বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ০১:১৩ এএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১১:৩৭ এএম
হামলায় আহত শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। প্রবা ফটো
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কোটাবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেট এবং সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজের ঢালের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বরিশাল পত্রিকার প্রতিনিধি আবু উবাইদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। তাকে শেরেবাংলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের রিদম-আরাফাত গ্রুপের কর্মী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিশির আহমেদ সুমন একাধিকবার মোটরসাইকেল নিয়ে আসা-যাওয়া শুরু করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে বাধা দেন। বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামকে শিশির ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
পরে শিশির ছাত্রলীগের অন্যদের ফোন দিলে তারা ছুটে আসেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ সড়ক থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেন এবং আন্দোলনরতদের রাখা বেঞ্চ, কাঠের তক্তা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলেন।
হামলার অভিযুক্ত শিশির আহমেদ সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু উবাইদা জানান, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনাকর সৃষ্টি হলে সেখানে আমি ভিডিও করতে যাই। সাংবাদিক পরিচয় দিলেও আমার ওপর চড়াও হয় এবং আমাকে কয়েকজন মারধর করে। পরে ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দিতে বাধ্য করে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সংবাদকর্মীর ওপর তারা চড়াও হয়।
তিনি জানান, ছাত্রলীগের শান্ত-তমাল-আরাফাত গ্রুপের অনুসারী ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির আহমেদ সুমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিমুলসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী তাকে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মেহরাব হোসেন বলেন, কোটা আন্দোলনের সময় দেখলাম সাংবাদিক ভিডিও করতে গেলে মারধর করে ছাত্রলীগের কয়েকজন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দিতে বাধ্য করে। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
অন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শী শুভ মণ্ডল বলেন, আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সাংবাদিক ভিডিও করতে গেলে হাতাহাতি করতে দেখি। এক পর্যায়ে আন্দোলন ভেঙে যায়।
অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আবদুল কাইউম বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমি শুনেছি। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।