× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

৭২ বছরেও নিশ্চিত হয়নি আবাসিকতা

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩৩ পিএম

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩৩ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো

নানা সম্ভাবনা, সাফল্য, সংকট নিয়েই ৭১ বছর পার করল বরেন্দ্রভূমির প্রাণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিদ্যাপীঠ। সে হিসেবে আজ ৬ জুলাই ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু পেছনে ফেলে আসা এই দীর্ঘ সময়ে যে সীমাবদ্ধতা এখনও রয়ে গেছে তা হলো শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা। গেল ৭১ বছরে মাত্র ৩৭ শতাংশের মতো আবাসিকতা নিশ্চিত করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের আবাসনে এমন চরম সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই অনাবাসিক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাগুলোয় মেসে, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে বিভিন্ন ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেস বা বাসা থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ভাড়া ও নিরাপত্তাহীনতা তাদের ভোগান্তির প্রধান কারণ। উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করলে তাদের আবাসন সুবিধা কিছুটা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে তারা উপকৃত হবেন। শতভাগ আবাসিকতার নিশ্চয়তা চান শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার কোনো অভাব নেই। আছে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক। এর বিপরীতে ছেলেদের ১১টি ও মেয়েদের ৬টি হল রয়েছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৬৯ জন ছেলে শিক্ষার্থী ও ৪ হাজার ২০৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। বাকি শিক্ষার্থী আবাসিকতার অভাবে ক্যাম্পাসের বাইরের এলাকাগুলোতে ভাড়ায় থাকছেন। তবে আবাসন সংকট কমাতে ছাত্রদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হল ও ছাত্রীদের জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল নির্মিত হচ্ছে। হল দুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে দুই হাজার শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন। যদিও তা মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় খুবই নগণ্য। তবু নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে তারা উপকৃত হবেন। 

এদিকে অনেকে আবাসিক হিসেবে হলে থাকলেও অনেক শিক্ষার্থীকেই গণরুমে থাকতে হয়। কয়েকটি গণরুমে গাদাগাদি করে থাকেন প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী। এর মধ্যে মন্নুজান হলের চারটি গণরুমে দুই শতাধিক, তাপসী রাবেয়া হলের দুটি গণরুমে প্রায় ৩০০ জন, খালেদা জিয়া হলের দুটিতে প্রায় ২০০, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের একটিতে ২১০, বেগম রোকেয়া হলে পাঁচটিতে প্রায় ২৫০ ও রহমতুন্নেছা হলের কয়েকটি গণরুমে প্রায় ২৫০ জন ছাত্রী থাকেন। এদিকে মতিহার হলের একটি গণরুমে ৫০ জন ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলের দুটিতে প্রায় ৪০ জন ছাত্র থাকেন।

জানা যায়, গত ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর সংলগ্ন গেটে শিক্ষার্থী ও বাজার কমিটির সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। সহিংস হয়ে ওঠে দুই পক্ষ। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাণ্ডব চালায় আশপাশের মেসগুলোতে। আতঙ্কে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাইরে বের হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি পীড়াদায়ক ছিল খাবার সংকট। অধিকাংশ মেসে রান্না বন্ধ হয়ে যায়। শুধু এ ঘটনাই না, আগেও এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এখানে। শতভাগ আবাসিকতার ব্যবস্থা থাকলে এসব দুর্ভোগ পোহাতে হতো না বলে দাবি করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ওবায়দুল ইসলাম আরফান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সকালে আমাদের ক্লাস থাকে। মেস থেকে এসে ক্লাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ ছাড়াও মেস ভাড়া, খাবার খরচ এবং পড়াশোনার খরচ সব মিলিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে আমাদের জন্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও মেস ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়, এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এ ছাড়াও মেস বা বাসায় থাকতে হলে মালিকদের নানা রকম নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেগুলো আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। প্রশাসনের উচিত আগে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিকতা আমাদের লক্ষ্য। এই সংকট কাটানোর জন্য দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে কিছু সংকটের কারণে কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এই কাজ যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে, তাই এখানে আমরা চাইলেও কিছু করতে পারছি না। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

হলে সিট থাকার পরও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিট পান না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে হলগুলোতে একটি সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীরাও কিছুটা দায়ী। কারণ তারাও সুযোগ পেলে অসদুপায়ে হলে ওঠেন। ফলে এই সংকট আরও বড় হয়েছে। তবে আমরা ছাত্র সংগঠনের নেতা, সব হলের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি। এক দিনেই এটি সমাধান করা সম্ভব নয় জানি। আরও সময় লাগবে। এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা