বিদেশি সাহিত্য
পল্লব শাহরিয়ার
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৫২ পিএম
দ্য লাস্ট ডেথ অব দ্য ইয়ার
২৮ অক্টোবর প্রকাশ পেয়েছে সোফি হানাহর নতুন বই ‘দ্য লাস্ট ডেথ অব দ্য ইয়ার।’ এই উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে হার্পারকলিন্স। তার লেখকজীবন, শৈশবের পড়াশোনা, কোন বইগুলো তাকে বদলে দিয়েছে আর কোনগুলোতে তিনি বারবার ফিরে যান এসব নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায়।
ভাষান্তর : পল্লব
শাহরিয়ার
প্রথম পাঠের
স্মৃতি
আমি তখন ছয় বছরের
ছোট বাচ্চা, ম্যানচেস্টারের আমাদের প্রথম বাড়ির বসার ঘরে। সালটা ছিল ১৯৭৭, আমি ধূসর
কার্পেটের ওপর পদ্মাসনে বসে পড়ছিলাম এনিড ব্লাইটনের দারুণ সিক্রেট সেভেন সিরিজের একটি
বই। কোন বইটা ছিল ঠিক মনে নেই, তবে সেটাতেই ছিল আমার কাছে ভীষণ চমকে দেওয়া সেই মোড়
: ‘এমা লেন’ নামটা আসলে একজন মানুষের নাম নয়, বরং একটি রাস্তাকে বোঝায়! ছয় বছরের মাথায়
সেটা সত্যিই এক ‘মাইন্ড-ব্লোইং’ আবিষ্কার ছিল।
বেড়ে ওঠার
প্রিয় বই
১২ বছর বয়স পর্যন্ত
ব্লাইটনের সিক্রেট সেভেন আর ফাইভ ফাইন্ড-আউটারস সিরিজই ছিল আমার সব। আর ১২ পেরোতেই
আগাথা ক্রিস্টি। তখন মনে হতো, সেরা রহস্যকাহিনীকে টেক্কা দিতে পারে এমন গল্প আর কিছুই
নেই।
কিশোর বয়সে
যে বই আমাকে বদলে দিয়েছিল
১৫ বছর বয়সে বাবা
বেশ জোর করেই বললেন, শুধু রহস্যকাহিনী নয়, আরও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বইও পড়া উচিত। ডিডসবারি
লাইব্রেরিতে আমি পেলাম অভিনেত্রী ফ্রান্সেস ফার্মারের আত্মজীবনী Will There Really
Be a Morning?। তাকে জোর করে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো ও বহু বছর ধরে সেখানে আটকে রাখার
ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বইটি ছিল হৃদয়বিদারক। কিন্তু তার বেঁচে থাকার লড়াই এবং নিজের
ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলোকে বোঝার চেষ্টাÑ এটা ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ও তা ভোলার মতো
নয়।
যে লেখক দৃষ্টিভঙ্গি
বদলে দিয়েছেন
লাইফ কোচ ও সেলফ-হেল্প
লেখক ব্রুক ক্যাস্টিলোÑ Self Coaching 101 এবং It Was Always Meant to Happen That
Way-এর লেখক। তিনি আমাকে বুঝতে শিখিয়েছেন যে ‘ঘটনা’ আর ‘ঘটনা সম্পর্কে আমার ভাবনা’Ñ
এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। এবং আমরা চাইলে যেকোনো পরিস্থিতির ব্যাপারে এমন গল্প
তৈরি করতে পারি, যা আমরা বিশ্বাসযোগ্য মনে করি।
যে বই আমাকে
লেখক হতে উদ্বুদ্ধ করেছে
আমি আজও পরিষ্কার
মনে করতে পারিÑ হেলেন ভ্যান স্লাইকের Sisters and Strangers। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা
নয় যে আমার লেখা প্রথম উপন্যাসের (যেটি thankfully কখনও প্রকাশ হয়নি) নাম ছিল
Lovers and Losers।
যে বইতে বারবার
ফিরে এসেছি
এমিলি ব্রন্টির
Wuthering Heights। প্রথম তিনবার পড়তে গিয়ে হতাশ হয়ে ছেড়ে দিয়েছিলামÑ খুব কঠিন লাগত।
কিন্তু পরে আবার পড়তে গিয়ে প্রেমে পড়ে গেছি। এখন এটা আমার সর্বকালের সেরা পাঁচটি উপন্যাসের
একটি।
যে বইগুলো
বারবার পড়ি
দুটি বইÑ আইরিশ
মার্ডকের The Black Prince আর হাওয়ার্ড জ্যাকবসনের Coming from Behind; যেগুলো আমি
নিয়মিতই আবার পড়ি। দুটোই নিখুঁত সাহিত্যকর্ম। জ্যাকবসনের বইটি আমার পড়া সবচেয়ে মজার
বইÑ হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি বের হয়। আর মার্ডক লিখেছেন এক বিস্ময়কর প্রেমকাহিনীর
ভেতর লুকোনো এক গোয়েন্দা গল্প। সৃজনশীল উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও লেখালেখির প্রতিযোগিতা নিয়ে
এমন নির্ভুল বিশ্লেষণ আর কোথাও পড়িনি।
যে বইটি আমি
আর কখনও পড়ব না
জন আরভিংয়ের
A Prayer for Owen Meany। অসাধারণ এক বই, কিন্তু কোনো অদ্ভুত কারণে এটি আমাকে দ্বিতীয়বার
পড়ার ইচ্ছাশক্তি পুরোই কেড়ে নিয়েছে। এমনকি আরভিংয়ের অন্য কোনো বই পড়ার কথাও ভাবতে
পারি না।
যে বইটি জীবনের
পরে আবিষ্কার করেছি
আগাথা ক্রিস্টির
ম্যারি ওয়েস্টম্যাকট নামে লেখা উপন্যাস The Rose and the Yew Tree তার ‘আগাথা নামে
লেখা’ উপন্যাসগুলোর মতোই টানটান উত্তেজনায় ভরা।
যে বইটি এখন
পড়ছি
হ্যারিয়েট টাইসের
আসন্ন বই Witch Trial এক সাহসী ও অনিশ্চিত দিকের এগিয়ে চলা খুনের রহস্য। টানটান উত্তেজনা
আর শীতল শিহরন, সেরা রহস্যগল্পের পরশ।
পাঠ স্বস্তি
হাল এলরডের
The Miracle Morning। আমার বাস্তব সকালটা হয় ফোন হাতে নিয়ে টু-ডু লিস্ট দেখে কয়েকবার
গালি দেওয়া…। কিন্তু মনে মনে স্বপ্ন দেখি এমন এক সকালের, যখন ধ্যান করব, ইচ্ছে স্থির
করব, অ্যাফার্মেশন বলব। এলরডের মতো লেখকদের বই আমাকে সেই স্বপ্ন দেখায়।