রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
প্রাধ্যক্ষ ড. একে এম মাহমুদুল হক টুটুল। ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে না থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের অনেকেরই পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ভিন্ন চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. একে এম মাহমুদুল হক টুটুলের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি সব হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা গেলে মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে তাকেই বহাল চান হলের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) আমীর আলী হলের ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বডির মতো সব হলের প্রাধ্যক্ষরাও পদত্যাগ করবেন বলে আমরা ধারণা করছি। পূর্বে আমরা পত্র পত্রিকায় দেখতাম, প্রতিটি হলের সিট বণ্টন থেকে শুরু করে খাবার সমস্যা, চাঁদাবাজি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ। আর এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন সব সময় প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করত। তবে আমাদের হলের বর্তমান প্রাধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব সমস্যার সম্মুখীন হইনি বলা চলে। তার সুদূরপ্রসারী ও ছাত্রবান্ধব পরিকল্পনা আমাদের হলে নতুন যুগের সূচনা করেছে। তারই সুযোগ্য নেতৃত্বে খাবারের সমস্যা দূরীকরণে ইসাবেল ক্যাটারিং নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র দ্বারা পরিচালিত ডায়নিং সিস্টেম চালু হয়। এটি চালু করা থেকে শুরু করে সার্বিক দিক নির্দেশনায় স্যার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কি পরিমাণ শ্রম এবং সময় দিয়েছেন তা আমরা হলের শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই অবগত।
এতে আরও বলা হয়, স্যার সকল শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতি মাসে মাসিক মিটিং করতেন। একমাত্র তিনি থাকা অবস্থায় আমাদের প্রভোস্ট চেম্বারে যেতে অনুমতির প্রয়োজন হত না, ছাত্রদের জন্য তার দরজা সব সময় খোলা ছিল। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিট বণ্টন করার। যেখানে বিগত প্রভোস্ট স্যার সিগনেচার বাদে অন্যকোন দায়িত্ব পালন করেননি বরং তারা একশ্রেণীর মানুষের নিকট দায়বদ্ধ হয়ে হল চালিয়েছেন।
তাই আমরা আমাদের হল প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ মেয়াদে সৈয়দ আমীর আলী হলের বর্তমান প্রাধ্যক্ষ স্যারকে বহাল চাই। স্যারের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি এবং স্যারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যেন তিনি পদত্যাগপত্র জমা না দিয়ে স্ব-পদে বহাল থাকেন।
এ বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাবাসসুম মিনহাজ সনেট বলেন, ‘টুটুল স্যার শুরু থেকেই ছাত্রবান্ধব মানুষ। আমরা যেকোনো সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে মুক্তভাবে কথা বলতে পারি। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম হলে ক্যাটারিং ব্যবস্থা চালু করেন। যেটা আমাদের জন্য খুবই ভালো উদ্যোগ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন অন্যান্য হলে সিট বাণিজ্য, আবাসন সংকটের কথা শোনা যেত তখনও প্রাধ্যক্ষ স্যারের নেতৃত্বের কারণে আমাদের হলে এরকম কোনো সমস্যা হয়নি। তাই আমরা চাই মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন দায়িত্বে বহাল থাকেন।’
হলের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন মাহফুজ বলেন, ‘আমি এই হলে আসার পর তিনজন প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন দেখেছি। তার মধ্যে বর্তমান প্রাধ্যক্ষ সবদিক থেকেই ছাত্রবান্ধব। হলের খাবার সমস্যা নিরসনে তিনি ক্যাটারিং ব্যবস্থা চালু করেন। তার জন্য বরাদ্দকৃত প্রভোস্ট হাউজে তিনি না থেকেও বাইরে থেকে এসে সময় অসময়ে এসে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক। তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থেকেছেন এবং হলের অবকাঠামগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাই মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাকে আমাদের দরকার।’
এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ ড. একে এম মাহমুদুল হক টুটুল বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে হলে চাচ্ছেন এটা আমার জন্য অনেক গৌরবের। তারা আমার সকল কাজে সহযোগিতা করেছে। তবে আমি হলের প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি একজন সিন্ডিকেট সদস্যও। আমাকে শিক্ষকদেরও প্রতিনিধিত্ব করতে হয়। তাই এই বিষয়টা নিয়ে আমিও ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটা দলের সঙ্গে যুক্ত এটাও বুঝতে হবে। তবে শিক্ষার্থীরা যেহেতু আমাকে চাচ্ছে আর তাদের জন্যই হলে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমি বিষয়টা নিয়ে ভাবব। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।’