বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৮:০৭ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৮:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন আর ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী করেন আত্মহত্যার চিন্তা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ভাবনা আসার প্রধান কারণ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং সর্বোপরি হতাশা।
সম্প্রতি, বিশ্ববিদ্যালয় দুটির ৩৬০ শিক্ষার্থীর ওপর হতাশা, ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তা ও আত্মহত্যা প্রবণতা বিষয়ে করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক এবং ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।
গবেষণাটি করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এহসানুল হক রিফাত। গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘জার্নাল অব বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এর জুন-২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগছে। হতাশায় ভোগা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা করছে ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা করছে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের জীবনে একবার হলেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এবং এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোভিড চলাকালীন কিংবা কোভিড পরবর্তী সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
গবেষণার ফল বলছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তা ও হতাশায়, ১৩ শতাংশ পারিবারিক, ১১ শতাংশ অর্থনৈতিক, ৮ শতাংশ প্রেম-ঘটিত কারণে, ৭ শতাংশ মানসিক চাপে, ৫ শতাংশ সামাজিক এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে দুই শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চিন্তা করেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ শতাংশ ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তা ও হতাশায়, ১৩ শতাংশ পারিবারিক, ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক, ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রেম-ঘটিত কারণে, ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক চাপে, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সামাজিক এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে আত্মহত্যার চিন্তা করে ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।
গবেষণার তথ্যমতে, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ৪২ শতাংশ, পিতামাতার মাসিক উপার্জন ২০ হাজার টাকার নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা ৬৩ শতাংশ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকা শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা ৮৩ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিবেদনে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টি। হতাশায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের দুশ্চিন্তাকেই হতাশার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে গবেষণা প্রতিবেদনে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে ক্যারিয়ার উপযোগী ব্যবহারিক জ্ঞান এবং দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করা, গরিব ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে আরও বেশি আর্থিক অনুদান এবং বৃত্তি প্রদান করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়াও ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তর পরিসরে গবেষণা পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়।