সর্বজনীন পেনশন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৪ ২৩:১২ পিএম
সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে আট দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। টানা এই কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব দাপ্তরিক কার্যক্রম। নিজেদের দাবিতে অটল শিক্ষকদের কর্মবিরতির আট দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকার পক্ষের সঙ্গে বৈঠক বা সমঝোতা হয়নি।
এর আগে কয়েক সপ্তাহ শিক্ষকরা তাদের দাবি জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষকদের টানা এই আন্দোলনে সেশনজট তৈরির আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার আভাস মিললেও তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুই দিন বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষমেশ হয়নি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। তবে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসবেন এই আন্দোলনের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠক থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেডারেশনের সভাপতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন করে কিছু বলার নেই। সরকারের উচ্চমহল থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের এখনও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ কী হবে, তা ঠিক করতে আগামীকাল বৈঠকে বসব আমরা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘আমরা আশা করছি সরকারের তরফ থেকে আলোচনায় বসার জন্য। এখন পর্যন্ত আলোচনার কোনো আমন্ত্রণ আমরা পাইনি। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছিÑ দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না। বিজয় নিয়ে আমরা ক্লাসরুমে ফেরত যাব।’
এদিকে সোমবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সম্মুখ গেটে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ সময় নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান ও বক্তব্য দিতে দেখা যায় তাদের।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘কারা আমাদের আন্দোলনে নামিয়েছে? আমরা মনে করি, তারা রাষ্ট্রের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা লোক, যারা ২০১৫ সালেও আমাদের বিরুদ্ধে লেগেছিল। সে বছর তারা আমাদের সঙ্গে পেরে উঠেনি। তাই এ বছর আবার আমাদের পেছনে লেগেছে। তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অন্যায্য।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বলেছিলাম এই স্কিম বাতিল করুন, নাহলে আমরা কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু তারা দাবি মানেনি। ফলে আমরা অর্ধদিবস কর্মবিরতি করেছি, পরে পূর্ণদিবস করেছি। এরপর আমরা এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছি। যেহেতু আন্দোলন শুরু করেছি, সফলতা আসার আগ পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।’
একই দাবিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় কর্মকর্তা পরিষদ ও কর্মচারী ইউনিয়ন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের অনুরোধ করেন পরীক্ষার বিষয়টা বিবেচনার জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে দাপ্তরিক কাজ না করলে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকবে।’