গোলাম কিবরিয়া পিনু
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
শুধু ঝুলে পড়ার নাম কি ভালোবাসা?
দায় নিয়ে দা দিয়ে কাটতে হয় জঙ্গলও
বাঁচিয়ে রাখতে হয় চারাগাছ,
ফল হওয়ার পর শুধু স্পর্শ?
নাকি জানতেও হয়Ñ
কাঁচার পরই ডাঁসা তার পর তো পাকা,
পাকার পরও পচনটা ধরে,
স্বার্থপরতায়-আত্মগ্রহীতায়!
অন্তঃসারশূন্য হলেÑ
একসাথে যথাসময়ে স্টিমার ধরতে পারবে না,
জলের উচ্ছ্বাসে ডুবে যাবে!
হাতচিঠি পাওয়ার পরÑ
হাত স্পর্শ করেছো তুমিও!
কী এক জলন!
দেহের তাপ ও নাড়ির স্পন্দন মিশে যায়Ñ
তরঙ্গায়িত হও!
যদি থাকে অন্তঃস্থ মুগ্ধতা ও প্রাণপ্রাচুর্য,
তবেই তো হতে পারো সন্তরণশীল!
আমি ও শ্মশানঘাট
শাহ বুলবুল
শ্মশানঘাট দেখলেই মনে হয়
ঐ পাড়ে আমি...
কাতর ইশারায় ডাকেÑ এ পাড়ের আমিটাকে।
শ্মশানঘাট-নুয়ে আছে বেদনার তীব্রতায়
বহুদূর... সাবাকির তীর
আমি ও শ্মশানঘাট...
মেঘভাঙা এক বৃষ্টির দেশে
বিষণ্ন সন্ধ্যার মতোই অঙ্গার।
জোনাক জীবন
শিমুল সালাহ্উদ্দিন
হ্যাঁ, হ্যাঁ, সেই সন্ধ্যায়
ধানক্ষেতে আল-হাঁটা রাস্তায়
জোনাকিই তো! বুকে মিটমিট আলো জ্বলাÑ
ফুটফুটে একটা জোনাকি, আশাধর ভীরুগলায়
দিয়েছিলাম তোর হাতে তুলে, তোকেÑ
আইঢাই প্রাণ নিয়ে বাঁচবার ঝোঁকে
বারবার উড়ে যাচ্ছিল সে জোনাক
হাতের আঙুলের ফাঁক গলে গলে
তাই আমাকে না বলে
সেই যে বন্ধ করলি মুঠো,
আমি দুটো
জীবনের মাঝখানটুকু ভুলে গিয়ে
সময় পরিচয়বিভ্রমের ভেতর
কাটিয়ে দিলাম একটামাত্র জীবন
তোর মুঠোর ভেতরÑ
আঙুলের ফাঁক খুঁজে খুঁজে
হাতের নরম অথচ শক্ত মুঠোয়
কেমন একটা জোনাক-জীবনী
অরুন্ধতী, এখন আমি জানি।