আয়শা ঝর্ণা
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৫৪ পিএম
রোদ পড়ে আসে গ্রিলের ভেতরে
যতটুকু এই
বারান্দায় আলো এসে পড়ে
ততটুকুই আমার,
এই মুহূর্তটা,
বাবা যাপন
করত
তার কাছে অতীতের
মূল্য ছিল কম,
যেমনটা অচল
আধুলি!
নাকি আমিই
এমন ভাবছি কে জানে,
বাবা নিজেকে
আড়াল করতেন,
আমাদের কাছ
থেকে অথবা লুকিয়ে
রেখে দিয়ে
নিজেই তা রোমন্থন করতেন!
খুব কম কথা
বলতেন বাবা, আমি
ঠিক তার উল্টো,
কত কী যে
জানতে চেয়েছিলাম,
সেই ছোটবেলা
ট্রেন ছুটছে
আমিও ছুটছি, বাবা এটা
বলো ওটা বলো,
পরে বলে উঠতেন
থামো তো বকে
না এত!
বাবা সাইকেলে
নিয়ে চড়িয়েছে
পা আটকে রক্ত,
বাবা দে ছুট
ডাক্তারের
কাছে, হোন্ডার পেছনে
শুধু নড়ছি
নামিয়ে বলে যাও হেঁটে।
বাবার অতীত
ছিল দাদিমা, আমার।
সেখানে বাবার
ছিল ছোট্ট
স্বপ্নময় ছোটবেলা,
বাবা খোকা।
দাদিমা এলে
ঢাকায়, বাবার মন
কেমন নরম হয়ে
উঠত, বলত
মা, এবার যাস
না।
দাদিমা যাওয়ার
পর
বাবা চুপ হয়ে
গিয়েছিল, তার ছেলেবেলা
শেষ হয়ে গিয়েছিল,
এত কষ্ট
বাবা একা একাই
সামলেছেন।
আমার বাবার
পৃথিবীটা ছিল
তার একার আমরা
তার আশেপাশে
ঘুরঘুর করে
সেই মায়ের কাছে,
মা আমার বাবাকে
সামলে
আমাদের সামলাতে
সামলাতে নিজে
খেই হারাতেন,
আমার একটা পৃথিবী
হয়ে গিয়েছিল
বাবার মতোই
একা থাকার
পৃথিবী!
বাবার পৃথিবী,
আমার পৃথিবী এক নয়
হয়তো কোথাও
রক্তমাংসে বাবা
বসত করেন আমাদের
মাঝে।
এক আকাশ স্তব্ধতা
নিয়ে জেগে থাকি,
বাবা আসে হয়তো
ফিঙের বেশে পাখি
হয়ে পাখিদের
সাথে, রোদে শীত ভোরে!