মতিন রায়হান
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:০৭ পিএম
এ জগৎ মায়াময়Ñ জাদুর রুমাল নেড়ে কথা বলে
কোন্ জাদুকর?
আছে তার সপ্তডিঙা হীরা-জহরত?
নদীর জলের মতো ছলাচ্ছল কথা বলে
কোন্ নারী গুনে যায় তার জন্যে
উৎকণ্ঠ রাতের প্রহর?
এ জগৎ মায়াময়Ñ মায়ার আগুনে রান্না চলে
সারা রাতভর...
কী আছে হাঁড়িতে? স্বপ্নের আনাজপাতি!
আদিরসাত্মক গীতিগাথা, নৃত্যপরা নারী
আকাশ উপুড় করে ঢালে জল কবি কালিদাস
নেপথ্যে কী বাজে? রুমুঝুমু প্রিয় সাজঘর!
এ জগৎ মায়াময়Ñ পদ্ম ফোটে ইশারা ভাষায়
আশায় আশায় যায় দিন
লাল পদ্ম নীল পদ্ম ভালোবাসা শ্বেত পদ্ম
আমার বুকের কোণে বাজে চিনচিন
কী মায়া ছড়ালে এই শরৎ-সকালে
তুমি নিত্য, তুমি সত্যÑ কালে-মহাকালে!
অক্সিজেন
প্রণব মজুমদার
ঢেউের মতো সবুজ লালে রঙে রঙে
নতুন সাজে মূর্তমান সনাতনী দেয়াল!
শিল্পের সাথে মিতালী করে আঁকা হয়
রোষের অক্ষরগুচ্ছ, বিনা অনুমোদনে।
হঠাৎ বিস্ফোরিত তারুণ্যের চারুশিল্প!
গ্রাফিতির কম্পিত সম্মিলিত চিৎকারÑ
শোনে বৃক্ষডালে বিশ্রামরত পাখিরাও
প্রতিবাদী হয়ে ওঠে অনিয়মের শব্দে।
ডানা ঝাপটানো পরিযায়ী বিহঙ্গ সুখে,
স্বপ্নবাজ দ্রোহী শিক্ষার্থীর মতো শেষেÑ
ওরাও গাইলো দিন বদলের নবসংগীত;
পাখিরা এখনও খুঁজে ফেরে অক্সিজেন।
দাগ
সাম্মি ইসলাম নীলা
হে সু-শুশ্রু তর্জনী আঙুল
ছুড়ে ফেলো মোমের কোমলতা
চোখের দুয়ার ঘেঁষে
একটি বেগুনি ফিতা
মৃদু নিভে নিভে আসে
ল্যাম্পের কাচের ভেতর
তবু জ্বলছে কপালের অগ্রভাগ
আশ্বিনের বিবাগী বিকেল
তুমি একা নও
আধপোড়া খয়েরি রাত
ক্ষীণ পূর্ণিমার চাঁদ
উড়ছে; উড়ুক সামান্য বাতাসে
আবলুশরঙা সর্পালক
অমোঘ মৃত্যু দুয়ারে
নিছক ক্ষান্তি এলে
তবু হে অনন্ত সবুজ ফুল
কোমল ডালপালা ছড়িয়ে
লেফটে দিও গিরি বিরহ দাগ!
নিরবধি তুমি অন্তর্লীন
দিপংকর মারডুক
অন্তর্লীন তুমি, অঝোর করেছ পুরনো চরের রোদ।
চন্দ্রালোকে পালটে গেছে শরতের ডানা। স্যাঁতসেঁতে ঘর।
বাক-বাক্যহীন উপকূলে কার জন্য শ্রেণিবিভক্তির রাত পার করো?
আমাদের তো হাঁটাহাঁটির স্বাভাবিকতা। ওজনহীন কাশফুলের আর্দ্রতা মেখে
বাতাসের স্তরে ক্যালিগ্রাফি আঁকবার কথা।
এরপরও নেই স্তব্ধ ধ্বনির ব্যাখ্যা। তরল রঘুনাথপুরে রেয়ার বিলের ব্যথা।
অবাধ তুমি, নিকটে ত্রিগুণ।
পুঁতি বোনা সুর থেকে কালো আর পরাবাস্তববাদী করেছ আশ্বিন মাস।
শঙ্খের সাথেÑ গড়িয়ে গড়িয়েÑ লতা, গুল্ম, মূল ভেঙে
পাখির রঙে ঝলসে যাব হাতের তালুতে এবং নির্লজ্জ বন্ধনীচিহ্ন কেটে
অফুরন্ত সর্বহারা মানচিত্রের বোবা রূপকথায়।