× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাহিত্য কি রাজনীতির সৎবোন?

হামিম কামাল

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পিএম

সাহিত্য কি রাজনীতির সৎবোন?

আমরা যখন কাল অতিক্রম করি, তখন সেই অতিক্রমের গতি আমাদের কিছু মেদ ঝরিয়ে দেয়, কিছু ক্ষয়সাধন করে, কিছু বালিধুলো লাগে, জলতেষ্টা পায় এবং কিছু অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়। অভিজ্ঞতা মানুষকে দিক পরিবর্তনে, বাঁক বদলে উৎসাহিত করে। সেই বদল তার কাছে কল্যাণকর, অর্থপূর্ণ হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। অভিজ্ঞতা মানুষের আরাধ্য। অভিজ্ঞতা আবার একটি কল্যাণ থেকে কখনও দূরেও সরিয়ে দেয়। সেই কল্যাণ নতুনের আবিষ্কারের কল্যাণ। অভিজ্ঞতা কখনও বাঁধা গথ তৈরি করতে চায়। ভুল করার স্বাধীনতাকে অসম্মান করতে শেখায়। এটা ঠিক যে আবিষ্কার মাত্রই কল্যাণী না। তবে সৃজনের ফলে গ্রহণ-বর্জন ঘটে, সেটা কল্যাণী, কারণ সেটাই অগ্রসরমানতা, প্রগতি। মানুষের সৌভাগ্য যে অভিজ্ঞও কখনও কখনও ভুল করে। ভুল না করলে নতুনের আগমন কীভাবে ঘটবে? হ্যাঁ, কিছু নতুন আছে ভ্রমাত্মক। তবে সব ভ্রম রুখতে গিয়ে অজান্তে কখন সত্যের মুখের ওপরও হয়তো আমরা দরজা বন্ধ করে দেবো (‘দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি / সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি।’ রবীন্দ্রনাথ আমাদের জন্য বোধের হীরক খণ্ড ভাষায় ধরে দিয়ে গেছেন।)। সেটা কি উচিত হবে? তাই কিছু ক্ষেত্র আছে, বেশ বড়সড় ক্ষেত্র সেসব, সেখানে অনভিজ্ঞকে ডাকি। সাহিত্য তেমন একটি ক্ষেত্র।

পথ অতিক্রম করতে করতে সবার কি মেদ ঝরে? যারা নিজ শক্তি খাটিয়ে পথ অতিক্রম করে তাদেরই কেবল ঝরে, সবার নয়। নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়া, নতুন জীবনী তৈরি হওয়া, বাঁকবদল, নতুন কোনো পথের গল্পকে পাওয়াÑ এই ব্যাপারগুলো তাদেরই প্রাপ্য, যারা ভুল করতে প্রস্তুত এবং নিজ শক্তিতে পথ কেটে তবেই কাল অতিক্রম করছেন। এমন মানুষেকেই বলি তরুণ (তারুণ্য বয়সের শর্তে আবদ্ধ নয়, তবে বয়স একটি বিষয়)। ওই যে টুকরো টুকরো গ্রহণ-বর্জন চলছে সেটা তারুণ্যের হাতেই। তার হাতে যখন সৃজন অবিরত তখনই ‘নতুন’ তার চলতিপথ অর্থাৎ বর্তমানকে ক্রমশ গড়ছে।

মানুষের বর্তমান তার ভাষার দান। মানুষের স্বকীয়, জাতীয়, সৃজনী, বিধ্বংসী ভাষা তার বেঁচে থাকা কালকে, তার যাপিত কালকে নির্মাণ করে, তৈরি করে তার অভ্যাস দক্ষতা, ক্ষমতা। তাতে কখনও পরম্পরা রক্ষা পায়, কখনও নতুন ধারা সৃষ্ট হয়, রক্তধারা। এই ধারা বেরিয়ে আসে বিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৈতিকতাবোধ, ইতিহাসের বোঝাপড়া ও অতিঅবশ্যই শিল্প সাহিত্যের শরীর থেকে। বর্তমানের যে তরুণ নিজ শক্তিতে পথ চলছে, প্রজন্মের নিয়মে কাল অতিক্রম করছে, ভুল করার স্বাধীনতাকে ধারণ করেছে, তাদের হাতে আসছে যুগের শিল্প ও সাহিত্যে নতুন অভিজ্ঞতার সংযুক্তি ঘটবে। যখন তারা চারপাশ থেকে সংবেদ গ্রহণ করছে, অস্তিত্বের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং যুদ্ধ করছে নিজের সঙ্গেÑ নিজের রিপু, শূন্যতা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তহীনতার সঙ্গেÑ তখন তাদের মনের ভেতর সৃজনের নতুন শৈলী তৈরি হচ্ছে। নতুন এই শৈলীর সঙ্গে, স্টাইলের সঙ্গে, আসছে সম্পূর্ণ নতুন এক ভবিষ্যৎ অর্থাৎ নতুন গন্তব্য।

আমাদের কথাসাহিত্য এক নতুন গন্তব্যের দিকে চলছে এখন তরুণদের হাত ধরে, যে গন্তব্য এর আগে অচিন্তনীয় ছিল। এখনকার তরুণদের গড় প্রবণতার ভেতর রাজনীতি-চেতনাকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারি। প্রত্যেক যুগে লেখক-শিল্পীর ভেতর রাজনীতিচেতনা সেই যুগসাপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। তবে প্রতি যুগে তার লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। অর্থাৎ অস্ত্রের মূলনীতি একই। কিন্তু অস্ত্রের উপকরণ, ক্ষিপ্রতা, লক্ষ্যবস্তু ভিন্ন। আজকের সময়ে রাজনৈতিক চেতনাকে বলা চলে নৈরাষ্ট্রমুখী।

মানুষের মনের ভেতর পৃথক রাষ্ট্র বিরাজ করে। এর সঙ্গে ভূখণ্ডের মিল নেই তবে ভূখণ্ড-ধর্মের মিল আছে। যখন বাইরের ভূখণ্ডে নৈরাষ্ট্রবাদী ভাবনা ক্রিয়াশীল তখন অবধারিতভাবে মনের রাষ্ট্রে তাকে নিহিলিস্ট হয়ে উঠতে হয়েছে। এখন রাজনৈতিক গন্তব্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত। এখন বিশেষ কোনো শাসনপ্রথার উপযুক্ততা আছে কি? নেই বলেই মনে হয়। যে কারণে গণতন্ত্রকে প্রায়ই বিকলাঙ্গ বোধহয় আমার এবং ফ্যাসিবাদ গড়-নাগরিক ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্ররোচনায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এতাটাই সেই অনিবার্যতা যে ফ্যাসিবাদবিরোধিতাও সাফল্যের পর ফ্যাসিবাদী কাঠামো ধরে এগোয়। এ নিয়ে আমরা কতটা ভেবেছি?

আমরা উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত ঝাঁপটুকু দিতে পারিনি, পারছি না। যখন ফ্যাসিবাদকে টলাতে হয়, তখন নৈরাজ্যবাদ জরুরি। আর যখন ফ্যাসিবাদ টলে গেছে তখন নৈরাজ্যবাদ ছাড়তে হবে। তখনও তা চলতে থাকলে নব্য ফ্যাসিবাদীর উত্থান ঘটবে বা পুরনো ফ্যাসিবাদীর পুনরাগমন ঘটবে। এভাবে রাজনীতি এক অনিঃশেষ অভিশাপবৃত্তের ভেতর পড়ে যায়। সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্য আবারও যে তরুণদের দরকার হয় দেখা যায় তারা ততদিনে ক্রমশ নিহত অথবা নিজেরাই দূষিত হয়ে গেছে।

এ অবস্থার প্রভাব পড়ে সবার আগে আমাদের ভাষ্যে, এরপর ভাষায়। স্বাভাবিক সময়ে ভাষ্য ভাষাকে বদলে দেয়, ভাষাও ভাষ্যকে প্রভাবিত করে। তবে পরস্পরের ওপর এই আদুরে সক্ষমতার সম্পর্ক নৈরাজ্যবাদী সময়ে ভাঙা পড়ে। তখন সাহিত্যে নেতিবাচক পথে ‘উদ্দেশ্য-প্রণোদনা’ সৃষ্টি হয়।

উদ্দেশ্য-প্রণোদনা কিন্তু কখনও কখনও কল্যাণী সাহিত্যের অংশ। আমাদের গুরুপ্রতিম সাহিত্যিকরা সেই প্রণোদনা বহন করেছেন। তলস্তয়, রবীন্দ্রনাথ, গোথে। কিন্তু যখন তরুণ লেখকরা মানবধর্মী, সাম্যবাদী, সমানুভবী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অসার সহিংসতা দেখায় তখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্যধারা আর জনতার কল্যাণকে লক্ষ্য করে না, যত্ন করে না। মানুষ সেখানে আর লক্ষ্য থাকে না। লক্ষ্য থাকে স্বার্থ। কার স্বার্থ? গোষ্ঠীস্বার্থ। তখন লক্ষ্য থাকে নিজ নিজ অভিমতকে রায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে এবং নিজ গোষ্ঠীর ক্ষমতার পথ নিষ্কণ্টক রাখার দিকে। তখন উগ্র জাতীয়তাবাদ অথবা উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদের আফিক বিক্রেতারা অপরাজনীতির নিয়মেই মাথাচাড়া দেয়। এটা ইতিহাসে বারবার ঘটেছে। এমন সময়ে পতাকা মাড়ানোর মতো কর্মসূচি আসে। দূরদর্শিতা ও রাজনীতি বিষয়ে সঠিক ভেদজ্ঞানের অভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নয়, রাষ্ট্রীয় জনতাকে প্রতিপক্ষ করে তোলা হয়।

সাহিত্যের কাজ হলো জনতাকে যন্ত্র হয়ে উঠতে না দেওয়া, যন্ত্রকে জনতার ওপর আধিপত্য করতে না দেওয়া। জনতাকে যখন আর সাহিত্য লক্ষ্য করে না তখন সে সহিতধর্ম থেকে সরে যায়, অর্থাৎ তখন আর সে সাহিত্য থাকে না। গোষ্ঠীস্বার্থ দেশের বৃহত্তর জনতার মৌলিক প্রয়োজনকে দমিয়ে রাখে, ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্থান ঘটে, প্রতিবেশী ও প্রতি-প্রতিবেশী দেশের যন্ত্রকে লক্ষ্য করতে থাকে কিন্তু জনতাকে উপেক্ষা করতে থাকে এবং ক্রমশ বিশ্ব-জনতার ঐক্য ভেঙে দিতে চায়। এটাই উগ্রতার ক্রমধারা। এভাবে ক্রমশ বিশ্ব-আহব অর্থাৎ বিশ্বযুদ্ধের দিকে তখন আহ্বান চলে যায়। তখন যে গ্রন্থ সেই বিশ্ব-আহবের কথা বলে না, নিজ অভিমতের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলে না, তা পোড়ানোর আগুনকুণ্ড তৈরি করা হয় (হিটলার যেমন করেছিল)। স্পর্শকাতরতা ও সংবেদনশীলতার বৈশিষ্ট্যগুণে একসময়ের সংস্কৃতিসেবীরাই এ বিষয়ক মূল কাজটি করে এবং এক্ষেত্রেও নির্বাহী দায়িত্ব পালন করে তারুণ্য (অদ্ভুত কাকতাল, তরুণ হিটলারকে তো স্পর্শকাতর সংস্কৃতিকর্মী হিসেবেও আবিষ্কার করা যাবে)।

এই সময়ে ভাষার শিল্পীদের ভেতর কী ঘটছে। বাইরের নৈরাষ্ট্রবাদ যাদের অন্তরে নিহিলবাদ প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে (...যখন বাইরের ভূখণ্ডে নৈরাষ্ট্রবাদী ভাবনা ক্রিয়াশীল তখন অবধারিতভাবে মনের রাষ্ট্রে তাকে নিহিলিস্ট হয়ে উঠতে হয়েছে) তাদের ভেতর কি দুই ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়নি?

১. একটি অংশ তখন নিছক সৌন্দর্যসৃষ্টির লক্ষ্যে গল্প বা শিল্প নির্মাণ করছে। কারণ তাদের সামনে গল্প বা শিল্প নির্মাণের উদ্দেশ্য-প্রণোদনা তারা অনুভব করছে না (এই বোধ কখনও ট্রমা থেকে আসে, কখনও শিল্পীসুলভ বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকেও আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু শিল্পী ও সাহিত্যিক কখনও ট্রমা, কখনও বিচ্ছিন্নতার কারণে সম্পূর্ণ তৎকাল-বিচ্ছিন্ন শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন)। উদ্দেশ্য নেই তাই বিধেয়ও নেই। অর্থাৎ সেই মুহূর্তে তার সাহিত্য বা শিল্প যেন থেকেও নেই। বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া পাঠক আপৎকালে সেইসব শিল্পের উপযোগ বোধ করে না (তবে পরে কখনও এসব শিল্পের ডাক পড়ে)।

২. আরেক পক্ষ তাদের সাহিত্য ও শিল্পকে তখন নানামুখী বোঝাপড়ায় এত বেশি বহুদিকগামী করে তুলছে, আর অতীতের প্রয়োজনীয় মূল্যবোধকে এমন সুরে ও স্বরে উপেক্ষা করছে যে অনেক সহিংসতার প্রসঙ্গে তার অতি-উৎসাহ সমাজের বুকে দুরারোগ্য ক্ষত তৈরি করতে উন্মুখ (উনিশ শতকে রাশিয়ায় নবাগত নিহিলবাদ অনিয়ন্ত্রিত ভূমিকা কিংবা নকশালবাড়িকেন্দ্রিক সংগ্রাম-নীতি) এবং কখনও গণমানুষের মৌলিক প্রয়োজন কোনটি তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হলে নিজেরাই হতবুদ্ধি হয়ে পড়ছে (চব্বিশোত্তর বাংলাদেশ)। এমন তাদের হতবুদ্ধিতা পাঠকে সঞ্চারিত হয়। ক্ষুধার্তের সামনে লোভনীয় অনেক পদের খাবার একসঙ্গে থাকলে সে যেমন কোনোটিই ঠিকভাবে আত্মস্থ, অন্তঃস্থ, জীর্ণ, হজম করতে পারে না।

এর মানে যারা আদর্শধর লেখক তারা হয় নিজেরা লক্ষ্য হারায়, নয় পাঠককে লক্ষ্যচ্যুত করে। এটিই বর্তমানের তরুণ লেখকদের পিছুটান।

তাদের সাহিত্যে গল্প আজ কাঠামোর দিক থেকে নিজেকে বদলাতে চাইছে কিন্তু উপকরণধর্মে বদলাচ্ছে না। তাই বর্তমান কথাসাহিত্য, কবিতা ও শিল্পকর্মে আমরা কাঠামোর দিকে অনেক ওপরচালাকি দেখতে পাব। বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া উপকরণে নতুনত্ব পাব না। সময়টা এত বেশি অস্তিত্ববিধ্বংসী যে, ভুল করার স্বাধীনতা নেওয়ার মানসিক অবকাশও যেন নেই। ফলে গল্পগুলো জন্মাচ্ছে অতীতের ভিনদেশি সফল সাহিত্যের পুনরাবৃত্তির মতো (ভুল করার স্বাধীনতাটা নিতেই হবে)।

এর ভেতরও উজ্জ্বল দিক কোনটি? তা হলো বিশ্ববীক্ষণ কোণের অনন্য অবস্থানে এখনকার তরুণরা। প্রযুক্তি তাদের জ্ঞানে সহায়ক হয়েছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রচুর উন্নত সাহিত্যকলা, শিল্প ও চিত্রকলা তারা দেখছে ফলে তাদের অন্তর অপ্রকাশ্য আত্মসমালোচনা ও গোপন অসন্তোষে পূর্ণ। বড় অংশটি হীনম্মন্যতা ও অসন্তোষকে বড় গলার আড়ালে ঢাকতে চাইছে। তবে একটি ছোট অংশ হলেও আছে যারা এমন অসন্তোষকে নির্বিচার অসম্মানের অস্ত্র বানায়নি। তারা একে নতুন কাঠামো তৈরির চেষ্টায় কাজে লাগাচ্ছে। এরাই সংকটে উপযোগ আছে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্যের পরম্পরাকে রক্ষা করবে। এরা শিল্প নিয়ে আজ মাথা ঘামাবে না। সম্ভবত সময়ে এলে শিল্পই এদের নিয়ে মাথা ঘামাবে। এরা তথ্য অর্থাৎ জ্ঞানকে অন্তঃস্থ, আত্মস্থ, জীর্ণ করে প্রজ্ঞায় রূপ দিতে পারবে। স্পর্শকাতরতাকে বদলে দিতে পারবে সংবেদনশীলতায়। এমন লেখকের রচনার ভেতর শিগগির অতীত-ইতিহাসের আরও সর্বজনীন বোঝপড়া দেখতে পাওয়া যাবে। মানবের নৈতিকতাকে এরা শুধু মানুষমুখিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে দেবে না এবং নৈতিকতার উপহার এরা শত্রুকেও দিতে কার্পণ্য করবে না।

নতুন দিনের বিশ্ব-পরিবারবোধ হয়তো এই ধারার সাহিত্যিকরা জন্ম দিতে গিয়ে মানবধর্মের নতুন স্ট্যান্ডার্ড, আইডিয়াল, মানদণ্ড, আদর্শ, স্বপ্ন প্রতিষ্ঠা করে যাবে।

তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? সাহিত্য কি রাজনীতির সৎবোন? না, তা কেন। তারা সহোদরা। আপন বোন। সাহিত্যে তাই রাজনীতি প্রাসঙ্গিক। রাজনীতিও তাই সহিতধর্ম থেকে মুক্ত হতে চাওয়ামাত্র তার আত্মা হারাবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা