× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মেয়র আতিক বললেন

খালে কেউ ময়লা ফেলেছে প্রমাণিত হলে দিতে হবে জরিমানা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৪ ১৬:৫৭ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪ ১৭:০২ পিএম

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে কথা বলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। প্রবা ফটো

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে কথা বলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। প্রবা ফটো

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে খালের আশপাশে অনেকগুলো ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কেউ খালে ময়লা ফেলেছে এটা প্রমাণিত হলে তাদের শনাক্ত করে তাদেরকে জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

মঙ্গলবার (২৮ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম নগর সংলাপ- ২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরবান রেজিলিয়েন্স এবং রিসার্চের জন্য আগামী অর্থবছরে পাঁচ কোটি টাকার বাজেট রাখার ঘোষণা দেন।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে টেকসই নগরায়ণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডায়ালগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ এবং ২০টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কনসোর্টিয়াম আরবান আইএনজিও ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

ঢাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাক এর ডিরেক্টর ড. লিয়াকত আলী, কনসার্ন ওয়াল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মানিশ কুমার আগারওয়াল, গ্লোব ওয়ানের কান্ট্রি ডিরেক্টর রায়হান মাহমুদ কাদেরীসহ অনেকে।

মেয়র আতিক বলেন, ঢাকার খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করেছি। এখন সময় এসেছে খালগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার। আমরা নিজের কথা ভেবেই সব খাল মেরে ফেলেছি, আমরা আমাদের কথা ভাবলে সেগুলোকে নষ্ট করতাম না। মানুষ সচেতন না, ময়লা ফেললে জরিমানার ব্যবস্থা করা হলে মানুষের মাঝে কিছুটা সচেতনতা বাড়বে।

তিনি বলেন, হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ রোদ— এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে আগামীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। গ্রীষ্মকালের এ সময়টা ডেঙ্গুরোগ বাড়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আগামী কয়েক মাস এমন রোদ-বৃষ্টি থাকবে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ধরনের আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী। এ সময় সবাইকে বেশি করে সতর্ক থাকতে হবে।’

রাজধানীর খালগুলোতে মশার চাষ করা হয় উল্লেখ করে আতিক বলেন, ‘খালে এমন কোনও ময়লা নেই যা ফেলা হয় না। বিগত কয়েক মাসে রাজধানীর খাল পরিষ্কার করে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে। ফ্রিজ, টিভি, জাজিম, বাথটাব— এমনকি নষ্ট রিকশা পর্যন্ত খালে পাওয়া গেছে। এসব খালে অভিজাতদের বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলে বদ্ধ হয়ে যাওয়া খালে জন্ম নেয় এডিস মশা, যার ফলে দেখা দেয় ডেঙ্গুর। বাসা-বাড়িতে পানি জমা করে রাখা হয় যাতে জন্ম নেয় এডিস মশা।’

দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে ময়লা ফেলে পানি জমিয়ে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির ব্যবস্থা খোদ নগরবাসী করছেন উল্লেখ করে উত্তরের মেয়র বলেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধিতে জেনে বা না জেনে যারা সহযোগিতা করছেন; বিগত সময় থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অথচ জরিমানা করার পরেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত ছয়টি দেশ কার্বন এমিশনের জন্য দায়ী। তাদেরকেই বিশ্বের সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে। তারা যুদ্ধের জন্য যা ব্যয় করছে তার ১০ শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ব্যয় করলেও স্বল্পোন্নত দেশগুলো এত ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তারা ভালো ভালো সবক দেন কিন্তু তারাই আসলে মূল অপরাধী। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বাঁচাতে বড় ফান্ড গঠন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশ ঠিক রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে, সুনাগরিক হতে হবে। আমরা দুই বাড়ির মাঝে বা খালে ময়লা না ফেলব না। পরিবেশ ঠিক রাখতে নিজ বাড়ির পাশে গাছ লাগাব। এতে আমাদের পরিবেশ ঠিক থাকবে। এসময় তিনি খাল দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত রাখার জন্য সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।’

ডিএনসিসির কাজ উল্লেখ করে মেয়র আতিক বলেন, ‘আমরা স্মার্ট সিটি করপোরেশন গড়তে ২৪টি পার্ক উদ্ধার করেছি, ৫৪টি খাল দখলমুক্ত করেছি। আমাদের ট্যাক্স প্রদানে সমস্যা দূর করতে অনলাইনে করেছি। ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনভিত্তিক করেছি। অনলাইনে অভিযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। ‘সবার ঢাকা অ্যাপস’ চালু করেছি যেখানে কেউ সমস্যার ছবি তুলে জানাতে পারবে। ফলে আমাদের লোকেরা সাথেসাথে সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধান করে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছি। এডিস মশা দূর করার জন্য অভিযান চালাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো আগে পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারপর আরবান এলাকা গঠন করে। কিন্তু আমাদের দেশে আগে আরবান এলাকা তৈরি হয় পরবর্তীতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যদিও বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ আরবান এলাকায় বসবাস করে। অপরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে উঠায় সেখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না। যা বড় ঝুঁকির তৈরি করে থাকে। তাছাড়া আমাদের সবুজায়ন কমে গেছে, নদী-খাল-বিলের পরিমাণও কমেছে। ফলে প্রতিনিয়ত শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে। শহরাঞ্চলের বাতাসে মিথেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘মাই ভিলেজ মাই টাউন’ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলও শহরের মত সুযোগ সুবিধা থাকবে। ফলে মানুষ মাইগ্রেট কমিয়ে তার এলাকাতেই থাকতে পছন্দ করবে। তাছাড়া সরকার শহরের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, খাল দখল এবং ডেল্টা প্লানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের আরবান এলাকাগুলো পুনরায় বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা