ফারুক মাহমুদ
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:৩৮ পিএম
[উৎসর্গ :
রবীন্দ্র-অনুরাগিণী রাণু মুখোপাধ্যায়]
‘রুমাল’ নিয়ে তোমার
ছিল পুরো পৃথিবীর ভয়
হয় হোক বস্ত্রের
সামান্য খণ্ড, তবু থেকে থাকে
স্মৃতির সুতোয়
আঁকা আঙুলের রঙিন চুম্বন
নতুন জলের
মতো স্পর্শচিহ্ন, ঝিরিঝিরি ঘ্রাণ
ব্যবহারে ম্লান
হবে! সেই ভয়ে বুকে তুলে রাখা
নলিনী (আন্না
তড়খড়), চেয়েছিল রুমাল-প্রতীকে
ছুঁয়ে নেবে
অত্যাসন্ন এই-এক কবির হৃদয়
শিহরিত হলে
বটে, তবু, একী! কেঁপে ওঠে মন
রুমালে লুকানো
থাকে বিচ্ছেদের নানা উদগিরণ!
এ-গল্পের ভেতরে
ছিল রোদনের বন-উপবন
সময় আসেনি।
জেদ। পরিণামে পাতা ঝরে যাওয়া
হাতের নাগাল
জুড়ে হেসে থাকা কত কিছু আছে
ইচ্ছে হলো,
‘রুমালের আলো’ দিয়ে তোমাকে
রাঙাই
সম্পর্ক ভাঙার
ভীতি মূলসুদ্ধ দূর হয়ে যাবে
আমার নাছোড়
বায়না। ‘বাবজা’ এনেছেন সিল্কের
কাপড়
তোমাকে যা
পাঠালামÑ সূর্য আঁকা রঙিন রুমাল
এরপর আমাদের
কেটে গেছে কত-কতদিন
‘দুই হৃদয়ের
নদী’— উচ্ছলিত,
চিরপ্রবাহিত
২.
আমার ঘুমের
গন্ধে, নিশিথে, তোমার নাকি ঘুম ভেঙে যায়!
তোমার স্পর্শের
ঘ্রাণ সচিত্র জাগিয়ে রাখি উঁচু-নিচু ঘুমের ভেতর
ছাড়িয়ে নিকট-সীমাÑ
চলে আসি শতগুণ কাছে
সাঁতারের মরুতেষ্টা।
যেনÑঢেউয়ের পশ্চাতে ঢেউ
হোক-না প্রবীণ
বৃক্ষ! তবু, শরীরে জড়িয়ে রাখে
অনুবয়সের লতা,
পাখিদের দাম্পত্যজীবন
শাখাপত্রে
চোখ তোলে অহরহ চুমুর বাতাস
আকাঙ্ক্ষা
নির্মল হলে, দুটি বয়সের মধ্যস্থানে
‘পঁয়তাল্লিশ’ বড় কোনো ব্যবধান
নয়
নতুন বন্দিশ
যদিÑ প্রাণ পায় পুরোনো সেতার
স্তনোদগমের
বয়স। কী-যেন কী ভেবে
‘রবিবাবু’ সম্বোধনে
পাঠালাম সাহসের মুগ্ধশব্দচিঠিÑ
কেন আমি আনন্দের
ক্রমাগত জলে
ডুবে যাই।
ভেসে উঠি। বিষাদের চাপাজ্বরে পুড়ি শৈত্যের দহনছোঁয়া দেহমনে স্থায়ী হতে চায়
‘ভানুদাদা’, অপেক্ষা
কোরো না
যথেষ্ট সময়
ক’রে চৈত্রের
বৃষ্টির মতো একদিন ঠিক এসে যাব
মন এক আশ্চর্য
ভ্রমণ। ইচ্ছেটি বাড়িয় দেখোÑ
প্রেমের অমল
শক্তি উচ্ছলিত আমাদের অশ্রুপুণ্যস্রোতে
৩.
কথার অনেক
পথ হেঁটে
‘ভানুদাদা’ সম্বোধনে
তোমাকে ডাকার সর্বস্বত্ব
শেষাবধি আমিই
পেলাম
নতুন পাতার
মতো হাসির সঙ্গে হাসি মিশিয়ে
বলেছিলে, ‘এই নামে কেউ
কখনো ডাকেনি।
আর, ডাকলে এখন আর জবাব দেব না।’
বাড়ির দেওয়া
আমার নাম
‘প্রীতি অধিকারী’
প্রীতির অধিকারে
ডেকেছ
‘রাণু’ সম্বোধনে
তোমার নামের
স্বত্ব পেয়ে
আমার নামের
স্বত্ব দিয়ে
আমাদের কী-
যে সুখ হলো!
জগৎ-সংসারে
এর তুল্য কিছু নেই