বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১৫:৫৬ পিএম
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এলাকায় স্বামীর জন্য আহাজারি করেন শাহনাজ বেগম। প্রবা ফটো
রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের জয়নাল মার্কেটের পাশে একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন আবুল কালাম। পেশায় গাড়িচালক তিনি।জীবিকা নির্বাহ করেন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালিয়ে। দিন কয়েক আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তরায় চলা সংঘর্ষের একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন তিনি। এই অপরাধে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ তাকে থানায় তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। স্বামীর জামিনের আশায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে এসেছেন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম। সিএমম কোর্ট এলাকায় স্বামীর জন্য আহাজারি করতে দেখা যায় তাকে।
বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আবুল কালামের স্ত্রী শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথা হয় প্রতিদিনের বাংলাদেশের এ প্রতিবেদকের। সিএমএম কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে স্বামীর জন্য আহাজারি করছিলেন তিনি। সেখানেই তুলে ধরেন তার স্বামীর পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কথা।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে আবুল কালামের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রাইভেটকারের ড্রাইভার। সে শিক্ষিত না। কোনোরকম দস্তখত করতে পারে। কয়েক দিন আগে উত্তরার ৭ নম্বর এলাকায় ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার সময় আন্দোলনের একটা ভিডিও করছিল। সে তো এত কিছু বোঝে না। শুধু একটা ভিডিও করার কারণে কাল বিকাল ৫টার দিকে বাসা থেকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। আমার স্বামী শুধু না বুঝে একটা ভিডিও করেছিল, এটাই তার অপরাধ?
তিনি আরও জানান, আমার স্বামী বাসাতেই ছিলেন। এসব আন্দোলনের কিছুই বোঝে না। মঙ্গলবার বিকালে উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ এসে যখন তুলে নিয়ে যায়, তখন বলে চেক করে ছেড়ে দেবে। আমি সারা রাত থানায় ছিলাম। আমার স্বামীকে ছেড়ে দেয়নি। আজ আদালতে আনার জন্য পুলিশের ভ্যানে তুললে জামিনের আশায় আদালতে এলাম।
শাহনাজ বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার দুইটা মেয়ে। একজন ইন্টারে পড়ে আরেকজন ক্লাস নাইনে। তাদের কাছে আমি কী জবাব দেব। তারা বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে। আমার স্বামী তো কোনো অপরাধ করেনি, আন্দোলনও করেনি। শুধু না বুঝে একটা ভিডিও করেছিল। এজন্য তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে এলো। তার ওপর নির্যাতন করল।
আবুল কালামের ছোটভাই জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাই তো কোনো অপরাধ করেনি। তারপরও পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে এসেছে বাসায় ঢুকে। চেক করে ছেড়ে দেবে বলছিল। কিন্তু সারা রাত থানায় রেখে আদালতে নিয়ে এলো। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পরিবারের ওপর দিয়ে কী যাচ্ছে, তা আমরাই জানি। তার মেয়ে দুইটা কান্নাকাটি করছে। তার নামে কী মামলা দিছে আমরা এখনও জানি না। উকিল নিয়োগ দিয়েছি। এখন দেখা যাক কী হয়।