বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:০৮ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফের সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুলাই) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সঙ্গে মিলে ১৭ সদস্যের এ কমিটির তালিকা সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
সমন্বয়ক কমিটির সদস্যরা হলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা, উর্দু বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না, ইলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী নওসাজ জামান, সিরামিক অ্যান্ড ভাস্কর্য বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ রিদম, সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী সজীব। এ ছাড়াও দর্শন বিভাগের ফুয়াদ উল ইসলাম ভুইয়া রাতুল, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের এফআরএম ফাহিম রেজা, আইইআর বিভাগের শিক্ষার্থী তাসিন খান, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের মেহেদী হাসান মারুফ, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ফৌজিয়া নৌরিন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সালাহউদ্দিন আম্মার, আইন বিভাগের মৃত্তিকা, আরবি বিভাগের মাহাদী হাসান মাহির, ক্রোপ সাইন্স বিভাগের নুরুল ইসলাম শহিদ, এরা সবাই ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থ এবং ব্যবসায় অনুষদের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী আতাউল্লাহ।
নতুন সমন্বয়ক কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রায় শুরু থেকেই সমন্বয়ক ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন চলার কারণে শিক্ষার্থীরা সীদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। আর কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাবিতে এই সমন্বয়ক কমিটির সিদ্ধান্তেই পরবর্তী কর্মসূচি পালিত হবে।’
এদিকে আগের কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং নিজেদের সমন্বয় না থাকায় সে কমিটি বাতিল হওয়ার ফলে ১২ জুলাই থেকে সমন্বয়ক ছাড়াই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামক ব্যানারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। ১৭ জুলাই থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই রাবি ক্যাম্পাস ফাঁকা হতে থাকে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারকে ১ মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে রাবির সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীদের অন্য অংশ। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ আজ কেন্দ্র থেকে ১৭ সদস্যের নতুন সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত ৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিচালনার জন্য আগে থেকে নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীরা মিলে ১১ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করেন। সেই সমন্বয়ক কমিটির নেতৃত্বেই কয়েক দিন আন্দোলন পরিচালিত হয়। এরপর কমিটির সদস্যরা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং দুই দিন জনসংযোগের ঘোষণা দেন। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমন্বয়ক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এর মাঝে ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করেন মেহেদী সজিব নামের এক সমন্বয়ক।