× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমার প্রিয় ছাত্র হামিদ

রফিকুন নবী

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৬:১১ পিএম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫ ১১:২৮ এএম

হামিদুজ্জামান খান।

হামিদুজ্জামান খান।

হামিদুজ্জামান খান আমার ছাত্র এবং পরে সহকর্মী। তার এই হঠাৎ করে চলে যাওয়া এটা ভাবাই যায় না। কারণ ও তো আমাদের অনেক জুনিয়র। আমরা আছি, হামিদ চলে গেল, এটা আমাদের জন্য বিশেষ করে শিক্ষকমণ্ডলী ও শিল্পী মহলে যারা সিনিয়র, তাদের জন্য খুবই শোকাবহ একটি ঘটনা ঘটল। কিছুদিন ধরে দেখছিলাম, কথাও হতো মাঝেমধ্যে। দেখা হলেই বলতাম, কী ব্যাপার! তুমি তো প্রায় অসুস্থ থাকো। একটু অসুস্থ, অসুস্থ মনে হয়! ডাক্তার দেখাচ্ছ? বলত, হ্যাঁ স্যার। এমনি ভালো আছি। ভালো আছি। এ রকমই বলত। কিন্তু আমার ধারণা হচ্ছিল ও ভেতরে ভেতরে বেশ অসুস্থ। যাই হোক। এটাই জগতের নিয়ম। চলে যেতে হবে। কেউ আগে, কেউ পরে। আমরা বড় একজন শিল্পীকে হারালাম।

হামিদকে তো আমি ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলাম। তখন আমি নতুন শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে আমি জয়েন করলাম চারুকলায়। তখন আর্ট কলেজ ছিল। সেই আর্ট কলেজে যখন শিক্ষকতায় ঢুকলাম ও তখন থার্ড ইয়ারে পড়ে। থার্ড ইয়ারে ওরা ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  আর্ট কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে গেল। আগে তো ডিগ্রিটা সরকারিভাবে দেওয়া হতো। ওরা ছিল প্রথম ব্যাচ, যারা সরাসরি ইউনিভার্সিটির অধীন থেকে ডিগ্রি পেয়েছে।

হামিদ ভালো ছাত্র। বেশ সারল্যে          স্বভাবের একটা চরিত্র আমাদের হামিদ। ও এত ভালো কাজ করত, যার কারণে ক্লাসের সবার প্রিয় ছিল। ১৯৬৪ সালের কথা বলছি। ৬৬ সালের শেষের দিকে। যাহোক সব সময় আমি ওকে ক্লাসে খুব মনোযোগী এবং বাধ্য ছাত্র হিসেবে দেখেছি। কখনও কোনোরকম অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা বা ফাঁকি দেওয়া দেখিনি। ফাঁকি দেওয়া ওর ধাতে ছিল না। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেওয়া ছাত্রদের এসব কমন ব্যাপার। আমরাও করেছি। কিন্তু হামিদ ও রকম ছিল না। খুব সিরিয়াস ছেলে। ওই ব্যাচটাই আসলে খুব ভালো ছিল। হামিদ, কালীদাস কর্মকার, বিনোদ দাস। এরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। মাহমুদা খাতুন (সনজিদা খাতুনের ছোট বোন) ওদেরই ক্লাসে পড়ত। সব ভালো ছাত্রছাত্রী ছিল। ওরা যখন ভর্তি হয়েছিল, তখন আমিও ছাত্র ছিলাম। ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। তার পর পাশ করে শিক্ষক হলাম। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামিদ চিরতরে এই চলে গেছে। এটা তার তিন নম্বর যাওয়া। একটু বিস্তারিত বলি। প্রথম হামিদ যখন হসপিটালে গেল সেটি খুবই আচমকা ঘটনা। মর্মান্তিক একা ঘটনা ঘটেছিল। সেই যাত্রায় ও বাই চান্স বেঁচে গেল। হঠাৎ করে খবর এলো যে রোকেয়া হলের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় হামিদ মারা গেছে। হাসপাতালে আছে। শুনে আমরা ছাত্র-শিক্ষক সবাই দৌড়ালাম। কী হলো! ভালো ছেলে। অদম্য মেধাবী স্টুডেন্ট। তার ঘটনায় আমার খুব অনুতপ্ত। খুবই শঙ্কিত। হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তাররা জানালেন, এখনও বেঁচে আছে। মৃত্যুর সঙ্গে  লড়াই করছে। তবে ওর মাথার প্যারিটালটা উড়ে গেছে। ভেতরে ব্রেন দেখা যাচ্ছে। এ রকম অবস্থা। সেই অবস্থায়ই ডাক্তাররা সেলাই করে দিলেন। আস্তে আস্তে সেরে উঠল হামিদ। এটা হলো প্রথম। সেটা আমার মনে আছে, কী ভয়ংকর একটা ট্রমা গিয়েছিল ওর। মৃত্যু থেকে ফিরে এলো। এরপর পাস করে বের হলো। একসময় শিক্ষকও হলো চারুকলার।

যদ্দুর আমার মনে আছে, সেই সময়ই জয়নুল আবেদিন স্যারসহ সবাই মিলে হামিদের মাথার প্যারিটাল লাগানোর ব্যাপারে সহায়তা করেছিলেন। তাকে লন্ডনে পাঠানো হলো। সেই হাসপাতালে নিউরোসার্জন হিসেবে ছিলেন ডাক্তার রশিদ উদ্দিন সাহেব। দক্ষ নিউরোসার্জন। তিনি এবং সবাই মিলে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হামিদের মাথার প্যারিটালটা জোড়া লাগিয়ে দিলেন। সুস্থ হয়ে ফিরে এলো। তার পর হামিদ বরোদা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা স্কলারশিপ পেল। সেখানে গিয়ে আবার মাস্টার্স করল। চারুকলায় ও তো পেইন্টিংয়ের ছাত্র ছিল। বরোদাকে গিয়ে সেই স্কাল্পচারের ওপর লেখাপড়া করল। তারপর আবার একটা বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় গিয়ে স্টাডি করল। ওর একচুয়ালি শুধু আর্ট কলেজ না আরও লেখাপড়ার প্রতি দারুণ স্পৃহা ছিল। যখনই সুযোগ পেয়েছে বাইরে গেছে। সেখান থেকে ভালো কিছু নিয়ে এসেছে। দেশে এসে তা কাজে লাগিয়েছে।

তারপর স্কাল্পচারের ওপরে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে এমন সুন্দর সব স্কাল্পচার এবং ড্রয়িং, পেইন্টিং করল। যেগুলো এখনও সবার মনে দাগ কেটে আছে। এটা ছিল হামিদুজ্জামানের শিল্পযাত্রার যে চলমানতা ছিল, সেখান থেকে নিজের কাজের ব্যাপারে একধাপ ওপরে উঠে গেল। চমৎকার কাজ করল স্কাল্পচারে। সেই থেকে ও কিন্তু ভাস্কর হিসেবে পরিচিতি হয়ে উঠল। তার আগে চারুকলায় আর্ট কলেজে যখন পড়ত তখন জলরঙে, ড্রয়িং, পেইন্টিংÑ এসবে ওর ভালো পারদর্শিতা ছিল। ভালো ছাত্র ছিল। পরে মাস্টার হওয়ার পর এসব তার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল। পরে চারুকলায় যখন স্কাল্পচার ডিপার্টমেন্ট খোলা হলো। তখন তাকে স্কাল্পচারের টিচার করা হলো। এই হলো হামিদের প্রথম জীবন।

এরপর তো প্রসিদ্ধ লাভ। অসংখ্য কাজ ওর। একটা কাজ পাগল ছেলে। আমি তাকে সব সময় ঠাট্টা করে বলতাম ওয়ার্ককোহলিক। যাকে বলে কাজের নেশা। ওর সাংঘাতিক কাজের নেশা। এ রকমটা সচারচর আমাদের দেশের শিল্পীদের মধ্যে ঘটে না। অত কাজ করার নেশা আমাদেরও নেই। এক হলো যে ইচ্ছে। আরেকটা হলো তার যে রুচি। সেটাকে কাজের মাধ্যমে সঞ্চারিত করা। তারপর কাজের ধরন-ধারণ। একসময় হামিদ রিয়েলিটিতে কাজ করত। তারপর সেখান থেকে সরে অ্যাবস্ট্রাকশনে গেল। তার প্রথম স্টাইলিজ কাজের মধ্যে সেটা হলো বঙ্গভবনের ‘পাখি পরিবার’। এটা তার অসাধারণ একটা কাজ। এ রকম আরও একটা কাজ আছে বারিধারা আমেরিকান অ্যাম্বাসির চৌরাস্তার মাঝখানে। এই যে কখনও পাথরে কাজ, কখনও সিমেন্টের কাজ, কখনও মেটালে কাজ, কখনও অ্যালুমিনিয়ামের কাজ। মানে মেটালের মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম তুলে দেওয়া। মেটাল বলতে লোহার শিক কেটে ফর্ম তৈরি করার কাজ। কী বলব এগুলো কিন্তু খুব কঠিন কাজ।

সে আমেরিকা নাকি কোথায় গিয়ে ওয়েল্ডিংয়ে কাজ শিখে এসেছিল। স্কাল্পচারে ওয়েল্ডিং করার যে ব্যাপারটা। আর্টের মধ্যে ওয়েল্ডিংটাকে কীভাবে করবে, এগুলো নিয়ে তার লেখাপড়া ছিল। শিখেছেও ভালো। সেটাকে এখানে এসে কাজে লাগিয়ে স্কাল্পচার করেছে। একেক সময় একেক ধরনের কাজ করেছে। কিন্তু দেখলেই বোঝা যায়, এটা হামিদুজ্জামানের কাজ। কাজের ওপর ও ব্যাপক নিরীক্ষা চালিয়েছে।

গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ করার সময় হামিদ আবদুর রাজ্জাক স্যারের সঙ্গে ছিল। স্যারকে সহযোগিতা করেছে। ওটাই ছিল আমাদের দেশে প্রথম বড় আকারে ‘রোড সাইড’ কাজ। বাসাবাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে স্যারেরা হয়তো করতেন। কিন্তু ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ প্রথম রাস্তার ধারের ভাস্কর্য। যাহাকে হামিদ ওখান থেকে সে রাজ্জাক স্যারের কাছ থেকে অনেক কাজ শিখেছিল। সিমেন্টের ডালাই দিয়ে কীভাবে কী করা যায়।

শিক্ষার প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল। শিল্পকলার যাবতীয় বিষয়ে আরও কী কী হতে পারে। কী কী করা যায়। এসব নিয়ে ওর পর্যবেক্ষণ ছিল। নিরীক্ষাপ্রবণ শিল্পী হামিদ। ওর ভাবনাই ছিল শিল্পকলা। সব সময় সেটাকে আবার এক্সকিউট করার চেষ্টা করেছে। এভাবে ও ধীরে ধীরে বড় শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেল। আমাদের বড় বড় যত স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। বিল্ডিংসের। বহু প্রতিষ্ঠিত জায়গাগুলোতে হামিদুজ্জামানের ফর্মের কাজ। বিভিন্ন ফর্মে করা স্টাইলিজের কাজ ব্যবহার হয়েছে।

এগুলো নিয়েই তার ব্যস্ততা। রাত-দিন কাজ করার স্পৃহা ছিল হামিদুজ্জামানের। অসাধারণ জীবনীশক্তি ছিল। এক কথায় চমৎকার। বলতামও আমি মাঝেমধ্যে তুমি এত কাজ করো কীভাবে! ওকে আমি দেখেছি। ছাত্ররা কেমন হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হামিদুজ্জামান। কখনও কাউকে অশ্রদ্ধা করতে দেখিনি। কোনো শিক্ষককে অমর্যাদা করতে দেখিনি। ছাত্রজীবনেরও না। পরবর্তীতে আমাদের যে সহকর্মী ছিল। আবার একসঙ্গে যে এত দিন কাজ করলাম, মানে যার যার ক্ষেত্র। সেখানেও হামিদকে দেখিনি কখনও কারোর সম্বন্ধে সমালোচনা করা। আড়ালে গিয়ে কাউকে নিয়ে কিছু বলা। কখনও এগুলো তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে ছিল না। এমনিতে ও কাজ পাগল হওয়ার কারণে অহেতুক সময় নষ্ট করেনি। আর তা ছাড়া এমনিতে ও তো সরল-সহজ। অহমিকা তো একদম ছিল না। কথাও বলত কিশোরগঞ্জের ভাষায়। এটা জয়নুল আবেদিন স্যারেরও ছিল। আবেদিন স্যারও সব সময় ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলতেন। বক্তৃতাও করতেন আঞ্চলিক ভাষায়। ওই একই ঘটনা হামিদের বেলায়ও। আমি হামিদকে বলতাম, মিয়া তোমার তো ভাষা আবেদিন স্যারের মতো। আমাদের শিল্পী মনিরুল ইসলামও কিশোরগঞ্জের ভাষায় কথা বলে। মনিরুলের বাড়ি চাঁদপুর। কিন্তু তার ছোটবেলা কেটেছে কিশোরগঞ্জে। এজন্য ওই ভাষাটি ছাড়তে পারেনি। যাহোক ওদিককার শিল্পীরা তো ওই ভাষাটা ছাড়তে পারেন না। ভাষাটা তাদের স্বভাবের সঙ্গে মিশে থাকে। আমাদের হামিদুজ্জামানও সেইখান থেকে সরেনি।

তার ভাষা, তার সারল্য। আবার রসিকও ছিল। মাঝেমধ্যে বেশ রসের কথা বলত। মানুষকে হাসাতে পারত ভালো। এটা সবাই জানে কি না জানি না। আমার সঙ্গে গল্প করতে ও খুব রস করে কথা বলত। ওর ধারণা ছিলÑ আমি কার্টুন আঁকি। হাস্যরসের ব্যাপারটা সহ্য করতে পারি। তাই আমার সঙ্গে হাস্যরস করত।

ওর হাস্যরসের একটা ঘটনা বলি। ও তো দেশ-বিদেশে গেছে। ইউরোপের বুলগেরিয়াতে ছিল। সাউথ কোরিয়াতে গিয়েছিল। এসব জায়গায় তার স্কাল্পচার আছে। বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে ওর ভাস্কর্য আছে। ওরা ওইখানে ক্যাম্পে স্কালপচার করাত। ওদের ম্যাটেরিয়াল দিয়ে দিত। ওসব তাদের বিভিন্ন রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিত। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। কোরিয়াতে স্কাল্পচার গার্ডেন আছে। সেখানে বিশাল একটা স্কাল্পচার আছে। সেই স্কাল্পচারে ছবি তুলেছে হামিদ। সেটা বাড়িতে নিয়ে আসছে। হামিদের তোলা স্কাল্পচারে সেই ছবির ফ্রেমে একটা মেয়েও দাঁড়িয়ে ছিল। সেটা নিয়ে একটা হাস্যরসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল। 

আমাকে এসে বলল, স্যার এই যে দেখেন ছবিটা। মূলত সেই স্কাল্পচারটা দেখানো উদ্দেশ্য। দেখে বললাম, হ্যাঁ, ভালো তো। হামিদ তখন বলল, না স্যার। এটার জন্য আমার বউ সাত দিন কথা বলেনি। বললাম কেন? ওর বউ নাকি বলছিল, তুমি ওইখানে গেছ স্কাল্পচার দেখার জন্য। ওইখানে মেয়ে এলো কোত্থেকে? তার আবার ছবিও তুলেছ! পরে হামিদ ছবিটা এনলার্জ করে দেখায়। ওটা আসলে হামিদের স্ত্রী আইভি জামানই ছিল। আইভি আসলে ভুলে গিয়েছিল। এই ঘটনাটি হামিদ খুব মজা করে বলেছিল। এ রকম ওর জীবনের নানান খুঁটিনাটি বিষয় এবং ঘটনা হাস্যরসের সঙ্গে বলত। একসঙ্গে বসলে গল্পচ্ছলে বলত। ও যে মজা করত তা কখনও বানিয়ে বলত না। এটা ওর ভেতরের সারল্যে থেকে উঠে আসত। সেটা খুব মজার হতো। আমার খুব ভালো লাগত ওকে। ওর কাজ যেমন ভালো লাগত কথাবার্তাও মজা লাগত। তবে ওর যেটা বড় দিক সেটা হলো যা করত সেটাতে সাকসেসফুলি করার চেষ্টা থাকত এবং সফলও হতো। যখন জলরঙে করত। জলরঙের যে মজা। জলরঙের যে স্বাদ। সেটা আনার চেষ্টা থাকত এবং সেটাতেও সে সফল। আবার একদিক দিয়ে যখন ড্রয়িং করছে, সে ড্রয়িংও যত সাকসেসফুলি করা যেতে পারে। সে ব্যাপারেও হামিদ যথেষ্ট সচেতন থাকত।

নিরীক্ষাধর্মী ড্রয়িংও আছে। এক্সপেরিমেন্টাল ড্রয়িংগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ লেআউট তার স্কাল্পচার। এগুলোও খুব মজার। আমি ওকে বলতামও। প্রসংশা করতাম। আমার খুব পছন্দের। সেটা সে বেশ আনন্দের সঙ্গে নিত। কোনো কিছু করতে গেলে আমার সঙ্গে আলোচনা করত। ভাবনা বিনিময় করত। হয়তো আরও অনেকের সঙ্গেই করত। হামিদ নতুন কিছু করলে বলত স্যার এটা কেমন হলো। 

মোটকথা শিল্পী হামিদুজ্জামান। যত বড়ই শিল্পী হোক। যত বড়ই হোক। আমার কাছে সে ওই কিশোর হামিদ। যাকে আমি ছাত্র হিসেবে পেয়েছিলাম। ওইটাই আমার কাছে থেকে রয়ে গেছে। চিরকাল ওইটাই কিন্তু ওর স্বভাবেই রয়ে গেছে। তখনও যেমন দেখেছি। যখন মারা গেল তার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার তারুণ্যেটাই ধরে রেখেছে। হামিদের সফল জীবন। সবদিক থেকে। সন্তানদি আছে। প্রতিষ্ঠিত সংসার; যা যা করা দরকার। সবই করেছে হামিদ। শুনলাম একটা জাদুঘরও নাকি করেছে। নিজের কাজ নিয়ে একটা সংগ্রহশালাও করেছে কিশোরগঞ্জের নিজের বাড়িতে। সবকিছু মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ সফল শিল্পী। দেশের বড় শিল্পী। নামকরা শিল্পী। তার এই যে অন্তর্ধান। এটা আমাদের আর পূরণ হবে না। আরেকজন যদি ভালো কাজ করে কখনও। এ রকমভাবে। একই রকমভাবে। সেটা তার নাম হবে। কিন্তু হামিদুজ্জামান হামিদুজ্জামান। হামিদ তার কাজের দিয়ে বেঁচে থাকবে। শারীরিকভাবে চলে গেল। কিন্তু তার কাজের মাধ্যমে থেকে যাবে। আমার কাছে সব ছাত্রই প্রিয়। তার মধ্যে হামিদ অন্যরকম। বিশেষ। বিশেষ জায়গায় সে আছে।

শ্রুতি লিখন : হাসনাত মোবারক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা