বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ২২:০৪ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ২২:২২ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বৈঠক। প্রবা ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনের সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের নয়জন শিক্ষার্থী। তাদের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে শিক্ষার্থীদের আরেকটি পক্ষ।
সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তাদের দেওয়া বিবৃতি দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল।
বৈঠকে প্রশাসনের মধ্যে ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ।
প্রতিনিধিত্ব করা শিক্ষার্থীরা হলেন, ইংরেজি বিভাগের আব্দুর রহমান, ইশতিয়াক আহমেদ, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আল যুবাইর তামিম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, অর্থনীতি বিভাগের তন্ময় কুমার সাহা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বাধন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আরাফাত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জুবায়ের এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ।
বৈঠকে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা লিখিত দাবি জানান। দাবিগুলো হলো– আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্থা না করে; সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; কোটা আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং অতিদ্রুত হল খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা।
বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, এই পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিতে সই করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, কমিশন গঠন করে সব কোটাধারীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিতে হবে। পরে যদি পরিবর্তন প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রতিনিধি মতামতের ভিত্তিতে পরিবর্তন বা সংস্কার করতে পারবে। এ ছাড়া যে নয় দফা দাবি আছে, তা মেনে নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে যদি শিক্ষার্থীসমাজ একাত্মতা পোষণ না করে তাহলে সেই দায়ভার এই বৈঠকের সদস্যদের নিতে হবে। শিক্ষার্থী সমাজের নয় দফা থাকবে এবং পরে আরও আলোচনার সুযোগ থাকবে।
এই নয় শিক্ষার্থীর বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, যারা স্বাক্ষর করেছে তারা আমাদের পরিচিতও নানা। আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে ও জেলা শহরের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের কর্মসূচি চলবে।
সহসমন্বয়ক সায়েম আহমেদ বলেন, প্রশাসন গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ভীতি দেখিয়ে বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের সই নিয়েছে। যারা সই করেছে তারা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট কেউ নন। সেখানে ছাত্রলীগের পদধারী নেতাও আছে। আমরা কোনোভাবেই নিহতদের রক্তের সঙ্গে আপস করছি না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।