দিলারা হাফিজ
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৩৮ পিএম
সত্তা ও সময় দুজনেই স্পর্শের বাইরে গিয়ে পাশাপাশি বসেছিলোÑ
অস্তিত্ববাদীরা বলবেনÑ মানবের দেহটাই সত্য ও শম।
দেহের মধ্যেই মাছরাঙা পাখি ওড়ে, পাতা নড়ে জল ছুঁয়ে
কায়া বড় মায়া বাড়ায়, মায়া মরীচিকা ছুটে চলে দীর্ঘ মরুপথ…
এ কথা তো জানো তুমি আমার আমলে মুর্শিদ
ওহে খোয়াজ ক্ষিদির, এইবেলা ক্ষ্যাপা মন বলে কিচ্ছু নেই, নিরানন্দে ছেয়ে গেছে
দেহাতীত ওই দেহের মোকাম!
দেহ ছাড়া কিইবা আছে বলো, মন তো তারই অনুসারী কিংবা বলা যায়
মনের নির্দেশেই চলে এই দেহরথ
পরস্পর নির্জীব কণ্ঠে কী করে বলি,
হৃদয়ে তুমি উদয় হও ফের…একবার নিজেকে দেখিÑ
তোমার আনন্দ আয়নায়Ñ
মায়া-মাটি যে, ছাড়ে না, আমি তারে ছাড়ুম ক্যামনে?
তোমার আনন্দধামে কত অধম রস-অভিলাষে সিক্ত
আমাকে কেন ফিরিয়ে দাও বার বারÑ
মরমে মরে আছে যে, সেও তো হাসতে চায়
ভালোবাসতে চায়…আনন্দ উদ্ভবে…পুনর্বার
আমার মতো দীনহীন এমন অধীন কে আছে আরÑ
শত ডাকেও যার সাড়া মেলে না আগে পিছে!
এমন কোনো বান্ধব নেই তুমি বিনে, মাথায় যে হাত রাখবে আলতো সোহাগে…
কে আর টেনে তুলবে আমাকে
চারদিকে নিরুপায় খেলা চলে আমার নিমজ্জন ঘিরে!
পথে কখনও একাকিত্ব থাকে
মাজহার সরকার
প্রেমিকার অন্তর্বাসে ঝুলে থাকা লবঙ্গের গন্ধে
সন্ধ্যা ভাঙি।
জিহ্বায় চাটি শখের কলসি,
দেখো, আমার প্যান্টের ভেতর হাঁটছে এক লোভী বৃষ্টি,
শরীর নয়
তোমার লজ্জার বিনুনি ধরে বেঁচে আছি,
জোড়া হাঁসের দুধ নয়
তোমার ঘামভরা বুকে জন্ম নিয়েছে আমার লালন।
ঘন ছায়ার ভেতর বুকে যখন নামানো হয় নৈঃশব্দ্যের শালুক,
ভাবো, রাত্রি ঘুমোয় না, রাত্রি সাজে না,
সে গিলে নেয় মেসেঞ্জার, পুরুষ, দীঘল দুপুর,
যখন ছায়া ঘুরে ফিরে হৃদয়ের ধ্বনিতে বাজে
অজানা ভয়ের মতো ঝড় নামে শহরের ঘুমন্ত হাড়েÑ
গৌড়ের গম্বুজে কেঁপে ওঠে হাওয়া
আর মাঠে পড়ে থাকে উপবাসী উটিনীর ছায়া।
এই ক্ষণে কে ছড়িয়ে দিচ্ছে ঝিনুকের বদলে কাঁটা?
কারা বানাচ্ছে আগুনের স্থাপত্যের নিচে
নতুন পয়সার চিত্রলিপি?
বিকেলের শেষ আলো গড়িয়ে পড়ে মিনার থেকে
আর ছাইয়ের ছায়া হয়ে মানুষের ভেতর হাঁটে পাথরের মৌনতা
নীল চিতার চাকু হয়ে ছিন্ন করে যায় অপেক্ষার বুক
দেখো, নিজের ঘৃণায় পুড়ে যাচ্ছি নিজেরই গলায়।
ভবদুপুর
হাসনাইন হীরা
দুপুরে, একটা ভাবপূর্ণ আলাপের ভেতর
ভালোলাগা বাতাসের হাত ধরে হাঁটি,
হাঁটাহাঁটি নিঃশেষে বিভাজ্য হলে মনে হয়
কোনো এক বকুলরেখা ডেকে গেছে পরিবেদনায়!
তথাপি তপস্যার তারা গুনি আর শ্যামসুন্দর
পাঁজরের পাতাগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে ভাবি
কেন যে পাখিদের মাতৃভক্ত আলো দিয়ে
এখনও ফুল ফোটাবার ভূমিকা লেখা গেল না!...
প্রেম কি তবে চিরকাল হেঁতালের অভিষেক?
না, শোক সংক্রান্ত অভিযোগ দিতে আসি নাই
শুধু তোমার তীরমার্কা হাসিগুলো সরিয়ে নাও,
ও হাসিতে আর সাঁতার শেখার গদ্য-পদ্য নাই
গণতান্ত্রিক গবেষণাও ফুরিয়েছে ফুলের সানাই।
এরপরও কি এই ভবদুপুর এড়িয়ে যাবেন? যান,
আপনার জন্যই ফেঁপে আছে ভূমি, ধনুকের বাণ।