল দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে শহিদ আহনাফ ও শহিদ সাজিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শহিদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানস্বরূপ চেক হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকার অধ্যক্ষ ঢাকায় অবস্থিত সিএমএইচে চিকিৎসাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।