লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের সাক্ষাৎকার
নকিব মুকশি
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৮ এএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:০০ পিএম
লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। প্রতিকৃতি: জয়ন্ত সরকার
২০১২ সালে লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকালে ঔপন্যাসিক মাউরো হাভিয়ের কারদেনাস সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। পরে মিউজিক অ্যান্ড লিটারেটারের দ্বিতীয় সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি ভাষান্তর করেছেন কবি নকিব মুকশি। আজ থাকছে তার দ্বিতীয় পর্ব।
কারদেনাস: কোরিন যে পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পায়, তা আদৌ বাস্তব কি না—এ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে। দ্য নিউ ইয়োর্কারে জেমস উড লিখেছেন, ‘ধীরে ধীরে পাঠক নিশ্চিত হন—যে সন্দেহ শুরু থেকেই ছিল—কোরিন কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পায়নি। বরং নিউইয়র্কে বসে সে নিজেই এটি লিখছে।’ আমি ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’ দ্বিতীয়বার পড়েছি এবং পাণ্ডুলিপিটি অবাস্তব বলে কোথাও কোনো ইঙ্গিত পাইনি।
ক্রাসনাহোরকাই: হ্যাঁ, সেটি আসলে একটি বাস্তব পাণ্ডুলিপিই ছিল। অসাধারণ, অসাধারণ এক রচনা। কোরিন সেটি খুঁজে পায়। সে ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। ফলে সে সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যায়—এই পাণ্ডুলিপির লেখা সত্যিই সুন্দর। তাই সে চায়, এই পাণ্ডুলিপি টিকে থাকুক পৃথিবীতে। এর সংরক্ষণই হোক তার জীবনের শেষ কাজ।
শিল্পের বিশুদ্ধ অভিজ্ঞতা
কারদেনাস: সম্প্রতি একজন তরুণ মার্কিন লেখক বেন লার্নার—একজন কবি…
ক্রাসনাহোরকাই: কেউ আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তরুণ আমেরিকান ঔপন্যাসিকের কথা বলতে পারে না…
কারদেনাস: আমি লার্নারের উপন্যাস খুব পছন্দ করি। তিনি একজন নিরীক্ষাপ্রবণ কবি। তবে তিনি ‘লিভিং দ্য আটোচা স্টেশন’ নামের একটি উপন্যাসও লিখেছেন। বইটি শুরু হয় একটি সুন্দর দৃশ্য দিয়ে: কবির রোজকার অভ্যাস—প্রাডো জাদুঘরে একটি নির্দিষ্ট চিত্রকর্মের সামনে বসে তার শিল্পমাধুরী আস্বাদন করা। কিন্তু আজ তা পারছেন না। কারণ, কেউ একজন তাঁর চিত্রটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে…
ক্রাসনাহোরকাই: একটি নির্দিষ্ট চিত্রকর্ম?
কারদেনাস: হ্যাঁ, একটি নির্দিষ্ট চিত্রকর্ম। সেটার সামনে সেই ব্যক্তি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ কান্না শুরু করেন। এতে কবি বিস্মিত হন। কারণ, তাঁর কখনো এমনটা হয়নি। তিনি মনে করেন, কখনোই তিনি ‘শিল্পের বিশুদ্ধ অভিজ্ঞতা’ পাননি। তিনি শিল্পের প্রকৃত অভিজ্ঞতা অনুভব করতে ব্যর্থ। এরপর সেই ব্যক্তি এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যেতে থাকেন, আর তার কান্না ক্রমাগত বাড়তে থাকে। জাদুঘরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে অনুসরণ করতে থাকেন, যেমনটা কবিও করছেন। কবি ও নিরাপত্তারক্ষীরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন—লোকটি কি পাগল?
শেষে ওই ব্যক্তি চোখ মুছতে মুছতে চলে যান, আর কবি থেকে যান বিভ্রান্ত। কারণ, তিনি কখনোই শিল্পের সঙ্গে এমন প্রগাঢ় সংযোগ উপলব্ধি করেননি।
ক্রাসনাহোরকাই: অপূর্ব গল্প।
কারদেনাস: পুরো উপন্যাসটি শিল্পকে গভীরভাবে ওই কবির অনুভব করতে না পারার অক্ষমতা নিয়ে। এটি আমাকে কোরিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যে আত্মহত্যার আগে মারিও মের্ৎসের ভাস্কর্য দেখতে চেয়েছিল। সে যেন সেই ব্যক্তি, যে একটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে অতল শিল্পমাধুর্যে আবেশিত হয়ে কাঁদে। এটা শিল্পের এমন এক অভিজ্ঞতা, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমি তাই কোরিনের অভিজ্ঞতা এবং আপনার শিল্পানুভব নিয়ে কথা বলতে চাই।
ক্রাসনাহোরকাই: কান্না। হ্যাঁ, কান্না—মানুষের কান্না একটি গভীর প্রতিক্রিয়া দুনিয়ার প্রতি, মনোহর রূপমাধুরীর প্রতি। আমি সেই জাদুঘরের ব্যক্তিকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। ধরুন, আমি ল্যুভর জাদুঘরে ফ্রা অ্যাঞ্জেলিকোর একটি ছোট চিত্রকর্ম দেখছি, যেখানে তিন দেবদূতের ছোট ছোট অবয়ব প্রকটিত। এটি অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর, যার একটি সীমারেখা আছে, যা পরমানন্দ দেয়। পরমানন্দ কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয়। এটি আপনাকে কাঁদাতে পারে। কারণ, এর একটি সীমা আছে, আর সেই সীমার বাইরের সৌন্দর্য প্রায় অসহনীয়। কিন্তু আমরা বাস করি একটি নোংরা, নিরাশ, ধূসর পৃথিবীতে। আমাদের জন্য এ ধরনের সৌন্দর্যের অস্তিত্ব আছে, আর যদি তা থাকে বা থাকতে পারে, এর মানে হলো আমরা সেই সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম।
কারদেনাস: আমরা যখন সৌন্দর্যের মুখোমুখি হই এবং সেই সীমায় পৌঁছাই…
ক্রাসনাহোরকাই: আমাদের জন্য সীমা ও অনন্ত পরিসর সত্যিই আছে। এই রূপমাধুরীর পথ, এর মহিমা—সবই একই দিকে, অসীমে, অনন্তে। কিন্তু আমরা কখনোই সেই সীমা পার হতে পারি না, কেবল এর পাশে থাকতে পারি।
আমরা জানি, সীমার বাইরেই রয়েছে অসীমের পরিসর ও মহিমামাধুর্য। যদি আপনি এতে বিশ্বাস করতে পারেন, যদি আপনি এমন অভিজ্ঞতা পান, তাহলে আপনার জীবন কিছুটা বদলে যেতে পারে। তবে রিলকে যেমনটা বলেছিলেন—‘তোমার জীবন বদলাতে হবে’—তার মতো নয়। হতে পারে আপনার জীবন বদলে যাবে, যদি আপনি সেই সীমায় পৌঁছান। সেই সীমা থেকেই আপনি জানতে পারেন—সীমার ওপারেই রয়েছে সৌন্দর্য ও মহিমার এক দারুণ পরিসর।
তোমার ত্বকই তোমার নিয়তির সীমানা
কারদেনাস: সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকো ফিল্ম সোসাইটি বেলা তারের ‘দ্য ট্যুরিন হর্স’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করেছে। সেখানে একটি দৃশ্য আছে : এক প্রতিবেশী তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন, দূরের নিঃসঙ্গ একটি বাড়িতে আসে, যেখানে এক বাবা ও তার মেয়ে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করে। একটি স্বগতোক্তিতে বলা হয়, ‘ভালোরা খারাপদের জিততে দিয়েছে।’ তখনই ভাবি, আহা! লাসলো ক্রাসনাহোরকাই!
ক্রাসনাহোরকাই: আসলে মনোলগটি বেশ দীর্ঘ ছিল। [হাসি]
কারদেনাস: আমি সহজেই তা কল্পনা করতে পারি। পরে যখন আমি আপনার কিছু বই আবার পড়ি, তখন সেই প্রতিবেশীর মনোলগ আমাকে ‘আইজায়া হ্যাজ কাম’–এর কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে কোরিন বলে, ‘তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু লুকানোর মতো আমার কোনো আড়াল, কোণ বা ঘুপচি নেই। কারণ, সবকিছুই তাদের সীমার মধ্যে।’ ‘দ্য ট্যুরিন হর্স’–এ বাবা-মেয়ে যেন লুকিয়ে আছে এক দূরবর্তী নিঝুম দ্বীপবাড়িতে, তবু তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে না।
ক্রাসনাহোরকাই: ‘দ্য ট্যুরিন হর্স’ বানানোর আগে আমি ‘অ্যানিমেল ইনসাইড’ নামের একটি বই লিখেছিলাম। সেই বইয়ে একটি বাক্য আছে, একটি দৃশ্য, যেখানে একটি খাঁচার কথা বলা হয়েছে। খাঁচাটা এত ছোট যে তোমার ত্বকের পরিধির মতো। ‘দ্য ট্যুরিন হর্স’ সিনেমায়ও একই ধারণা আছে—এক বিশাল পরিসরের মধ্যে একটি খাঁচা, যা আসলে তোমার ত্বকের মতোই। অর্থাৎ তোমার নিয়তি, নিয়তির সীমানা তোমারই চামড়া। ত্বকের এই খাঁচা থেকে বের হওয়ার কোনো পথই খুঁজে পাওয়ার আশা নেই।
এই বিশাল পরিসর, বিশাল দুনিয়া তোমার জন্য নয়। এর কোনো অস্তিত্বই নেই তোমার কাছে। কারণ, তুমি সবকিছু বাজি রেখেছিলে এবং তোমার সব সম্ভাবনা হারিয়েছ। সবকিছু তুমি হারিয়েছ। এখন তুমি সম্পূর্ণ একা। আর ১—তোমার নিজস্ব শেষ বিচারে।
কারদেনাস: একটা দৃশ্য আছে, যেখানে যাযাবরেরা ভয়ংকরভাবে ঘোড়ার গাড়িতে করে আসে। তারা চিৎকার করে, ‘আমরাই পৃথিবীর মালিক! পৃথিবী আমাদের! তোমরা দুর্বল।’ কী আতঙ্কজনক দৃশ্য…
ক্রাসনাহোরকাই: আমরা যারা চলচ্চিত্রটি বানিয়েছি,তাদের জন্য এটি ছিল এক আবেগপ্রবণ দৃশ্য। কারণ, আমাদের সহানুভূতি কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টির প্রতি নয়, কোনো ঈশ্বরের প্রতি নয়—আমাদের সহানুভূতি তোমার প্রতি, মানুষের প্রতি, পৃথিবীটার প্রতি। আমরা মানুষকে ঘৃণা করি না—বেলা ও আমি, একদম না। আমি মানুষের প্রতি ঘৃণা বা বিচারবোধ অনুভব করি না। কারণ, আমি নিজেও একজন মানুষ। তাই আমি সেই ধরনের মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হই, যে উড়তে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি, যে মহান হতে চেয়েছিল কিন্তু হতে পারেনি—যার ছিল তীব্র আকাঙ্ক্ষা একটি এমন জগৎ গড়ার, যা সবার জন্য সুন্দর হবে। কিন্তু এই পৃথিবী ছোট, এটি আসলে একটি খাঁচা—যন্ত্রণায় পূর্ণ, অপ্রয়োজনীয় সত্তায় ভরা।
আমরা বাজি ধরেছিলাম একটি ক্যাসিনোতে। সেটাই ছিল আমাদের প্রথম এবং শেষ ভুল: ক্যাসিনোটিতে প্রবেশ করি, প্রতীকীভাবে বললে, লাস ভেগাসে। ভাগ্যের সঙ্গে জুয়া খেলা কোনো ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ, আমরা মানুষ—আমরা শুধু হারতে পারি, জিততে পারি না। জয় আমাদের জন্য নয়।
এ অনিশ্চয়তাই তোমার আত্মার গভীরে ঘুরে বেড়ায়
কারদেনাস: আমরা এর আগে ম্যাক্স সেবাল্ড, তাঁর কাজ এবং তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক—এসব নিয়ে কথা বলছিলাম। ‘ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার’–এ কোলোনের ক্যাথেড্রাল ও তার চারপাশের ধ্বংসাবশেষের চিত্র আমাকে ‘অস্টারলিৎস’-এর একটি কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে বলা হয়, আমরা যেন স্বভাবতই জানি, বাইরের ইমারতগুলো নিজেদের ধ্বংসের ছায়া আগেই ফেলে রাখে এবং শুরু থেকেই যেন তাদের নকশা করা হয়েছে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হওয়ার কথা মাথায় রেখেই…
ক্রাসনাহোরকাই: আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত উষ্ণ, যার শুরু তিনি লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগেই। আমার প্রথম জার্মান প্রকাশক হলেন এগন আমান, খুবই চমৎকার মানুষ। একদিন জুরিখে রাতের খাবারের সময় তারই ফ্ল্যাটে আমাদের প্রথম দেখা হয় । আমরা কথা বলতে শুরু করি—‘তুমি কী করো, আমি কী করি’—এমন নানা বিষয়ে, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের মনে হয়, আমরা যেন বহু বছরের পুরোনো বন্ধু। আমাদের মধ্যকার এমন সম্পর্ক তাঁর মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিল। আমি তাঁর কাজ দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। এখনো অবাক হই। তাঁর বইগুলো একেবারে অনন্য। পৃথিবীকে দেখার এক অতুলনীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তাঁর। কারণ, ম্যাক্স ভাষাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে পারতেন, যাতে একটি সাধারণ গল্পেই সবকিছু ধরা পড়ে। উদাহরণ দিই, ‘আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এলাকায় বেরিয়েছি, সময়টা বাড়ি কেনার, হয়তো সে উদ্দেশ্যেই। হঠাৎ একটি বাড়ি নজরে আসে, কিন্তু বাড়িটিতে কেউ নেই, ফাঁকা। মালিককে খুঁজে পাই না। বুঝতে পারি, কেউ একজন বাগানে আছে। আমরা সেখানে যাই। দেখি, একজন মানুষ ঘাসের ওপর শুয়ে আছে।’ দেখলে, একটি সাধারণ দৈনন্দিন পরিস্থিতি থেকে আমরা কীভাবে চলে গেলাম এক অদ্ভুত জগতে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ ঘাসের মাঠে শুয়ে আছে। তো সে এখানে কী করে? সে অতিথিদের বলে, ‘গত কয়েক বছরে আমার এক খারাপ অভ্যাস হয়েছে—একটি ঘাসের টুকরোকে পর্যবেক্ষণ করা আমার কাছে ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’ মনে আছে (গল্পটা)?
কারদেনাস: হ্যাঁ, ‘দ্য এমিগ্র্যান্টস’–এ…
ক্রাসনাহোরকাই: এটি একেবারে বাস্তব পরিস্থিতি—কিছুটা মেলানকলিক। কারণ, ম্যাক্স নিজেই ছিলেন এক বড় মেলানকলিক। একটি সাধারণ ছোট ঘটনায় ঢুকে আপনি তার সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে পারবেন এক অদ্ভুত জগতে, যেখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো বড় মতবাদ নেই, বাস্তব দুনিয়ার সবকিছুই থাকে, কিন্তু একটু ভীতিকর, একটু দুঃখময়, ভবিষ্যৎহীন, অতীতহীন।
ম্যাক্সের আরেকটি দিক আছে, যা আমি খুব ভালোবাসি, সেটা হলো—তিনি বাস্তব জিনিসকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারতেন, যেমন একটি ছবি। তাঁর উপন্যাসগুলো কল্পকাহিনির মতো নয়, বরং এক অদ্ভুত ডায়েরির মতো। কিছু ক্ষেত্রে বর্ণনাত্মক হয়—ঘটনা বা অবস্থা তুলে ধরার ক্ষেত্রে।
আমি একদিন হঠাৎই একটি শহরে থাকতে শুরু করি, অজানা শহরে। এই শহুরে জীবনে আমার কোনো সংবেদনশীল অনুভূতি হয় না, কিন্তু কিছু অদ্ভুত, টুকরা টুকরা অনুভূতি আড়মোড়া ভাঙে। তখন মনে হয়, আমি যেন সেবাল্ডের একটি বইয়ের মধ্যে আছি: আমি অনিশ্চিত, আমি দ্বিধাগ্রস্ত—এই অনিশ্চয়তা আমার আত্মার গভীরে সঞ্চারিত হয় এবং হয়তো তা সেখানে চিরকালই থেকে যাবে। এটা শুধু অদ্ভুত নয়, অপূর্বও। কারণ, অচেনা জগৎই হয়তো ম্যাক্সের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমি আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ফেললাম। ফলে তাঁর বিষয়ে আমার অনুভূতি নিরপেক্ষ থাকার কথা নয়।