শিবলী মোকতাদির
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৭ পিএম
বজলুল করিম বাহার, ১৬ জানুয়ারি ১৯৪৫। প্রতিকৃতি: জয়ন্ত সরকার
বজলুল করিম বাহার। যিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গদ্যকার, গবেষক, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ। সাহিত্যে জ্বলে ওঠা ষাটের এই সন্তান কখনও উচ্চকিত, কখনও তীব্র, কখনও নিবিড়ভাবে ইন্দ্রিয়ঘন। ১৯৪৫ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া সব্যসাচী এই লেখক আজ ৮২ বছরে পা রাখলেন।
এই দিনকে কেন্দ্র করে লেখকের মুখোমুখি হয়েছিলেন ধানসিড়ির পক্ষ থেকে কবি, প্রাবন্ধিক শিবলী মোকতাদির
শিবলী মোকতাদির : ৮২ বছরে পা দিলেন, কেমন লাগছে?
বজলুল করিম বাহার : প্রতিনিয়ত একধরনের অসহায়তা অনুভব করি। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরিফে মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি তাকে তো জরাগ্রস্ত করে দিই। জরাগ্রস্ত ও অবহেলিত বার্ধক্যপীড়িত করি।’ এতকাল মনের সঙ্গে দেহের যে চলৎশক্তির মেলবন্ধন ছিল, এখন তা আর নেই। মনের সঙ্গে দেহতে আর কোনো মিল ঘটে না। তখন বড়বেশি অসহায়তা, বিপন্নতা দানা বেঁধে ওঠে। মন খারাপ করে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি।
ধানসিড়ি : আপনার শৈশব-কৈশোর কোথায় এবং কেমন কেটেছে?
বজলুল করিম বাহার : আমার চিকিৎসক বাবার তখন পোস্টিং ছিল বৃহত্তর দিনাজপুর তথা ঠাকুরগাঁও জেলার মির্জাপুরে। এখন যেটি পঞ্চগড় জেলার আওতাভুক্ত হয়েছে। মির্জাপুরের স্টাফ কোয়ার্টারে আমার জন্ম। ওখানেই আমার নাড়ি পোঁতা আছে। সেখান থেকে বদলি হয়ে আব্বা যখন পীরগঞ্জে যান, তখন আমি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সেখানে শৈশব ও কৈশোর আমার স্মরণে এখনও ড্রাম বাজায়। বাঘ, হাতি, বুনোমোষ ও অরণ্যের হাতছানি অনুভব করি। আমি হাতির বৃংহিত ডাক, খাঁচায় পোরা বাঘের অনবরত হাঁটাচলা ও গর্জন লক্ষ করি। সে সময় আলোয়া খাঁ ও নেকমর্দন নামক দুটি বড় মেলার স্মৃতি আজও মনে গেঁথে আছে। যে মেলায় আমি ট্রেনে চেপে হাতি ও ঘোড়া দেখতে গিয়েছিলাম। ওই মেলা থেকে এসব ক্রয়-বিক্রয় হতো। যাত্রাপালা, সার্কাস, পুতুলনাচ ও লোকসমাগমের প্রতিধ্বনি আজও কানে বাজে।
এর পরে আব্বা বীরগঞ্জে বদলি হয়ে আসেন। আমার তখন কিছু বন্ধুবান্ধব, যারা সাঁওতাল ও ডোম ছিল। আমি সে সময় বিখ্যাত শালবন পেরিয়ে সাঁওতালদের পাড়ায় যেতাম। মোষের পিঠে চড়া, তীর-ধনুক চালানোসহ ধূমপানের মতো বাজে অভ্যাসের সাথেও জড়িয়ে পড়ি।
মেলা থেকে ভরসন্ধ্যায় ফিরে আসার সময় নানা ধরনের ভেঁপুর আওয়াজ আজও আমার কানে বাজে। এ ছাড়াও ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হওয়াসহ বাড়িতে আসা সে সময়ের সওগাত, মোহাম্মদী, গল্পগুচ্ছ, শুকতারার মতো প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় চোখ বোলাতে বোলাতে কখন যে অভ্যস্ত হয়ে উঠি সাহিত্যের প্রতি, কবিতার প্রতি, ভালোবাসার প্রতি, গল্প শোনার প্রতি। আমার বড় বোন তখন আমাকে প্রতিনিয়ত গল্প শোনাতেন। বাঘ আর ফেউয়ের গল্প, দুস্য মোহনের গল্প। হাসপাতালের কাচের জানালা দিয়ে বাবার চিকিৎসা ও শুশ্রূষাও দেখতাম। আর এভাবেই কখন যে মনের ভেতর কবিতা বা তেমন কিছু লিখে ফেলার আশকারা পাই। মনে হয়, এভাবেই কবিতা বা গদ্য রচনার প্রতি অজ্ঞাতসারেই মোহগ্রস্ত হয়ে উঠি। ট্রেনে চড়ে কয়েক স্টেশন পার হয়ে ফের ফিরে আসার সেই শৈশবের অ্যাডভেঞ্চার আজও আমার স্মৃতিতে করতালি বাজায়।
এরপর বগুড়ায় করোনেশন স্কুল, আজিজুল হক কলেজ এবং পরবর্তীতে পলিটেকনিকে অধ্যয়নের সুযোগে লেখালেখি আর পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে ওঠে। বগুড়ায় উডবার্ণ পাবলিক লাইব্রেরি আমার লেখার জগতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। এই গ্রন্থাগার থেকেই কবিতা পড়া ও গল্প উপন্যাস পাঠ থেকেই একধরনের কলাকৈবল্যবাদী অভ্যাসের সাথে পরিচিত হয়ে উঠি। এভাবেই ত্রিশের কবিকুল ও শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বলতে পারো এভাবেই আমার কিঞ্চিৎ লেখাপড়া ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মায়।
ধানসিড়ি : প্রথম প্রকাশিত লেখা কী এবং কোথায় প্রকাশিত হয়?
বজলুল করিম বাহার : প্রথমত দেয়াল পত্রিকা ও পরে দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতায় কবিতা ছাপা হয়। ষাটের দশকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিনে ‘শকুন’ নামক একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। পাকিস্তান লেখক ট্রাস্টে সে সময় এই ম্যাগাজিনগুলো যেত। গদ্যে রবিরঞ্জন ভট্টাচার্য ও আমার সেই কবিতাটি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়। সে সময় ওই কবিতার জন্য কুড়ি টাকা সম্মানি পেয়েছিলাম।
ধানসিড়ি : আপনার লেখক জীবনের পটভূমি তৈরিতে মির্জাপুর গ্রামের কোনো ভূমিকা আছে কি?
বজলুল করিম বাহার : বিরাট বিরাট আমবাগান, নদীর তীরবর্তী টকমিষ্টি বরইয়ের গাছ, মেলা, ট্রেনের শব্দ, বড় বোনের গল্পবলা ভুবন আমার মনে আজও দিগন্তের মতো উঁকি দেয়।
ধানসিড়ি : সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কাজ করলেও আপনি মূলত কবিতার মানুষ। আপনার কাছ থেকে কবিতার কথা জানতে চাই।
বজলুল করিম বাহার : এ-প্রসঙ্গে কবি জীবনানন্দ দাশের ভারী মনোজ্ঞ উক্তিটি হলো, ‘একটা খোলা হাওয়ার আশ্বাস, নিজের কাছে পৌঁছতে পারার আশ্বাস নিয়ে জীবনের অন্ধতা, ক্ষুদ্রতা নিয়ে বিষাদ, কবিতা হচ্ছে তা থেকে মুক্তির উপায়।’ বাংলা কবিতার রয়েছে সুদীর্ঘকালের অবিমিশ্র ঐতিহ্য। আদিম যুগ থেকে আধুনিক যুগকে কেন্দ্র করে কবিতা মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে থাকে। কবিতা একমাত্রিক তার কোনো অস্তিত্ব নেই, কবিতা বহুমাত্রিক। কবিতা সূচিত হয়েছিল মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সংগতি রেখে। এমন কোনো ধর্মশ্লোক নেই, যা কবিতা নয়। মন্ত্র, শ্লোক, সূরা সবকিছুর সঙ্গে রয়েছে কবিতার ছন্দোবদ্ধ আকৃতি। মানবিক বোধের এক সামগ্রিকতা কবিতার সাথে জড়িয়ে আছে।
হাংরি জেনারেশন, বিট, স্যাড, না, কালবেলা, স্বাক্ষর, কণ্ঠস্বর আশ্রিত কবিতা আমার চেতনায় ছন্দোবদ্ধ ধ্বনির জন্ম দেয়। কবিতা এমন এক অবলম্বন যা আমাদের শানিত করে, পীড়িত করে, বিষণ্ন করে ও নিজের আত্মাহুতির হাতছানি জাগিয়ে তোলে। সর্বশ্রেষ্ঠ শব্দ ও বাক্যের মেলবন্ধনই হলো কবিতা।
ধানসিড়ি : দীর্ঘদিন আপনি অসুস্থতার ভেতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন, এমন পরিস্থিতিতে আপনার বর্তমান লেখালেখি নিয়ে যদি কিছু বলেন।
বজলুল করিম বাহার : সুদীর্ঘ সময় নানাবিধ রোগ আমাকে জ্বরাগ্রস্ত করে তুলেছে। এই অসুস্থতা নিয়ে বিশ্বচলচ্চিত্রের তারকোভোস্কি, গদার, প্যাসোলিনি, আমাদের দেশের নতুন নির্মিত ওটিটি সিনেমা নিয়ে কিছু লেখালেখি করেছি। কিন্তু বেশিক্ষণ মনোযোগ অক্ষুণ্ন থাকে না। পঠন-পাঠন, লেখালিখি কোনো কিছুতেই মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না আগের মতো।
ধানসিড়ি : আপনার শুরুটা তো কবিতা দিয়ে, কবিতায় যা বলা না তা গল্পে বলা যায়, এ রকম উপলব্ধি থেকেই কি গল্প বা গদ্য লিখতে শুরু করলেন?
বজলুল করিম বাহার : সাহিত্য ও সমালোচনামূলক বেশকিছু প্রবন্ধ লিখেছি, গল্প তেমন লেখা হয়ে ওঠেনি। কিছু প্যারাবলস, প্রায়োপন্যাস লিখেছি। বিদেশি সাহিত্য পড়তে গিয়ে হেমিংওয়ে, কাফকা, মিলান কুন্দেরা, চিনুয়া আচেবে, নুরুদ্দীন ফারাহ, বোর্হেস, মার্কেজÑ বিশেষত লাতিন মার্কিনি লেখকদের গদ্য আমাকে গদ্য লেখায় অনুপ্রাণিত করেছে। অনুবাদ করেছি। কিছু মৌলিক নাটক রচনা করেছি। যেগুলো বিভিন্ন নাট্যদল বগুড়ায় মঞ্চস্থ করেছে। তবুও চিন্তা-চেতনার মর্মদর্শী উপলব্ধি কবিতার ভেতরে এসে মুক্তি পায়।
ধানসিড়ি : ভবিষ্যতের কবিতা কেমন হতে পারে বলে মনে করেন?
বজলুল করিম বাহার : কবিতা হয়ে উঠেছে আঙ্গিক নিরীক্ষার বিষয়বস্তু। জীবন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কবিতা হয়ে উঠেছে দুর্বোধ্যের শিকার। অনুভূতি, বোধ, উপলব্ধি প্রভৃতির উত্তর খুঁজতে গিয়ে কবিতাকে আমরা দুর্জ্ঞেয় করে তুলেছি। কবিতার সংগ্রাম যে ভাষারও লড়াই, সেটা ভুলতে বসেছি। তথাপি এর মাঝেও দার্শনিক শক্তির অধিকারী হয়ে ভালো কবিতাও রচিত হচ্ছে। তবে কবিতা ক্রমেই সূক্ষ্ম, গৌণ ও কূটাভাস রচনার আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। ভবিষ্যতে কবিতা এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে পারবে। চিন্তার দর্শনমনীষা কবিতায় আদৃত হবে।
ধানসিড়ি : প্রিয় কবি, গদ্যকার কে? খুব বিশেষ কেউ কি আছেন যার প্রভাব আপনার লেখায় পড়েছে।
বজলুল করিম বাহার : প্রিয় কবি বা গদ্যকার ক্রমেই বদলেছে নিজের উপলব্ধির সাথে সাথে। এককালে শামসুর রাহমান ও সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন কাব্যরুচির পটভূমিতে। কিন্তু সময়ের অদৃশ্য পীড়নপথে বদলেছে এই স্মরণিকা। আল মাহমুদ, শহীদ কাদরীর পর বিনয় মজুমদার, উৎপল কুমার বসু, রণজিৎ দাশ বা মাসুদ খান স্থান দখল করেছে। গল্প, উপন্যাস বা গদ্য রচনায় হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শহীদুল জহির, মামুন হুসাইন উল্লেখযোগ্য। এরপর ক্রমেই বদলাচ্ছে এই ভালো লাগা বা ভালোর উদঘাটন। যে কিঞ্চিৎ লেখালেখি আমার ক্রিয়ার মাঝে যায়মান ছিল, তাতে তেমন কাউকে দেখছি না সাহিত্যভাবনার ভেতর। প্রভাবিত করার মতো লেখক বহুকালব্যাপী অধরা রয়ে গেছে।
ধানসিড়ি: বর্তমানের লেখা পড়ে মনে হয়, একই জিনিস লিখছেন সবাই ঘুরেফিরে, বিশেষ করে কবিতা। এ-সম্পর্কে কিছু বলুন।
বজলুল করিম বাহার : বেশিরভাগ যারা সাহিত্যের সাথে লিপ্ত রয়েছেন, তাদের জ্ঞানের ভান্ডারে টান পড়ায় এ রকম মনে হচ্ছে। আগামীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত চ্যাটজিপিটিরা চ্যাট-ঝড়ের উপস্থিতি এই প্রতিযোগিতাকে রহস্যময় করে তুলবে। তবে কবির অন্তর্গত মননের অন্তিম জিজ্ঞাসা ভালো কবিকে উদ্বুদ্ধ যে করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ধানসিড়ি: এই প্রজন্ম গল্প-উপন্যাস তেমন একটা লিখছেন না বা পড়ছেন না, সবাই কবিতার দিকে ঝুঁকছেন। আপনার উপলব্ধি কী?
বজলুল করিম বাহার: ভালো কবিতা নয়, কবির সংখ্যা ক্রমেই যে বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষত ছাপা ও মুদ্রণের সহায়তা দুর্বল কবিকে প্রলুব্ধ করছে। ছাপার অক্ষরে নাম দেখার মোহে এ রকম ঘটছে। গল্প, উপন্যাস বা অন্য কোনো গদ্য লিখতে গেলে যে অনুশীলন বা চর্চা প্রয়োজন, জ্ঞানের সেই তরফটিতে বড় বেশি আকাল চলছে।
ধানসিড়ি: কবির সামাজিক স্বীকৃতি কি দরকার বলে মনে করেন?
বজলুল করিম বাহার: সামাজিক স্বীকৃতি যখন সবার ভাগ্যেই জুটছে, তখন কবি বা সাহিত্যিকই বা বাদ যাবে কেন? তবে ঘটা করে সৃজনশীল কোনো বিষয়কে এসবের সঙ্গে না জড়ানোই ভালো।
ধানসিড়ি: অনুবাদ করতে গিয়ে বিদেশি সাহিত্যের সংস্পর্শে আসতে হয়েছে আপনাকে। প্রিয় গ্রন্থের তালিকা করতে বললে কোনগুলো বাছবেন? সেই পছন্দ কি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে?
বজলুল করিম বাহার: বিশ্বসাহিত্যের সংস্পর্শে এসে সাহিত্যের প্রকৃতি বা মান বুঝতে শিখেছি, এজন্য আমার ভালো লাগে। ইংরেজিতে অনূদিত বিদেশি সাহিত্য পড়তে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই পছন্দের তালিকা বদলেছে। কবিতায় যেমন ডিলান টমাস, বিট জেনারেশনের কবিতাকে ভালো লাগত, এখন তার উপস্থিতি দেখছি না, গদ্যেও অনুরূপ ধারণা হয়েছে। বিশেষত লাতিন আমেরিকার হুয়ান রুলফো থেকে আরম্ভ করে মার্কেজের বহু লেখা পড়েছি। তবে বোর্হেস আমার প্রিয় লেখক তালিকার অন্যতম।
ধানসিড়ি: কবিতা আর গদ্য উভয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এদের বিভেদ রেখাটি আপনার কাছে কীভাবে ধরা পড়ে?
বজলুল করিম বাহার: কবিতা বড় বেশি হৃদয়স্পর্শী। এই বয়সে কবিতা পড়তে বা লিখতে গেলে মন বিষাদে ভরে ওঠে। ট্রমাটাইজড হই। কিন্তু গদ্যে সে বিষয়টি নেই। নির্মিত হিসেবেও কবিতা অনেক বেশি আঁটসাঁট। তবে গদ্যে থাকা যৌক্তিক কাঠামো। কবিতায় যুক্তির উপলব্ধি অনেক কম। গদ্যের চেয়ে ভালো কবিতা আজও উৎসাহ জোগায়।
ধানসিড়ি: লেখালেখির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন আপনি?
বজলুল করিম বাহার: সোশ্যাল মিডিয়া এখন জনপ্রিয় মাধ্যম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগের ধাপগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়া সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফেসবুকে প্রকাশিত রচনা সকলে দেখে ও মতামত দেয়। তবে প্রকৃত লেখক সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে নিজেকে জাহির করাতে কখনো পছন্দ করে বলে মনে হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা কি লেখকের জন্য আদৌ প্রয়োজন হয়। দ্রুত লেখালেখির বিষয়টি পাঠককে জানাতে সোশ্যাল মিডিয়া ভালো কাজ করতে পারে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মতামত যাচাই করতে এর জুড়ি নেই। কাজেই সেদিক থেকে এর ভূমিকা কেউ যদি গ্রহণ করে, তাতে দোষের কিছু দেখি না।
ধানসিড়ি: দীর্ঘ শিল্পজীবন পার করে এসে কোনো বিশেষ শিল্পের কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে?
বজলুল করিম বাহার: বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় এত বেশি বিষণ্ন থাকতে হয়, যখন শিল্পজীবনের হাতছানি আর কোনো বোধায়ন ঘটায় না। যন্ত্রণা শিল্পীসত্তাকে দূর থেকে ডাকে। যে ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো মনোযোগ এখন আর তেমন হয় না।