ধানসিড়ি
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৩ পিএম
বর্ষার সরোদ
সারওয়ার-উল-ইসলাম
টুপ টুপ ঝরে যায় বর্ষার আকাশ
জানালার পর্দা ওড়ায় হালকা হাওয়া,
ও বাড়ির ছাদে ভেজে চঞ্চল কিশোরী
ভেজা ওড়নায় জ্বরাক্রান্ত কিশোরের
চোখ,
জ্বরের পারদ নামে একশর নিচে।
একটা শালিক নাড়ে ভেজা ডানা দুটি
দূরে কোথাও ওস্তাদ আমজাদ আলী খান
সরোদ বাজাচ্ছেন, কে রাখে খবর!
নূরের
পাথর
নিলয়
রফিক
ঠোঁটগুলো লালে লাল বাসন্তী উৎসব
গানে-নৃত্যে স্বপ্নঘোর সবুজ সৌরভ
সাহসে পাথরে ঝড় নতুনের ডানা
একচোখা উইপোকা তছবির দানা।
চেহারাজুড়ে চিৎকার অন্ধের আয়না
নজরে শব্দভাবুক মেঘের গহনা
নদীতে আগুনঢেউ মুখোশে ধনুক
সৃজনে বীজতলায় ফসল উঠুক।
পবিত্র রজনি ঘ্রাণ, মায়াময় দিন
ভরাডোবা হৃদপাড়া বালুখালী টান
জোড়াপাহাড়ে পাঁজরে, আজিজ ফকির
দুকবি প্রার্থনায় নত, নূরের পাথর।
নিখোঁজ ক্যানভাস
সীমান্ত হেলাল
এই মৃত্যুর মিছিলে আমি এক নির্বাক দৃশ্য মাত্র
পেন্ডুলামে ঝুলে আছি স্থিরচিত্রের মতো-
সবাই গায়ে মাখানো বর্ণিল রঙ দেখছে
ভেতরে ভেতরে কতটা-ভিজে নাজুক হয়ে আছি
তা দেখে না কেউ
অজস্র রঙের কারুকাজে প্রচ্ছদে ঢাকাপড়া
আমি এক নিখোঁজ ক্যানভাস...
পাখিশুমারিÑ দুই
সারোক শিকদার
গাছেরা মূলত নীড়মন্ত্র
শিখিয়েছে পাখিদের
স্থবির অবসাদের সঙ্গী
খুঁজতে গিয়ে-
নইলে, যে আকাশ আজও অস্পৃশ্য
শিরোপার
অহংকার নিয়ে দূরাচলে
অসম্ভব বাস্তব
তাকে পরাভূত করতে এই
সব পাখিরাই
যদি তারা গাছেদের আশকারায়,
কৌশলের প্রশ্রয়ে
উদ্ভিদের পরিত্যক্ত
কঙ্কালে সঞ্চয়ী হিসাবের মোহে
উড়ে উড়ে বহু আকাশের
ঘামের গন্ধের কাছাকাছি
পৌঁছেও ফিরে না আসত,
নিজের ক্লান্তির কাছে
মায়া আর নিরাপত্তার
নকশি আলোয় পাখিদের
ডানা যদি নির্মোহ হতো,
যদি তার গোপন ব্যথার
কথা না জানতে গাছেদের
ঋতু,
তবে তারা ফিরত না বরং
ফেরারি হতো।
পাখিদের আশ্রয় যদি অন্য
পাখিটি
পাখিদের মাথা যদি বিনয়াভারে
ভূপৃষ্ঠমুখী নয়
তারা যদি সকল বিষাদ
মুছে নিত মেঘে
নিশ্চয় ঐ আকাশ নত হতো
প্রকৃত উড়ালে।
তালপাতায় দেবী প্রজ্ঞাপারমিতা
মিসির হাছনাইন
তোমাকে পাল যুগের চিত্রকলা তালপাতার পুঁথিতে
লিখছি... দেবী প্রজ্ঞাপারমিতা। যে লিপি হাতে লিখে
শ্রীতাড় হারিয়ে গেছে, বুক নদীতে ডুবে থাকা আঙুলে
সহস্র বছর আমি শুধু তোমারে জড়িয়ে ধরি, তুমি হাসছ
কেয়া মল্লিকা ফুলে… দেখো, পূজার ফুল গাইছে
জোৎস্নাভাঙা গান।
আর যে তাকিয়ে থাকতে পারি না, চোখ পুড়ে যায়
চোখের পলক মৎস্যদেবী এই যে তোমার চলে যাওয়া পথে
তালপাতার বাতাসে সুউচ্চ তুমি নেচো ওঠো হৃদয়ের গালিচায়
যে কষ্ট বুকে লয়ে বেঁচে থাকার সব সৌন্দর্য আয়ত্ত করেছ
তালপাতার সে ডানা তুমি পেয়েছিলে, এঁকেছিলে নিগূঢ় চিত্রকর্ম
বিষণ্নতায় পুড়ে যাওয়া চোখ নোনাপানির প্রবাল সমুদ্র দ্বীপ
সহস্র বছর তোমারে লিখিÑ বেঁচো থাক দেবী প্রজ্ঞাপারমিতা
শিমুল ফুলের বাংলা অক্ষরের নরম সুতায় সাজানো গোছানো
তোমাকে পাওয়ার পর আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই পৃথিবীতে