× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতীক্ষা

ফার‍ুক মাহমুদ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩৬ পিএম

প্রতীক্ষা

আকাশ কুড়িয়ে রাখি, একদিন কাজে এসে যাবে

জীবন জমিয়ে রাখি, একদিন আলোধর্ম হবে


অবজ্ঞা ও বঞ্চনার যতকিছু ডালপাতা আছে

শীতের আড়ষ্ট রাতে, এরাই তো শুভ্র-স্বচ্ছ হয়--

ধ্রুপদী উত্তাপধ্বনি। আগুন, সে, নিজেকে পোড়ায়


তারপর মোহমুক্তি। জৈবকাল উদযাপিত হলে

ফোটে বটে। সত্য হলোÑ সব কলি হয় না কুসুম


মনের সান্নিধ্যে রাখো সকালের যত সম্ভাবনা...

অদূরে, আসন্ন যারাÑদেখুক-না পরাজিত কালে

প্রেমের হৃদয় কেন অবিরত মন লিখে যায়


হে প্রতীক্ষা, আঁট করে ধৈর্যকে ধরো। সময় গোন 

দেখা যাক, পাখিগীতি ওড়ে যদি আগামী আকাশে


তোষামোদ

গোলাম কিবরিয়া পিনু


নিজের প্যাঁচে নিজে পড়ে যাচ্ছি!

এতগুলো দেওয়াল দিয়ে

 নিজেকে ঘিরে রেখেছি,

কীভাবে নিজেকে মুক্ত মানুষ বলি!


আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি?

আমি আমাকে চিনতে পাচ্ছি?


আমার পতন ঠেকাতে কোনো ঠেকনা দিতে পারিনি!

বদনার জল দিয়ে বদনাম ধুয়েমুছে ফেলতে পারিনি!


বারদুয়ারি ঘরে গিয়ে

বারবনিতার নাচ দেখতে দেখতে সময় চলে গেল!

নিজের নদীর মোহনায় অবস্থিত

 বদ্বীপে দীপ জ্বালাতে পারলাম না!


নিজেকে এতটা তোষামোদ করেছি যেÑ

তোশক ও বালিশের সখ্য নিয়ে শুধু থাকলাম,

 বায়ু পরিবর্তন আর হলো না!


পার্সিয়ান বিড়াল

বুলান্দ জাভীর


তুমি মণিমুক্তা খচিত পার্সিয়ান বিড়াল নও

যে তার সঙ্গী হবে।

তুমি এক অভিজাত ইঁদুর মাত্র।


সে একজন উঁচুমানের শিকারি

দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে শিকার নির্বাচন করে

তারপর প্যালেসের ঝুলন্ত বারান্দা থেকে

অনাদি অনন্ত অপলক

লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকে

যেন ডেকের ওপর

পূত পুরোহিত

দূরবীক্ষণ যন্ত্রে দ্বীপ দেখে

বসতে দেখে।


তারপর বিন্দুকে কেন্দ্র করে

একটি কাল্পনিক ঘের তৈরি করে

সন্তর্পণে একবারেই নিঃশব্দে এগিয়ে যাবে।


সে এত সতর্কতার সাথে

মোহজাল বিস্তার করে

নিজের অজান্তে মোহগ্রস্ত হয়ে

নিজেকে আরেকটি পার্সিয়ান বিড়াল

ভেবে সঙ্গলাভের তৃষ্ণায় বিভোর হয়ে যাবে।


আমি কি গ্রিক নাবিক জেসন হয়ে

জাদুকরী সোনালি ফ্লিসের আচকান

ক্লাইসোমাল্লোস তোমাকে পরিয়ে দেব

যাতে করে জাদুর ছোঁয়ায়

পার্সিয়ান বিড়াল হয়ে

তার সমান হতে পারো।


পাঠিও হোয়াটস্‌অ্যাপে
রেজা ফারুক

তুমি যে আমাকে ভালোবাসার
প্যাকেজ অফার করেছিলে
তার কী হবে?
কবে, কোথায় কখন বৃষ্টি নামবে
রেইনকোট পরে থাকবে বসে
তোমার ঝাপসা বাড়ির ছায়া
ওই ছবিটা তুলে পাঠিও হোয়াটস্‌অ্যাপে!

একদিন রোয়াকের ফ্ল্যাপে বসে
আমাকে যে তুমি পাখিদের গল্প শুনিয়েছিলে
রোঁয়াঝরা নদী আর বিকেলের আবছা ককপিটে
ঝরিয়েছিলে ধু-ধু লাল কুজ্ঝটিকা আর
ফরেস্ট হিলের কাছে ছিলে বসে
যেন এক শৈলশহর
সেসব গল্প রেখো এঁকে রঙজ্বলা মেঘের ক্যানভাসে!
তুমি যে আমাকে নীল বৃষ্টির কার্নিভাল
থেকে ফেরা
লক্ষ্মীট্যারা রোদের ওয়্যারে মোড়া
দূরতম কোনো এক স্বপ্নের কথা বলেছিলে
সেসব কি ছিল শুধুই কথার কথা
অগত্যা এইমাত্র এসে তোমার বাংলোর গেটের কাছে
থেমেছে পর্যটন ব্যুরোর ব্লুঅ্যাশকালারের কার
তুমি কি বেরুবে এখন
নাকি থাকবেই বসে খুব চুপচাপ,
অফহোয়াইট হুহু কার্নেশন!


জতুগৃহে গুমখুন
আসিফ নূর

গহিন অরণ্যে ওরা গোপনে ডেকেছিল মৃগয়ায়,
দ্রুতচর অশ্বযোগে একা পৌঁছে দেখি কেউই নেই!
আচমকা একটা উড়াল জালে আমি বন্দি হলে
আমাকে ঘিরে নেচে উঠল উল্লাসফাটা জংলির দল।

জঘন্য জখমে মুমূর্ষু আমার জ্ঞান ফিরতেই বুঝি,
যেই গুমখুনঘরে পড়ে আছি হাত-পা-মুখ বাঁধা;
গালার দেয়াল তার ফাঁকে ফাঁকে বারুদের খুঁটি।

একটু পরেই সেই জতুগৃহের চারদিক থেকে
একসাথে লাগানো হলো জিঘাংসু মশালের আগুন,
সবকিছুর মতো নিমেষেই আমিও অঙ্গার হবার আগে
একটা না-ফোটা চিৎকার আটকে মরেছিল আমার গলায়।

শব্দগাছ
পঙ্কজ শীল 

শব্দগাছের শাখায়, নতুন নতুন পাতা ফুটে, হাওয়ায় বয়ে আসে অর্থের মৃদু সুর, প্রতিটি বাক্য সঞ্চারিত শেকড়ের গভীরে, আরও গভীর, আরও আঁকড়ে, বিস্তার পায় সুর।
প্রথম পাতা, মনোভঙ্গি শুদ্ধ, ধ্বনির উৎসে জ্বলে আলোর সন্ধান, ধীরে ধীরে বাতাসে মিশে যায় শব্দ, গাছের গা ঘেঁষে, যাত্রা হয় অনন্ত নীরবতার পথে।
বাক্যগুলি শেকড়ে পৌঁছায় গোপন অভিপ্রায়ে, লতা-বেদনা ছড়িয়ে গভীর ঘুমে ডুবে যায়, অন্তর-বৃক্ষের আকাশে প্রজাপতি খোঁজে সত্য, গাছের ছায়ায় হারিয়ে যায় আকাশের প্যাঁচানো মাটি।
গাছের গায়ে একটি ধ্বনিত ভাবনা, নতুন শাখায় জাগে গল্পের আলাপ, শব্দ, অনুভূতির চিরন্তন শৈলী, প্রেমের পাতায় তাজা বৃষ্টির নাম।
এতটুকু এই শব্দগাছের কল্পনার যাত্রা, যেখানে প্রতিটি পাতা অমল ধ্বনি ফিরে আসে, তাতে সুর প্রার্থনা আর তীব্র ইচ্ছা, এখানে শব্দগুলো হয়ে যায় জীবনানন্দ।

দ্রোহ-কলোনি
জারিফ আলম
 
কিছু কথা রেখে দিতে হয় মেঘ আর বৃষ্টির নামে
কিছু কথা তোমাকে শোনাতে হয় প্রতিদিনÑ
আমাদের যৌথ ইচ্ছের খামারে।

ব্যক্তিগত কিছু কথা, সুযোগ্য সুফলা এখনো
মুগ্ধতার বাদ্য নিয়ে তাই নিজের মতো বাজে।
প্রত্নমানুষের সবাক চলাফেরা এখানে-ওখানে
বেঁচে থাকার এই যে চোরাগলি;
এসব রেখেও আমরা আজওÑপ্রেমের কথা বলি।
আড়ালে হারিয়ে গিয়ে ফিরে এলে কখনো
হয় না জানি, নিশ্চিত কোনো বিধিব্যবস্থা।

আজ কতখানি খামখেয়ালি হেমন্তের সুবাতাস
কার ঘুম কেড়ে নেয় অজানা পাখির ডাক!
কোনো কোনো কথা নাটকেই শোনায় ভালো
কোনো কোনো দিন মূর্ছনায় ছড়ায় বেশি আলো।
এসব কিছু ভুলে আসি আবার ফিরেÑ
যেখানে আমার দ্রোহÑকলোনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা