প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৪ ২২:০৬ পিএম
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সেনাবাহিনীর নির্দেশে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মাঝে উদ্বেগ কাজ করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাননি।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, যথাসময়ে স্কুল খুলেছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি শতভাগ থাকলেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা একেবারেই কম। ফলে দুপুরের পর প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ছুটি দিয়ে বন্ধ হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বিদ্যালয়টির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসরিন জানান, তার বাসা স্কুলের পেছনে বলে এসেছেন।
মোহাম্মদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ’র অভিভাবক নিজামুল হক বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় আমি আমার দুই মেয়েকে স্কুলে পাঠাইনি। আরও কয়েকদিন দেখে পাঠাব।’
রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জোহরা বেগম বলেন, ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে, তারা আসছে। কয়েকদিন পর খুলল তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে গিয়ে দেখা গেছে ছাত্রীদের উপস্থিতি কম। অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান খোলা। ছাত্রীরাও এসেছে, তবে উপস্থিতি কম। দুয়েক দিনের মধ্যে উপস্থিতি বেড়ে যাবে।’
এর আগে গত সোমবার রাতে আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৭ জুলাই থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ১৮ জুলাই থেকে দেশের আট বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে, স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা ১১ অগাস্ট থেকে শুরু করার কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। নতুন তারিখ বুধবার জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ৪ অগাস্ট থেকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাগুলোও স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ১১ অগাস্ট থেকে নতুন সূচিতে পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল।
খুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলগুলোর সেবা কার্যক্রমও চালু হয়েছে। তবে হলগুলোতে শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থীদের ওঠানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা হবে। মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।