মতিন রায়হান
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫ ১২:০৭ পিএম
ঈদেচাঁদে নাড়ির টানে মানুষ বাড়ি ফেরে
আমি কখনো কখনো ব্যস্ত রাজধানীকে
ফাঁকি দিয়ে
বাড়ির পথ ধরি, পথে যেতে যেতে
মনে হয়
আদৌ কি আমি বাড়ি ফিরি! নাকি
বাড়ির একটি মেটাফর
আমাকে নিয়ে, আমার ইমোশনকে নিয়ে
পায়ে পায়ে
খেলতে থাকে! কখনো কখনো মনে
হয় বাড়ির পথেই
আমি অনন্তকাল ছুটে চলেছি...
এই যেমন ঈদ উপলক্ষ্যে এবার,
এবার বলছি কেন
আজই তো, আজই-বা কেন বলি, এই
মুহূর্তে
ঢাকা ছেড়ে খুলনার পথে ছুটে
চলেছি
গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি ডবল
ডেকার বাস
দোতলার একেবারে পেছনের জানালার
পাশের
একটি সিটে বসে অস্পষ্ট কাচের
মধ্য দিয়ে দেখলাম
চরসঙ্কুল জলস্থির পদ্মা নদীকে
বর্ষার এই প্রমত্তা নদীটিকেও
আজ মানুষ বেঁধে ফেলেছে
সুদৃঢ় পাথরবন্ধনে!
কী দৃষ্টিনন্দন এই সড়কসেতু!
ঠিক যেন ইতিহাসখ্যাত কোনো মানব-মানবীর
প্রণয়কে
একসূত্রে গ্রথিত করেছে কতিপয় দক্ষ প্রকৌশলী!
এ কালের প্রকৌশলবিদ্যা বড়ো
ক্ষমতাধর!
কিন্তু আমাদের এই প্রকৌশলশক্তি
কি তারুণ্যের
ভেঙে-পড়া দুটি হৃদয়কে জোড়া দিয়ে ঝাঁ চকচকে
একটি সেতু রচনা করতে পারে? কী জানি!
এরকম একটি প্রশ্ন রেখে আমি
বরং জাহানাবাদের কথাই আজ বলি :
মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা
খান
মুঘলসম্রাট শাহজাহানের সম্মানার্থে
খুলনা অঞ্চলকে
ডাকতে শুরু করেন ‘জাহানাবাদ’ নামে;
এর বহুকাল পর একই নামের একটি
দ্রুতগামী ট্রেনও আজ
রাজধানী ঢাকাকে খুলনার সঙ্গে
বেঁধে ফেলেছে সাড়ে তিন ঘণ্টার দূরত্বে
বাগেরহাটের হজরত খান জাহান
আলীর সমাধি, ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে
আজকাল দিনেদিনেই ঢাকায় ফিরে যাওয়া যায়!
আর দুয়েকদিন হাতে নিয়ে এলে
ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন
আপনাকে তো স্বাগত জানাবেই,
ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে
রয়েল বেঙ্গল টাইগারও ধরা দেবে
ডোরাকাটা রূপে!
পদ্মা সেতু কী সহজ করে দিয়েছে
এই সড়ক যোগাযোগ!
আচ্ছা, বলুন তো এই যে রূপসুন্দর
দেখাদেখি
মানুষকে মূলত কোথায় পৌঁছে
দেয়?
জানি, আপনারা এখানে হয়তো নন্দনতত্ত্ব
হাজির করবেন;
তা করতেই পারেন, এতে আমার কোনো
আপত্তি নেই!
কিন্তু আমি জানি, এই জগতের
রূপসুন্দরকে আড়াল করে
দাঁড়িয়ে আছে বহু স্বৈরশাসকের আকাশচুম্বী
দম্ভ ও ভূখণ্ডলিপ্সা!
ওরা নিজেদের মতো করে তৈরি করতে
চায়
একেকটি অন্যায্য মানচিত্র!
যে মানচিত্রের অন্ধকারে ক্রন্দনরত
অগণন রক্তাক্ত শিশু!
আর অসহায় নিরপরাধ মানুষের
ফিলিস্তিন ইয়েমেন লেবানন ও ইউক্রেন
আমি আর ভাবতে পারছি না!
এই নৃশংস মনুষ্য-পৃথিবীর বিরুদ্ধে
আমি কোথায় দাঁড়াবো?
আমার আসন্ন ঈদ ডুবে যায় গাজার
বিস্তীর্ণ উপকূলে!
আমার চোখে ভাসতে থাকে শুধু
ফিলিস্তিনের রক্তাক্ত শিশুকুসুম
আমি ডুবে যেতে থাকি আরব সাগরের
গহিন অতলে...
আজ কে আমাকে উদ্ধারের গল্প
শোনাবে?
আমি আবারও স্বপ্নময় পৃথিবীর
গল্পে উঠে দাঁড়াতে চাই
মানবসম্প্রদায়ের মোহন-শোভন
বিস্তৃত ডাঙায়!
২৯.০৩.২০২৫