লাবণী মণ্ডল
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০৯ পিএম
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬। আর কয়দিন পর মহাকালের গর্ভ থেকে বিদায় নেবে ২০২৫। এ সালটি বাংলাদেশের সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে শোকের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশার ভেলায় চড়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কিন্তু পেছনে ফিরে তাকালে এক বিশাল শূন্যতা। এই বছর আমরা হারিয়েছি অনেক মহীরুহকেÑযারা কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন একেকটি প্রতিষ্ঠান।
আহমদ রফিক (১৯২৯-২০২৫)
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আহমদ রফিক ২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে জন্মগ্রহণকারী আহমদ রফিক পেশায় চিকিৎসক (এমবিবিএস, ১৯৫৮) হলেও তারা ধমনীতে ছিল সাহিত্যের অনুরাগ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং আন্দোলনের স্মৃতি ও ইতিহাস রক্ষায় আজীবন কাজ করে গেছেন।
আহমদ রফিক কেবল একজন ভাষাসংগ্রামী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রবীন্দ্র-গবেষক। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবন নিয়ে তারা গবেষণা দুই বাংলায় সমাদৃত। তারা পাণ্ডিত্য ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতার ‘টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ ২০১১ সালে তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।
তারা সাহিত্যকর্মের পরিধি বিশাল। প্রবন্ধ সংকলন ‘অনেক রঙের আকাশ’ (১৯৬৬) এবং কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বাসিত নায়ক’ (১৯৯৬) তারা বহুমাত্রিক প্রতিভার স্বাক্ষর। তিনি জীবনানন্দ দাশ এবং কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে তারা লেখালেখি ছিল অনবদ্য।
বদরুদ্দীন উমর (১৯৩১-২০২৫)
বাংলাদেশের মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমরের প্রস্থান ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর বর্ধমানে জন্মগ্রহণকারী এই চিন্তাবিদ আজীবন শোষিত মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন। ঢাকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি (PPE) বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি। এ ছাড়াও ষাটের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বদরুদ্দীন উমরের বৈপ্লবিক অবদান হলো ‘পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ (তিন খণ্ড) গ্রন্থ রচনা। এটি ইতিহাসের দলিল নয়, বরং বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের আকর গ্রন্থ। তিনি ভাষা আন্দোলনের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও শ্রেণিসংগ্রামের উপাদানগুলোকে উন্মোচিত করেছেন এবং দেখিয়েছেন কীভাবে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্তশ্রেণি নিজেদের আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তিনি যে বিশাল গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন, তা তাকে অমর করে রেখেছে।
তিনি আজীবন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার এবং এর আগে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তারা সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকা প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে ‘যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ’, ‘ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ এবং ‘বাঙলাদেশে মার্কসবাদ’ এবং Emergence of Bangladesh: Class Struggles in East Pakistan (১৯৪৭-১৯৫৮) অন্যতম।
এ কে খন্দকার বীরউত্তম (১৯৩০- ২০২৫)
বিজয়ের মাসের ২০ তারিখে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী এ কে খন্দকার বীরউত্তম। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই বীর সেনানী। তিনি মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন। তার লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ।
সন্জীদা খাতুন (১৯৩৩-২০২৫)
বাঙালির সাংস্কৃতিক বাতিঘর সন্জীদা খাতুন ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে ৯১ বছর বয়সে প্রয়াত হন। ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী সনজীদা খাতুন ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেনের কন্যা। ষাটের দশকে আইয়ুবী স্বৈরশাসনের সময় রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে মিলে ‘ছায়ানট’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের দুর্গ।
১৯৭১ সালে তিনি রংপুরের পথ ধরে ভারতে প্রবেশ করেন এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’ গড়ে তোলেন। আগরতলা ও কলকাতায় ট্রাকে ঘুরে গানের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করতেন। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ বা ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানগুলো তারা কণ্ঠে হয়ে উঠেছিল রণাঙ্গনের বারুদ। বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর করা সনজীদা খাতুন ছিলেন একজন উচ্চমানের লেখক ও গবেষক। ‘সাংস্কৃতিক মুক্তি সংগ্রাম’, ‘আমার রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘ধ্বনি থেকে কবিতা’ তারা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ভারত সরকার তাকে ২০২১ সালে ‘পদ্মশ্রী’ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ (২০২০) প্রদান করে।
যতীন সরকার (১৯৩৬-২০২৫)
নেত্রকোণার নিভৃত পল্লীতে বসে বিশ্বচিন্তা করা ঋষি যতীন সরকার ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন। ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোণার চন্দপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী এই চিন্তাবিদ ছিলেন যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক। তিনি ‘নাসিক্যতত্ত্ব’ এবং বাউল দর্শন নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন।
তারা প্রকাশিত ৩৫টি বইয়ের মধ্যে ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’, ‘পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু-দর্শন’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’, ‘প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন’ উল্লেখযোগ্য। পেশাগত জীবনে সাহিত্যের কীর্তিমান অধ্যাপক। সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতি-ইতিহাস-দর্শন-রাজনীতির পরিসরে তারা লেখার উপস্থিতি বলিষ্ঠ। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত মুক্তি কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতায় নয়, বরং চিন্তার মুক্তিতেই নিহিত।
ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান (১৯৪৬Ñ২০২৫)
বাংলাদেশের ভাস্কর্যের কবি হিসেবে পরিচিতি হামিদুজ্জামান খান। ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান এই গুণী শিল্পী। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৬ মার্চ কিশোরগঞ্জের সহশ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে চারুকলায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ‘জাগ্রত বাংলা’, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংশপ্তক’ এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ‘বিজয় কেতন’, বঙ্গভবনের ‘পাখি পরিবার’সহ অসংখ্য ভাস্কর্য রয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও শোভা পাচ্ছে প্রখ্যাত এই শিল্পীর কাজ। জীবদ্দশায় তার একক প্রদর্শনী হয়েছে ৪৭টি। ২০০৬ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য লাভ করেন একুশে পদক। ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি ফেলো নির্বাচিত হন।
দাউদ হায়দার (১৯৫২-২০২৫)
বাংলাদেশের কবিতার ট্র্যাজিক নায়ক দাউদ হায়দার ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জার্মানির বার্লিনে নির্বাসিত অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনার দোহারে জন্মগ্রহণকারী এই কবির জীবন ছিল সংগ্রামের। ১৯৭৪ সালে ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ কবিতাটি লেখার পর মৌলবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত লেখক।
প্রথমে কলকাতায় এবং পরবর্তীতে জার্মানির বার্লিনে তিনি স্থায়ী হন। তারা কবিতায় বারবার উঠে এসেছে স্বদেশ, স্মৃতি এবং হারানো দিনের হাহাকার। তিনি নিজেকে ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তারা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’, ‘সম্পান ও সেতার’ এবং ‘আমি ভালো আছি তুমি?’। তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রকিব হাসান (১৯৫০-২০২৫)
কিশোরদের স্বপ্নদ্রষ্টা রকিব হাসান ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী রকিব হাসান ‘সেবা প্রকাশনী’র মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তারা সৃষ্টি ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজ কিশোর-কিশোরীদের বই পড়ার অভ্যাস গঠনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। কিশোর পাশা, মুসা আমান ও রবিন মিলফোর্ড চরিত্রগুলো ৮০ ও ৯০-এর দশকের কিশোরদের কল্পরাজ্য শাসন করেছে।
রকিব হাসান কেবল ‘তিন গোয়েন্দা’র স্রষ্টা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিপুণ অনুবাদক। বিশ্বসাহিত্যের কালজয়ী ক্লাসিকগুলো তারা সাবলীল অনুবাদে বাংলা পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। তিনি ‘শামসুদ্দীন নওয়াব’ ছদ্মনামেও প্রচুর বই অনুবাদ করেছেন। ১৬০টিরও বেশি তিন গোয়েন্দা বই এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০-এর অধিক বইয়ের লেখক তিনি। কিডনি জটিলতায় তারা প্রস্থান ঘটলেও তিনি লক্ষ লক্ষ পাঠক সৃষ্টি করে গেছেন।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (১৯৫১-২০২৫)
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৭৪ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণকারী মনজুরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা এই লেখক বাংলা সাহিত্যে উত্তর-আধুনিকতার ((Post-modernism) অন্যতম প্রবক্তা।
তিনি একাধারে গল্পকার ও শিল্প-সমালোচক ছিলেন। তারা গল্পগ্রন্থ ‘প্রেম ও প্রার্থনার গল্প’ ২০০৫ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার পায়। তারা লেখায় জাদুবাস্তবতা এবং পরাবাস্তবতা এক অনন্য রূপ পেয়েছে। ‘নন্দনতত্ত্ব’ (১৯৮৫) এবং ‘কাচ ভাঙা রাতের গল্প’ (১৯৯৮) তারা উল্লেখযোগ্য কাজ। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্যের সেতুবন্ধন রচয়িতা এই লেখকের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।
ফয়জুল ইসলাম (১৯৬৩-২০২৫)
কথাসাহিত্যিক ফয়জুল ইসলাম ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৬১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৬৩ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ফয়জুল ইসলাম অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন। পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন। তার গল্প ও উপন্যাসে মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপড়েন ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিপুণভাবে ফুটে উঠত। তারা ‘খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক’ বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই (কথাসাহিত্য) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এ ছাড়া ‘নক্ষত্রের ঘোড়া’ তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
প্রফুল্ল রায় (১৯৩৪-২০২৫)
আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করি কথাশিল্পী প্রফুল্ল রায়কে। ১৯৩৪ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণকারী এই লেখকের সাহিত্যে দেশভাগ ও ছিন্নমূল মানুষের হাহাকার গভীর মমতায় ফুটে উঠেছে। তারা ‘কেয়াপাতার নৌকো’ উপন্যাসটি দুই বাংলার পাঠকের কাছেই সমান সমাদৃত। ২০২৫ সালে তারা প্রস্থান সাহিত্যজগতে এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
২০২৫ সাল আমাদের কাঁদিয়েছে, রিক্ত করেছে। আহমদ রফিক, বদরুদ্দীন উমর, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, যতীন সরকার, দাউদ হায়দার, রকিব হাসান, ফয়জুল ইসলাম এবং প্রফুল্ল রায়ের মতো নক্ষত্রদের হারিয়েছি কিন্তু এই বছরটি আমাদের ঋদ্ধ করেছে তাদের স্মৃতির মাধ্যমে। তাদের মৃত্যু জৈবিক সত্য, কিন্তু তাদের আদর্শ মৃত্যুহীন।
নতুন বছর ২০২৬ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন আমাদের শপথ হোকÑ আমরা আমাদের এই পূর্বসূরিদের দেখানো পথে হাঁটব। বিদায় ২০২৫।