এস. এম. ইমদাদুল হক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:১৮ পিএম
‘যুবক যেখানে যেমন’ বাংলা ভাষার প্রথম এআই রচিত উপন্যাস। মাত্র পাঁচ দিন ৮ ঘণ্টায় এটি গ্রন্থনা করেছেন ড. মাহফুজ শামীম। এআই ইঞ্জিনে প্রম্পট লিখে তিনি সম্পর্কের গভীরতা এবং বাস্তব ও কল্পনার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ২২-৩০ বছর বয়সি এক যুবকের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। তার চারপাশের মানুষের মানসিক জটিলতা ও সামাজিক টানাপড়েনে গল্পের ভেলায় উপন্যাসটির ব্যাপ্তি ঠেকেছে ১০ ফর্মায়। কেন্দ্রীয় চরিত্র অনিক। তার স্বপ্ন একজন প্রকৌশলী হওয়া। কিন্তু তা নিয়ে পরিবারের চাপে পড়ে যায়। তার মা-বাবা এবং বড় ভাই তাকে এক স্থিতিশীল ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, কিন্তু অনিক নিজের স্বপ্ন ছাড়তে চায় না। মা-বাবা এবং বড় ভাই চায়, সে যেন পরিবার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়। কিন্তু অনিক নিজের স্বপ্নের সঙ্গে আপস করতে চায় না। পারিবারিক প্রত্যাশা বনাম নিজের ইচ্ছার দ্বন্দ্ব তাকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলে দেয়।
এভাবেই উপন্যাসে এআইয়ের ভাষাগত দক্ষতা ও মানবিক আবেগের সংমিশ্রণে জীবনের বাস্তবতা ও কল্পনার টানাপড়েন, সমাজের চাপের বিপরীতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব এবং একজন যুবকের আত্মোন্নয়নের যাত্রা তুলে ধরা হয়। অনিকের মতো যুবকদের দীর্ঘশ্বাস, আত্মোপলব্ধি প্রকাশে চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি জেমিনি ও কো-পাইলট ব্যবহার করেছেন লেখক। তবে উপন্যাসে প্রেমের বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে এড়িয়ে গেছেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন লেখক। এআই ও নিঃসঙ্গতা বিষয়ে জানতে চাইলে বললেন, ‘সাহিত্য আড্ডা দিয়ে আপনি হয়তো একসঙ্গে ১০ জনের সঙ্গে ভাবনা ভাগ করতে পারতেন আর এখন এআই দিয়ে একসঙ্গে ৬০০ কোটি মানুষের ভাবনার অংশীদারি পাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এসে তার ধরনটাই পাল্টে দিয়েছে। থিয়েটার-আড্ডা কমেছে। একদিন অবশ্যই এআই সাহিত্য সাধনায় নতুন কোনো পথ রচনা করবে।’
বাংলা সাহিত্য পড়ে কীভাবে এআইয়ের প্রতি আগ্রহী হলেন সে গল্পটাই জেনে নিই লেখকের ভাষায়, ‘উচ্চমাধ্যমিকের পর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েও শুধু সাহিত্যের অনুরাগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হই। বাংলা সাহিত্যে সম্মান ও মাস্টার্স করি, ১৯৯৮-২০০৩ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০০০ সালে আমার প্রথম উপন্যাস নিউরোনিক শূন্যতা এবং ২০০২ সালে একটি মহাপ্রলয়ের ভূমিকাংশ অথবা প্রবাস্তবতার উপাখ্যান প্রকাশিত হয়। ওই সময়ই সাহিত্যে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির চিন্তাটা মাথায় আসে। আমার সমন্বিত বিষয় ছিল কম্পিউটারবিজ্ঞান। সম্মান তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কম্পিউটারবিজ্ঞান পড়ার সময় প্রোগ্রামিং শিখি। মনে হতো, প্রোগ্রামিং দিয়ে কী কী করা সম্ভব আর বাংলা ভাষায় সেটা কীভাবে কাজে লাগানো যায়! যা হোক, তখন তো আর এআই ছিল না। বলতে পারেন, অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবে এ লেখার চিন্তা। আসলে আমি সব সময়ই নিরীক্ষাপ্রবণ। যেমন এ জীবনে কোথাও পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করিনি। পাঁচ বছর শিক্ষা ক্যাডার, পাঁচ বছর প্রশাসন ক্যাডার, এরপর ইউএনডিপি, পিকেএসএফ। আর এখন বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে আইসিটি বিভাগের বিসিসির অধীনে এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি প্রকল্পের কো-লিড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’