প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪ ১২:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪ ১৩:৩৪ পিএম
কোনো স্কুলে শিক্ষার্থী কম হলেই সেটাকে পাশের স্কুলের সঙ্গে একীভূত করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা কম, সেগুলোকে পাশের বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে, এ তালিকা কবে নাগাদ হতে পারেÑজানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত, ইনজেনারেল সিদ্ধান্ত। দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় (অববাহিকা এলাকা) এলিমেন্টারি স্কুল হয়। এ এলাকায় যে বাচ্চারা থাকে, তারা এ স্কুলে ভর্তি হয়। আমাদের লক্ষ্যও তেমন। অববাহিকা এলাকায় সব দিক থেকে যদি এমন স্কুল তৈরি করতে পারি, তখন সেখানকার এলাকার শিশুরা ওই স্কুলে ভর্তি হতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি, ১৫০টির মতো স্কুলে শিক্ষার্থীসংখ্যা ১০ থেকে ৫০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, হঠাৎ এসব স্কুল বন্ধ করে দেব না, একীভূত করব না। আমরা প্রবণতা দেখেছি, গেল ১০ কিংবা ২০ বছর ধরে যদি কোনো স্কুলে ১০-২০ জন শিক্ষার্থী থাকে আমরা সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্কুল একীভূত করব না। যেমন রাঙামাটি জেলায় একটি স্কুল আছে, যেটা ১০-২০ শিক্ষার্থী নিয়ে ১৫ বছর ধরে চলছে। কিন্তু আশপাশের ৭-৮ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো স্কুল নেই। যে কারণে ওই স্কুলটি একীভূত করা হবে না।’
‘আবার কোনো কোনো জায়গায় রাস্তার এপারে একটি স্কুল আছে, বিপরীত পাশের ৫০০ গজের মধ্যে আরেকটি স্কুল আছে। এসব স্কুলে ১০-১২ জন ছাত্রছাত্রী আছে। আবার আধ কিলোমিটারের মধ্যে ২০০-এর মতো ছাত্রছাত্রী আছে, এমন স্কুল আমরা একীভূত করে দেব। এমন কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,’ বলেন ফরিদ আহাম্মদ।
নতুন শিক্ষাক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের কারিকুলাম প্রণয়ন ও মূল্যায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করার দায়িত্ব পালন করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কাজেই নতুন শিক্ষাক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়ন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারা বিষয়টি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। তারা চার ও পাঁচ গ্রেডে যে মূল্যায়ন করেন, সেটা নিয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। আমাদের প্রাথমিকের মূল্যায়ন কীভাবে হলে ভালো হয়। পরে পর্যবেক্ষণগুলো এনসিটিবিকে দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যেটা করেছেন, সেটার বেশিরভাগের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করলেও আমাদের কিছু ভিন্নমত আছে, ভিন্নভাবে মূল্যায়নের।’