পটুয়া
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পিএম
তোমার সুরেলা দেহ
মুখের আদল
কতোনা এঁকেছি আমি দেশি রঙে
রাত জেগে
পটচিত্রে
নিজস্ব নিয়মে…
কাঁধে নিয়ে এই সব ছবিসুর
সুরের সুরত
গ্রামে গ্রামে গেয়ে চলি
কাহিনী জানাই…
একদিন তোমাদের ঘরে
পটচিত্রগ্রামে
পৌঁছে যাব জানি
ডাকিবে আদর করে পটচিত্রকর
দিবে তুমি সিঁদুর কাজল
দিবে তুমি আলতার শিশি
পটের জমিন…
তোমাকে গাইবো আমি
লোকেরা বলবে হেসে দেবি কই
এতো দেখি চিরচেনা মুখ…
এই সব টিটকারি হজম করিবো আমি
আঁকিবো সুরেলা হাসি, চুলের ইশারা
আঁকিবো বিনাশী চোখ, চোখের টিশারা…
ছায়ারৌদ্র
হাসিদা মুন
আকাশে টাঙানো রোদ নীল চোখে হাসে
অকপট বাতাসের মুগ্ধ চলাচল
শাদা ফিতে ওড়েÑ মেঘবালিকার বেণি
কাশফুল বুকে ধরে জাগে খোলা চর
হাঁসের পায়ের ছাপ, মরহুম ঝিনুকÑ
ঘাসের কঙ্কাল যেনÑ মোহনার মোহে
আটকে আছে। এই বুঝি নতুন জোয়ার
আবার ঘনিয়ে এলো, এই বুঝি আসে...
যাযাবর। তবু, শরতের ছায়ারৌদ্র
রেশম-তন্তুর মতো মুগ্ধতা ছড়ায়
পৃথিবী একটা কামড়ে খাওয়া আপেল
শারদুল সজল
আমি এক মৃতভোজী ভোর— উড়ি তোমার স্মৃতির ওপর
যেখানে প্রেম পচে গেছে, হাড়ে হাড়ে লেগে আছে নোনতা ঘুম
আমি এখন আর মানুষ নই, হতাশা প্রাচীন ভাস্কর্য
পায়ে পাথর বাঁধা, ঠোঁটে কিলবিল করছে জোঁক
মস্তিষ্কজুড়ে, কামার পাড়ার সুবলা পাগল দৌড়াচ্ছে
যার চোখে পৃথিবী একটা
কামড়ে খাওয়া তুচ্ছ আপেল
যেন এই মাত্র সে পাশের ডোবায় ছুড়ে ফেলে হাঁটতে লাগল
আর জোছনার এক্স-রে প্লেটের ভেতরে দেখা গেল
তার ফাঁকা হাড়, ছায়া, আর গোপন দাহ…
অতিবৃষ্টিতে
নিজাম বিশ্বাস
আকাশের কোথায় লুকিয়ে ছিল জল,
সেই দিন নীল নীল প্রজাপতি
ডানায় ঘোলাটে মেঘ নিয়ে
উড়ছিল, সেই কবে ঘটা করে হলো ব্যাঙ-বিয়ে,
বৃষ্টি হবে না তবু এই ধরে
ধরেনি লালচে আভা করমচা বনেÑ
ছাতা না নিয়েই তুমি বেরুলে অতটা পথ!
ভিজে ভিজে ফিরে এলে ঘরেÑ
লাল টিপ মুছে গেল, চোখের কাজল ধুয়ে গেল,
আলতা ভাসলো জলে; বুটিক ফতুয়াজুড়ে থাকা
শাদা শাদা ফুলগুলো ঝরে গেল পথে
সেই ফুল কুড়িয়ে নিলাম বুক পকেটেÑ
এত জল ছিল কোন্ গহিনে,
সেদিন প্রকট রোদে তোমাকে দেখেছিলাম
জ্বলন্ত কয়লার মতোÑ
আকাশ তোমারই মতো হঠাৎ মুডসুইং,
তোমাকেই ভালোবাসলাম তবু
এই অতিবৃষ্টিতে
তোমার দিকে চেয়ে আছি
জব্বার আল নাঈম
ফসল কাটার পর বিষণ্ন ভূমি
ঝরা মেঘের পর ভারমুক্ত আকাশ
উড়ে যাওয়া ধুলার পর বিস্তীর্ণ মাঠ;
খুব নিঃসঙ্গ, একা!
কোথাও কেউ নেই!
তেমনিভাবে তোমার গল্প শেষ হওয়ার পর অকেজো বেলুন!
আমার সবভাষা তোমাকে দিয়েছি
হৃদয় তোমাকে দিয়েছি
সকল শৌখিন নান্দনিকতাও
বলো, হৃদয় দখল হলেÑ অবশিষ্ট কিছুই থাকে?
তবু অদৃশ্য ভ্রমে হেঁটে যাচ্ছি, হেঁটে যাচ্ছিÑ
প্রার্থনার ঘরে
নিকটে এসো তোমার হৃদয় খুলে!
দাগ
সাম্মি ইসলাম নীলা
হে সু-শুশ্রু তর্জনী আঙুল
ছুড়ে ফেলো মোমের কোমলতা
চোখের দুয়ার ঘেঁষে
একটি বেগুনি ফিতা
মৃদু নিভে নিভে আসে
ল্যাম্পের কাচের ভেতর
তবু জ্বলছে কপালের অগ্রভাগ
আশ্বিনের বিবাগী বিকেল
তুমি একা নও
আধপোড়া খয়েরি রাত
ক্ষীণ পূর্ণিমার চাঁদ
উড়ছে; উড়ুক সামান্য বাতাসে
আবলুশরঙা সর্পালক
অমোঘ মৃত্যু দুয়ারে
নিছক ক্ষান্তি এলে
তবু হে অনন্ত সবুজ ফুল
কোমল ডালপালা ছড়িয়ে
লেফটে দিও গিরি বিরহ দাগ!
দিপংকর মারডুক
নিরবধি তুমি অন্তর্লীন
অন্তর্লীন তুমি, অঝোর করেছ পুরনো চরের রোদ।
চন্দ্রালোকে পালটে গেছে শরতের ডানা। স্যাঁতসেঁতে ঘর।
বাক-বাক্যহীন উপকূলে কার জন্য শ্রেণিবিভক্তির রাত পার করো?
আমাদের তো হাঁটাহাঁটির স্বাভাবিকতা। ওজনহীন কাশফুলের আর্দ্রতা মেখে
বাতাসের স্তরে ক্যালিগ্রাফি আঁকবার কথা।
এরপরও নেই স্তব্ধ ধ্বনির ব্যাখ্যা। তরল রঘুনাথপুরে রেয়ার বিলের ব্যথা।
অবাধ তুমি, নিকটে ত্রিগুণ।
পুঁতি বোনা সুর থেকে কালো আর পরাবাস্তববাদী করেছ আশ্বিন মাস।
শঙ্খের সাথেÑ গড়িয়ে গড়িয়েÑ লতা, গুল্ম, মূল ভেঙে
পাখির রঙে ঝলসে যাব হাতের তালুতে এবং নির্লজ্জ বন্ধনীচিহ্ন কেটে
অফুরন্ত সর্বহারা মানচিত্রের বোবা রূপকথায়।