× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ

প্রাপক আহমদ ছফা

সংগ্রহ ও সম্পাদনা : নূরুল আনোয়ার

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩১ পিএম

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩১ পিএম

প্রাপক আহমদ ছফা
সংগ্রহ ও সম্পাদনা : নূরুল আনোয়ার
ধরন : চিঠিপত্র
প্রকাশক : খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

প্রাপক আহমদ ছফা সংগ্রহ ও সম্পাদনা : নূরুল আনোয়ার ধরন : চিঠিপত্র প্রকাশক : খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ


এক

মহাপরিচালক

বাংলা একাডেমি

২০ মে, ১৯৯২

জনাব আহমদ ছফা

১৮ পরীবাগ, ঢাকা।


বিষয় : সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ১৯৯২।


প্রীতিভাজনেষু,

অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাই যে, বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালের সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কারে আপনাকে ভূষিত করেছে। আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই এবং আপনার সৃষ্টিমুখর দীর্ঘ স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জীবন কামনা করি।

৩০ মে, ১৯৯২ বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আপনাকে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কারের দশ হাজার টাকা ও সনদ অর্পণ করা হবে বলে স্থির করা হয়েছে। আশা করি ওই তারিখ ওই সময়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে আপনার অসুবিধা হবে না।

প্রীতি ও শুভেচ্ছাসহ

মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ

মহাপরিচালক


[মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ : বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক।]


দুই

বাংলা একাডেমি

৩০ মে, ১৯৯২

জনাব আহমদ ছফা

১৮ পরীবাগ, ঢাকা।

জনাব,

২৮ মে, ১৯৯২ তারিখের ‘ভোরের কাগজ’ পত্রিকায় ‘সংস্কৃতি সংবাদ’ বিভাগে ‘আমাকে কেন পুরস্কার দিল’ শিরোনামে বাংলা একাডেমি কর্তৃক আপনাকে ১৯৯২ সালের সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের বিবরণে প্রকাশ, আপনি প্রতিবেদককে বলেছেন, “আমি বাংলা একাডেমিকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু একাডেমির লোকজন অদ্ভুত জীব। মদ সিগারেট না খাওয়ালে ওরা পুরস্কার দেয় না। আমি তো তা করিনি। তবু কেন ওরা আমাকে পুরস্কার দিল?”

বাংলা একাডেমি সম্পর্কে এটি গুরুতর অভিযোগ, যা তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে। অতএব আপনি সত্যি সত্যি এ ধরনের কোনো উক্তি করেছেন কি না, তা প্রত্যায়ন না করা পর্যন্ত আমাদের পক্ষে তদন্তকার্য হাতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা কামনা করি।

                                           ভবদীয়

মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ


সংলগ্নী :

‘ ভোরের কাগজ’ পত্রিকার উক্ত প্রতিবেদনের ফটোলিপি

‘ ভোরের কাগজ’ পত্রিকার সংবাদ :

“এম. আর. আখতার মুকুলের পিতার নামানুসারে বাংলা একাডেমি যে পুরস্কার প্রদান করেন সে পুরস্কার এ বছর পেয়েছেন আহমদ ছফা। এ ব্যাপারে তাঁকে অভিনন্দন জানাতেই বললেন, ‘অভিনন্দন ফিরিয়ে নাও, কারণ আমি ওই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করব। ওরা যদি আমাকে একটা বক্তৃতা দিতে দেয় এবং তা ওদের কাগজে ছাপে তাহলে পুরস্কার নেব, নইলে নয়। বাংলা একাডেমি মায়ের মতো, আমি বাংলা একাডেমিকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু বাংলা একাডেমির লোকজন অদ্ভুত জীব। মদ সিগারেট না খাওয়ালে ওরা পুরস্কার দেয় না। আমি তো তা করিনি, তবু তারা আমাকে কেন পুরস্কার দিল?”

সূত্র : ভোরের কাগজ, ঢাকা। বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৩৯৯, ২৪ জিলকদ, ২৮ মে ১৯৯২


[মহাপরিচালক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদের চিঠির জবাবে আহমদ ছফা একটি চিঠি লিখেছিলেন। এ বইয়ে আহমদ ছফাকে লেখা নানাজনের চিঠি সংকলিত হয়েছে। তথাপি আহমদ ছফাকে দেয়া সা’দত আলি আখন্দ পুরস্কারকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তারই পূর্বাপর ঘটনার পূর্ণতা দেয়ার জন্য খানেকটা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিচের চিঠিটা সংযুক্ত করা হলো।]

 

তারিখ : ৪ মে, ১৯৯২

মহাপরিচালক

বাংলা একাডেমি

ঢাকা।


প্রিয় মহোদয়,

আপনার পত্রের উত্তর লিখছি। আমার যতদূর মনে পড়ে, সা’দত আলি আখন্দ পুরস্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে নাÑ এ মর্মে একখানি শালীনপত্র আপনার দফতরে আমার তরফ থেকে জমা দেয়া হয়েছিল। আমি আপনাদের আরও জানিয়েছিলাম, এই প্রত্যাখ্যানের সংবাদটি আমি খবরের কাগজে প্রকাশ করব। এতদিনে আপনি নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন, ওই কর্মটিও আমি করিনি। কারণ, এত সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কাগজে সংবাদ সৃষ্টির ব্যাপারটি আমার কাছে উৎকৃষ্টকর্ম মনে হয়নি।

এখন ‘ভোরের কাগজে’ প্রকাশিত প্রতিবেদনটির কথায় আসি। আমি উদ্যোগী হয়ে ওই পত্রিকায় কিছু বলিনি। একটি গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যেতে হয়েছিল। সেখানে জনাব সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল আমার সঙ্গে পুরস্কারের ব্যাপারে আলাপ করেছিলেন। তিনি যে সংবাদপত্রের লোক সেই ব্যাপারে আমি কিছু জানতাম না। তথাপি সংবাদপত্রে আমার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি যখন প্রকাশিত হয়েছে, আমার বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে কিছুটা হেরফের ঘটে গেলেও বক্তব্যের মর্মার্থের দায়দায়িত্ব আমি অস্বীকার করব না।

এই সংবাদ যেদিন পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল, সেই সকালে বাংলা একাডেমির একজন কর্মকর্তা (জানিনে স্বীকার করবেন কিনা) আমাকে খুব গালমন্দ করলেন। তার পরদিন পেলাম আপনার চিঠি। কী সৌভাগ্য, বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। ইতোমধ্যে আমার ব্যাপারে আপনারা একটা মতলব ঠিক করে বসে আছেন।

আমার বক্তব্যে আমি বাংলা একাডেমিকে মাতৃসম্বোধন করেছিলাম। বাংলাদেশে লেখক নামধারী এমন মানুষও আছে যারা দেশের বাইরে গিয়ে বাংলা একাডেমির নামে অনেক নিন্দেমন্দ করছে। পত্রপত্রিকায় সে সংবাদ ফলাও করে প্রকাশও হয়েছে। স্বদেশে কাগজে প্রবন্ধ লিখে বাংলা একাডেমিকে গোশালা বলে উল্লেখ করেছে। আমার জানা মতে, বাংলা একাডেমি তাদের কাছে কোনো কৈফিয়ত তো তলব করেনি, বরঞ্চ সম্মান শিরোপা প্রদর্শন করে সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। আমাদের দেশের কোনো দৈনিক সাপ্তাহিকে হালের মহাপরিচালকের নামে সম্প্রতি বিশ্রী, অশোভন অনেক মন্তব্যই করা হয়েছে। একাডেমির কর্ণধারেরা একটিও প্রতিবাদের বাক্য উচ্চারণ না করে সর্বংসহা ধরিত্রীর মতো অম্লান বদনে সবকিছু সহ্য করে গেছেন। আমি নিজে থেকে আগ্রহী হয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করিনি, সেই তুচ্ছাতিতুচ্ছ ব্যাপারটি নিয়ে এতবেশি সম্মান সচেতন হয়ে উঠে আমার প্রতি অনুগ্রহবর্ষণ করতে এগিয়ে এলেন, সেই ব্যাপারটিই আমাকে সর্বাধিক বিস্মিত করেছে।

মানুষের কীর্তি পাথরের চেয়ে অধিক পরিমাণে ভারী। কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাময়িক ক্ষমতার জোরে অন্ধ হয়ে যত রকমের কুতর্কের কুজ্ঝটিকা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করুন না কেন, সেগুলো কীর্তিমান মানুষের মর্যাদা কখনও খাটো করতে পারে না। নিজের মুখে বলতে একটুখানি অশোভন শোনালেও বলব, অল্পস্বল্প কীর্তিস্থাপনের কলঙ্ক বলুন, গৌরব বলুন আমার রয়েছে। আমার সুহৃদবর্গ গুরুজনেরা এবং দেশে বিদেশের গুণবানজনেরা অনেকবার আশ্বস্ত করেছেন, আমার কর্মের নন্দনতাত্ত্বিক মূল্য একেবারে অকিঞ্চিৎকর নয়। কথাগুলো এ কারণেই বললাম, আপনাদের সমগ্র তৎপরতাটির মধ্যে আমি একটা শত্রুতার গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি।

উপসংহারে আরও দু চারটি কথা বলে আপনার পত্রের উত্তর আমি শেষ করব। আপনাদের মনে কি আছে জানিনে, তথাপি যখন বলেছেন, একাডেমির মধ্যে সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টির স্বার্থে একটা তদন্তের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন, সেটাকে আমি আপনার আন্তরিক সৎ অভিপ্রায় হিসেবে ধরে নিচ্ছি। বাংলা একাডেমির সব ব্যাপারে একটা নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া খুবই প্রয়োজন। দেশের একজন নাগরিক এবং সমাজ সচেতন লেখক হিসেবে এটা আমি মর্মে মর্মে অনুভব করি। আপনি বোধকরি অনেকাংশে আমার সঙ্গে একমত হবেন, একাডেমির ভাবমূর্তি সাম্প্রতিককালে গ্লানিমার আড়ালে ঢাকা পড়েছে। অসুন্দর, অমঙ্গল, দলীয় সংকীর্ণতা এবং কোটারিবদ্ধতার শক্তি বর্তমানে একাডেমির যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের শিল্প সংস্কৃতির বিকাশে তার ফল ভালো হতে পারে না, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে একাউন্টিবিলিটি তথা দায়বদ্ধতার প্রয়াস সৃষ্টির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়াটি একাডেমিতেও অনতিবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন। বাংলা একাডেমির মতো মহতী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে একাডেমিকে জঞ্জালমুক্ত করতে আপনি সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন আমরা আপনাকে সাধুবাদ দেবো। আপনারা তদন্তের উদ্যোগটি কখন গ্রহণ করতে যাচ্ছেন এবং কমিটিতে কারা থাকবেন জানালে আমার সাধ্যমতোই আপনাকে সাহায্য করব।

ধন্যবাদান্তে

বিনয়াবনত

আহমদ ছফা


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা