বেগমফুল
হাসনাইন হীরা
আর কেউ নেই, কবিতা আছে
কবিতা আমার বেগমফুল
অপরাহ্ণের মতো ভাব ধরে থাকে।
মাঝে মাঝে ডাকে
মাঝে মাঝে এড়িয়ে যায়।
এর মধ্যেই আমি তার কাছে যাই
হাত ধরে বসে থাকি, মন ধরে কথা কই
যার সুগন্ধি গুঁড়ো করা আভায় শ্বাস নিই আর
পার হই পিপাসার নদী।
শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে,
অভিযোগ তো অস্তগামী ছড়াগান
যার ঝাপসা তরঙ্গ থামিয়ে আরো কিছুক্ষণ স্বপ্নযুদ্ধ করি
ঠোঁটের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলি ঠোঁট,
গোপনীয়তার মার্জিন ভেঙে
পাখিবাদী সকালের কাছে কবিতাবিষয়ক
কথা বলে আসি মানুষের মফস্বলে
বজ্রের মতো ছড়িয়ে পড়ে পাখিবিষয়ক কবিতা।
অতঃপর মর্মান্তিক দুপুরের দিকে হাঁটি,
দেখি আর কেউ নেই, কেবল কবিতা আছে
কবিতা আমার বেগমফুল সাদা নীলিমার মাটি।
ছল কিংবা ছায়া
খালেদ চৌধুরী
মেয়েটি বধূ সাজবে বলে সম্মতি দেয় আবার দেয় না
প্রস্ফুটিত গোলাপের অপেক্ষা সুন্দর কি না জানি না,
তবে উৎকণ্ঠার মেঘ আমার আকাশে ঘুরপাক খায়।
তাকে আবার সবকিছু খুলে না-বললে বোঝে না;
আমি উজ্জয়িনীপুরের কালিদাস নই যে মেঘ পাঠাব
আমার কৃষ্ণের মতো এত গোপিনীর দরকার নেই।
মন যে চায় না তা আবার বলি কেমন করেÑ
প্রায় সময় মনে হয় তাঁর কররেখায় একটা ফুল আঁকি
বেণি টেনে চুল এলোমেলো করে দিই আবার সাজাই
বাঘকে বাধ্য করি একটা দিনের জন্য ঘোড়া হতে
আমার কথাকলি সামান্য কিছু সময় চড়ে বেড়াবে,
এক চক্কর ঘুরবে উত্তরের পাহাড়ে অথবা বাঁশবনে।
এই যে এত এত ছল কিংবা ছায়া, ইনিয়ে বিনিয়ে বলা
ভালোবাসা জন্মান্তরের কোমল আহ্বান ছাড়া আর কী?