শোয়াইব জিবরান
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪৫ পিএম
পূর্বজন্মে
আমি সামান্য এক ছুতারমিস্ত্রি ছিলাম, মরিয়ম। আমার বাবরি দোলানো চুল আর আয়তাকার চক্ষু
দেখে তুমি প্রেমে পড়েছিলে। আর আমি প্রেমে পড়েছিলাম তোমার কোঁকড়ানো চুলের। তুমি ভালোবাসতে
আমার কাঠ চেরাইয়ের শব্দ, করাত, বাটালি, হাতুড়ি, রঁদা আর যত হাতিয়ার। আমি কাঠের দেহ
ছেনে ছেনে তোমাকে বানাতাম। সে সকল আসবাবের হাতল তোমার হাত, আসনের উঁচু হেলান তোমার
গ্রীবা মনে হতো। আমি রঁদা দিয়ে মসৃণ করতে করতে ছুঁয়ে দেখতাম তোমার হাত, গ্রীবা। তুমি
জল আর যবের ছাতু দিতে এসে অবাক হয়ে দেখতে আমার নিমগ্নতা। তোমাকে দেখছি না বলে তোমার
খুব অভিমান হতো। অথচ আমি তো আসবাব তৈরির ছলে তোমাকেই নির্মাণ করতাম। তোমাতেই নিমগ্ন
ছিলাম। আমাদের মুগ্ধ দৃষ্টি বিনিময়ের দিন ব্রহ্মাণ্ডে রং এলো। জগৎ সৃষ্টি হলো আমাদের
আলিঙ্গনে। আমাদের মিলনের ফলেই তো জন্ম হলো নক্ষত্রপুঞ্জের, আকাশে আকাশে ফুটে উঠল, ঝিকিমিকি
তারারা। এ ব্রহ্মাণ্ডকে আমরা তৈরি করেছিলাম আমাদের প্রেম দিয়ে। আর তোমাকেই তো নির্মাণ
করেছিলাম আসবাব নির্মাণ ছলে। আমাদের মিলনজাত একফোঁটা অমৃত পড়েছিল এ পৃথিবীতে। আর তাতেই
নির্মিত হয়েছিল সমুদ্রসকল। আর কে না জানে জল থেকেই সকল প্রাণের জন্ম। তারা তো সব আমাদেরই
সন্তান। পূর্বজন্মে আমি এক সামান্য ছুতারমিস্ত্রি ছিলাম।