শিক্ষক আন্দোলন
প্রবা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২২:৫৭ পিএম
প্রকৌশল গুচ্ছের ওরিয়েন্টেশন ও চতুর্থ ধাপে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের পর এবার স্থগিত করা হয়েছে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা। কর্তৃপক্ষ বলছেন, অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের সর্বাত্মক আন্দোলনের জের ধরেই এই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হলে তারা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নেবেন না।
সোমবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতক শ্রেণির আগামী ২০ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম লুৎফুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির এক জুম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কৃষি গুচ্ছ কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনিবার্য কারণবশত আগামী ২০ জুলাইয়ের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
পরীক্ষা কবে হবে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপাতত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে জানানো হবে।
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। এতে মোট আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৭১৮টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১১৬টি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩৫টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৯৮টি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪৮টি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটিতে ২৭০টি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০টি আসন রয়েছে।
কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষা স্থগিত ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বাত্মক এই কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্যে চলমান আন্দোলনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহেদ রানা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলমান থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং রবিবার রাতে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়াও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানায় শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের জন্য আন্দোলন করছি না। শিক্ষার্থীদের জন্যই এ আন্দোলন। প্রত্যয় স্কিম থাকলে যারা পরবর্তীকালে শিক্ষকতায় আসবে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ হারাবে।