বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৭:৫০ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ১৮:১৩ পিএম
সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বুধবার (৩ জুলাই) সকাল থেকেই তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনের অংশ হিসেবে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। এতে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী মহোদয় ডেকেছেন। আমরা শিক্ষক নেতারা তার সঙ্গে আলোচনায় বসব এবং আমাদের দাবি তুলে ধরব। দাবি মেনে নেওয়া হলে আমরা আন্দোলন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করব, কালকে থেকেই ক্লাসে ফিরে যাব। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন একই কথা। ‘বক্তব্য পরিষ্কার, আমরা তিন দফা দাবি জানিয়েছি। প্রত্যয় স্কিম বাতিল করতে হবে, আলাদা বেতন কাঠামো চালু করতে হবে এবং আমাদের জন্য সুপার গ্রেড চালু করতে হবে। দাবিগুলো যদি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
শিক্ষকদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলে গতকাল অর্থমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা প্রত্যাখ্যান করে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম মাহবুব হাসান বলেন, ‘আমাদের যা দাবি তা স্পষ্ট এবং অত্যন্ত যৌক্তিক। কালকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দাবি অযৌক্তিক। আমরা তা মনে করি না। আমরা তার এই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।’
‘আমরা ২০১৫ সালে একবার আন্দোলন করেছিলাম। তৎকালীন অর্থমন্ত্রীও এ রকম অযৌক্তিক কথা বলেছিলেন। আমরা আমাদের দাবি যে যৌক্তিক সেটা তখন প্রমাণ করেছিলাম। আমরা আবারও আমাদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করব। একই সঙ্গে বলতে চাই, তাদের দাবি, তাদের যে প্রত্যয় স্কিম তারা চালু করেছে এতে যে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে, এটা তাদের গতকালের ব্যাখ্যাতেই স্পষ্ট হয়েছে,’ বলেন তিনি।
এদিকে সকাল ১০টা থেকেই কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা তাদের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবির পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। বক্তব্যে নেতারা অর্থমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করার কথা রয়েছে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ভবনই তালা দেওয়া। যেগুলো খোলা আছে সেগুলোও অনেকটা জনশূন্য। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা উপস্থিত আছেন তারা কেউই কোনো কাজ করছেন না। ফলে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে শিক্ষার্থী ও সুবিধা নিতে আসা সাবেক শিক্ষার্থীদের।