কোটা সংস্কার আন্দোলন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪ ২৩:৩০ পিএম
কোটা সংস্কার আন্দোলনে বৃহস্পতিবার রেললাইন অবরোধ করেন রাবি শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশনবাজারসংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী রেললাইন অবরোধ করেন তারা। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ঝুম বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলেও তা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন স্টেশনবাজার এলাকায় যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন।
এদিকে, দুপুর থেকে কুবি, চবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালে ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, লড়াই হবে এক সাথে’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটাপ্রথার কবর দে’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ 'দফা এক দাবি এক, কোটা নয় কামব্যাক' ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুজন ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে কোটা আন্দোলনকে বেগবান করতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। আমরা ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আজকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ জঘন্য ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা রেললাইন অবরোধ করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটা যৌক্তিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছি। সরকার নিজেই এটার সমাধান করতে পারে, কিন্তু সেখানে পেটোয়া বাহিনী পুলিশ কীভাবে ছাত্রসমাজের ওপর লাঠিচার্জ করে। এর প্রতিবাদে আমরা রেললাইন অবরোধ করছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি এভাবেই লাগাতার চলবে।’
প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টা পর শুক্রবারের কর্মসূচি ঘোষণা করে রেলপথ ছাড়েন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জমায়েত এবং বিকাল ৪টায় আবারও একই স্থানে রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে ঢাকা-রাজশাহীগামী তিনটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাংলাবান্ধা ট্রেনটি হরিয়ানাতে অপেক্ষমান। এছাড়াও বনলতা ট্রেনটিও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসছে। আন্দোলনের কারণে সেটিও হরিয়ানায় এসে অপেক্ষা করবে। এছাড়াও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ধুমকেতু ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয় ঘটবে। আর রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীর লোকাল ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে অপেক্ষমান, আন্দোলনের কারণে ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও ঢাকাগামী ধুমকেতু ট্রেনটি আজ রাত ১১.২০ মিনিটে আবার রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন না থামালে তো সেটি সম্ভব হচ্ছে না।’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ না ছাড়লে ট্রেনের চরম শিডিউল বিপর্যয় ঘটবে বলে জানান তিনি।