আশিকুর রহমান সমী
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১২:৩৭ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১২:৪৯ পিএম
শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীরা সেন্ট মার্টিন রক্ষায় প্লাস্টিক সংগ্রহ করে
৩০ মিনিটে ৬৫ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা
জীববৈচিত্র্যের বৈচিত্র্যময়তায় পরিপূর্ণ সেন্ট মার্টিন। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী ৪০ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর তথ্য মিলেছে এই দ্বীপ থেকে।
বিপন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের প্রজননের স্থানও এই সেন্ট মার্টিন। শাহপরীর দ্বীপ থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে প্রায় আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু বিশ্বজুড়ে অপচনশীল প্লাস্টিক দূষণের কারণে হুমকির মুখে এই জীববৈচিত্র্য।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের চিরসবুজ পাহাড়ি বনাঞ্চল, সমুদ্রতীর কক্সবাজার এবং নীল সমুদ্রের বুকে টিকে থাকা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফরের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। শিক্ষার্থীরা এই সফরে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত হন।

দেশের বন্যপ্রাণী গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামানের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে এবার ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা (জেনেসিস-৬৪) সেন্ট মার্টিন যান। ৭৬ জন শিক্ষার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনডিপির সদস্যদের নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর, সেন্ট মার্টিনের উত্তর-পশ্চিম অংশে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ৬০০ মিটার এলাকায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন। ৩০ মিনিটে ৬৫ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকসামগ্রী, প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর প্যাকেট, পলিথিন ছিল অন্যতম। প্লাস্টিক বোতল এবং একবার ব্যবহার্য সামগ্রী ছিল শতকরা ৯০ ভাগ। এ সময় প্লাস্টিক সংগ্রহের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় মানুষকে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে সচেতন করা হয়। সংগৃহীত প্লাস্টিকগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় টেকনাফে পাঠানো হয় রিসাইকল কাজে ব্যবহারের জন্য।
সেন্ট মার্টিন রক্ষায় বিভিন্ন রকম কার্যক্রম চললেও এখনও এখানে প্লাস্টিক দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা বলে চিহ্নিত। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের ভিড়ে অতিরিক্ত প্লাস্টিক দূষণ গ্রাস করছে এখানকার জীববৈচিত্র্যকে। মাত্র আধা ঘণ্টায় ৬০০ মিটার এলাকায় ৬৫ কেজি প্লাস্টিকের উপস্থিতি এটাই নির্দেশ করে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই হারাব আমরা আমাদের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ এই দ্বীপকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এমন উদ্যোগ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষা সফরের জন্য অনুকরণীয়। এরকম কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেরা সচেতন করতে পারবেন নিজেদের এবং আশেপাশের মানুষকে ঠিক তেমনি বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকাগুলো রক্ষা পাবে পরিবেশ দূষণ থেকে।