জীবনানন্দ দাশ
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ চিরায়ত প্রেমের কবিতা হিসেবে বাংলা সাহিত্যে শীর্ষ আসন দখল করে নিয়েছে। রহস্য, সৌন্দর্য্য, উপমা, চিত্রকল্প সব কিছু একাকার হয়ে গেছে এ কবিতায়। চিরকালের হয়ে ওঠা এ কবিতার চরিত্রের অমীমাংসিত রহস্য জারি রেখেই কবিতার বনলতাকে ‘ধানসিড়ি’র জন্য চিত্রায়িত করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর
পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে
মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের
ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে
বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের
সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের
বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর
সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের
ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে
সে, ‘এতোদিন কোথায়
ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা
সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে
ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি
করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ-জীবনের
সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার
বনলতা সেন।