বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৫:০৯ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৬:২২ পিএম
কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পর থেকে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও চাকরিপ্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন শুরুর ৩৪ দিন পর চলমান এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মাত্র ১৩ মিনিটের জন্য মৌন প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই মৌন প্রতিবাদ করেন তারা। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে মৌন প্রতিবাদ করে সেখান থেকে চলে যান তারা।
গত মাসের ৫ জুন হাইকোর্ট কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিপত্র পুনর্বহালসহ কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন ও সড়ক অবরোধের মতো লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছে।
কিন্তু এই সময় আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের কর্মসূচি বা সংহতি প্রকাশ করেনি। এই নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকেও বুয়েট শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল।
চলমান এই পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ জুলাই) রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ একটি বৈঠকে আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মৌন প্রতিবাদ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুয়েট সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদের ছুটি, টার্ম ব্রেক ইত্যাদির কারণে বুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী কম থাকায় চলমান কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশ করতে দেরি হয়েছে।
মঙ্গলবারের মৌন প্রতিবাদ সমাবেশে বুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান তারা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তুলে ধরেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার করার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমান সময়ে এসে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সচ্ছল জীবনযাপন করছে। তাদের পরিবারের নাতি-নাতনিদের আগের অনগ্রসর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা লাগেনি।
এক্ষেত্রে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কথা বিবেচনা করে ওদের সুবিধার্থে এবং মেধার স্বার্থে আগের কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা বাধ্যতামূলক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নারী কোটা সংস্কার ও জেলা কোটাকে ভিত্তিহীন বলে সংস্কারের কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, কোটা সংস্কারের পর বিভিন্ন কোটায় উপযুক্ত/ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া গেলে ওই জায়গাগুলোতে মেধার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। একটি বিশেষ কোটাকে যাতে কোনো ব্যক্তি তার জীবনের ধাপে ধাপে সুবিধা ভোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের সঠিক অবকাঠামো গঠন করার আবশ্যক।
কোটা আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং মহামান্য আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।