কবিতা
আসমা অধরা
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:০১ পিএম
যেখানে তোমার আকাশ ফুরিয়ে যাচ্ছে তার পাশে উজ্জ্বল চোখে চেয়ে আছে সে। চোখ ভর্তি হাসি, অথচ তার প্রচ্ছদে কী দারুণ একগাদা নীল ঢেলে দেওয়া আছে। ময়ূরকণ্ঠী নয়, একেবারে বিষাদ বিধুর। এ শব্দের সঙ্গে যেন সেতারের অপূর্ব মিল। যেমন পায়ের পদ্ম মেলে ধরলে সে আর কখনোই হেঁটে যেতে পারে না হাসপাতালের মুমূর্ষুর কাছে। কঙ্কালের মতন ক্ষয়ে যায় অসহিষ্ণু নীলের অভিপ্রায়! তাথৈ ঘুঙুরের বিবৃতি অথবা বিভূতি যা-ই হোক, মীনশব্দে ঠোঁট গোল হয়ে এলে কী তীব্র মাথাব্যথা হয়!
এসব রাত্রির শীতলপাটি গুটিয়ে যেতে যেতে কমে আসছে জোছনার উল্লাস, এখানে যদি তেমন শঙ্কা খুঁজে না পাওয়া যায় কোনোভাবেই, তবে হয়তো বেলফুলের গন্ধ একদিন আমারও ভালো লেগে যেতে পারে। তখন সে বিষণ্ন রাস্তার ধুলো জুড়ে অভিনয়পটু ঝড় ওঠালে ফ্যান্টাসি থেকে শিল্প খসে যাবে। অথচ শিল্পের আড়াল না থাকলে কোনো খেলাই জমে ওঠে না ঠিকঠাক, সে কথা একদিন তোমাকে বলবে উন্মাদ গায়ক।
তাই বলি, তোমার আকাশকে আরও ফুরোতে দিও। আর পুরো ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে যেদিন পৃথিবীর সমস্ত মৃগয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যাবে ভেবে রক্তজবা ফুটবে দুই চোখজুড়ে, সেদিন ওই নীলের বিধুরে কত উদার বেদনা বুঝবে পাড়ার লোক। তখন হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাব তোমাকে সবুজ এলাচের বনে।