× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অরুণোদয়ের সন্তান

বর্ণিল রোদ্দুর

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:০২ পিএম

অরুণোদয়ের সন্তান

আলাওল সাহেব বিছানার যে অংশটায় শুয়ে রয়েছেন, জানালাগলে টুকরো নরম রোদ এসে পড়ছে সেখানটায়। বার্ধক্যের শরীর, তদুপরি রোগাহত, আলাওল সাহেবের শরীরটা দস্তুর মতো লীন হয়ে রয়েছে বিছানায়। রোদের সঙ্গে সঙ্গে অঘ্রানের ঠান্ডা-ভাব-মাখা হাওয়া এসে এক-একবার ছুঁয়ে দিচ্ছে নিদ্রিত আলাওল সাহেবকে। এ বিরূপ হাওয়ার দমকে কি অন্য কী কারণে সহসা ঘুম ভেঙে যেতে আলাওল সাহেবের মনে হতে লাগল, ঘরে যেন অচেনা কারও কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন। না, ঠিক অচেনা নয়, অবাঞ্ছিত কণ্ঠ। একসময় কতকটা দম নিয়ে স্ত্রীর নাম করে ডেকে উঠলেন তিনি।

স্বামীর কণ্ঠ কানে যেতে রুমে এলেন আনজুমান, কেন এত ডাকাডাকি করছ?

ঘরে আর কার যেন আওয়াজ শুনতে পেলাম মনে হলো। বদমাশটা এসেছে নাকি?

আপনার অমন বারণের পর সে এ বাড়িতে কোন মুখে আসবে! কী শুনতে কী শুনলেন কে জানে!

না এলেই ভালো। আমার মৃত্যুতেও কুলাঙ্গারটা যেন এ বাড়িতে পা না রাখে। আমায় একটু ধরো তো, একটু উঠে বসি।

আনজুমান স্বামীকে বালিশে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিলেন। এরপর রান্নাঘরের ওজর দেখিয়ে আলতো পায়ে সামনের রুমে এসে বসলেন।

আনজুমান সোফায় এসে বসতে আয়ান জিজ্ঞেস করল, মা, বাবা কেন ডেকেছে তোমায়?

আস্তে কথা বল! প্রত্যুত্তরে অনুচ্চগলায় বললেন আনজুমান। পুনশ্চ বললেন, তোর কণ্ঠ তার কান পর্যন্ত পৌঁছুচ্ছে। তুই সত্যি সত্যি এসেছিস কি না তাই জানতে চেয়েছে। বললাম যে ভুল শুনেছে।

আয়ান তৎক্ষণাৎ বলল, বাবার কিন্তু এটা বাড়াবাড়ি, মা। কেউ তার জীবনে একটু সচ্ছলতা চাইলে তাতে দোষের কী আছে!

ছেলের কথায় বিরক্তবোধ করলেন আনজুমান। কেউ কোনো অপরাধে ডুবে থেকেও যখন বোঝে না যে অপরাধ করছে, ব্যাপারটা দেখতে ভীষণ বিচ্ছিরি হয়। আনজুমান উষ্মামাখা কণ্ঠে বললেন, কারও সচ্ছলতা নিয়ে তো তোর বাবার আপত্তি নেই। সচ্ছলতার খোঁজে নেমে কেউ অন্যায্য পথ বেছে নিক, সেটা তোর বাবা পছন্দ করে না। নিজে তোর বাবা এ দেশের জন্মের সঙ্গে জড়িত। কারও দ্বারা এ দেশটার কোনো ক্ষতি হতে দেখলে মানুষটা কষ্ট পায়। তা ছাড়া সুখের জন্য কারও গাড়ি-বাড়ি হতেই হবে, এ কেমন কথা! যেমন আছি ঢের আছি। শান্তিতে আছি। তোর মতো দুর্নীতির টাকা নিয়ে গাড়ি-বাড়ি করে আমাদের মেকি সুখের প্রয়োজন নেই। জীবনে টাকার দরকার আছে, তাই টাকার প্রতি কারও টান থাকাটা অন্যায় নয়; কিন্তু টাকার প্রতি লোভ টাকাটা দোষের।

আমার বন্ধুদের এক-একজনকে যদি তুমি দেখতে! তাদের অনেকের আরও আগেই বাড়ি-গাড়ি হয়ে গেছে।

মানুষ যখন সাক্ষাৎ শয়তান হয়ে ওঠে, সে তার কোনো কাজকে অন্যায় জেনেও তার পক্ষে সাফাই গাইতে পারে। আনজুমান দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লেন, তার ছেলেটা কি এমন পর্যায়ে চলে গেল! ক্ষুব্ধকণ্ঠে বললেন, কেন বাজে বকছিস! একবার তো বলেছি, কারও বাড়ি-গাড়ি নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। সৎপথে হয় তো হোক। অসৎ আয়ে বাড়ি-গাড়ি করে গর্বিত হওয়ার কিছু নেই।

এটা তোমাদের কথা। এ সমাজের কথা নয়। এ সমাজ কার কতটা সহায়সম্বল আছে, তা দেখে মানুষের মর্যাদা ঠিক করে। সেই সহায়সম্বল কোন পথে এলো তা নিয়ে এ সমাজ ভাবে না।

হ্যাঁ, ভাবে না। আর তাতেই বর্তে যাচ্ছিস তোরা। কিন্তু একটা অন্যায় দুজনে করুক কি দশজনে, অন্যায় অন্যায়; কোনো সমাজ সে অন্যায় মেনে নিলেই তা ন্যায় হয়ে যায় না। তোর বাবা একটা কথা প্রায়ই বলে, আমারও তাই ধারণা, কারও একটা কোনো অন্যায়ের প্রথম প্রতিবাদটা তার ঘর থেকেই হওয়া উচিত।

বাবার সঙ্গে থেকে তুমিও বাবার মতো করেই কথা বলতে শিখে গেছ, মা। খানাখন্দপূর্ণ সড়কের মতো বিকৃত মুখ করে বলল আয়ান। দৈবাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে ওয়ালেট থেকে এক-তাড়া টাকা বের করে বাড়িয়ে ধরে বলল, এ টাকা কটা রাখো, মা।

আনজুমান বললেন, টাকার দরকার নেই এখন আমার। চলবার মতো টাকা আমার কাছে আছে। গত সপ্তায় উমাও দিয়ে গেছে কিছু টাকা।

সোজাসাপটা বললেই পারো, আমার টাকা তোমরা নেবে না। বলে বেরোতে উদ্যত হলো আয়ান।

আনজুমান এগিয়ে এসে বললেন, শোন, রাগের মাথায় বেরোচ্ছিস, দেখে-শুনে যাস। পলকের জন্য থেমে আবার বললেন, আরেকটা কথা, এভাবে হুটহাট বাসায় আসিস না। তোর বাবার কাছে আমি বারবার মিথ্যে বলতে পারব না। আমায় দেখতে ইচ্ছে হলে গলির মুখে এসে ফোন করিস, আমি গিয়ে দেখা দিয়ে আসব।

সন্ধ্যা হতে আনজুমান এসে জানালার পাল্লা লাগিয়ে দিতে চাইতে আলাওল সাহেব বললেন, জানালা বন্ধ কোরো না, জুমা।

সন্ধ্যা হয়ে আসছে তো।

আমার কাছ থেকে সন্ধ্যাকে লুকিয়ে কী হবে, যখন নিজের সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এলো।

তা নয় বাপু। ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। আপনার স্বাস্থ্যের জন্য তা ভালো হবে না।

নিজের ভালো-খারাপ নিয়ে এখন আর ভাবতে ইচ্ছে করে না, জুমা।

আনজুমান শুকনো মুখ করে বললেন, এমন স্বার্থপরের মতো কথা বলবেন না। আপনার জীবন কেবল আপনার নয়।

আলাওল সাহেব না থেমে বললেন, আর মায়ার কথা বোলো না। সে বাঁধন আমি এবার কাটাতে চাই।

আনজুমান উঠলেন। রাতের পর্বের রান্নার কাজ তার এখনও বাকি। রান্না সেরে রুমে এসে দেখলেন আলাওল সাহেব জানালাপথে স্থিরচক্ষে বাইরে তাকিয়ে আছেন।

আনজুমানের উপস্থিতি টের পেতে আলাওল সাহেব বললেন, মানুষ মরলে আকাশের তারা হয়ে যায়, তুমি বিশ্বাস করো জুমা?

আনজুমান বিছানায় বসতে বসতে জবাবে বললেন, একসময় করতাম, অল্পবয়সে, যখন অবুঝ ছিলাম।

এখন সে বিশ্বাস ঘুচে গেল কোন যুক্তিতে?

সব মানুষ তো একইরকমভাবে জীবন কাটায় না। অনেকে আছে, যারা অন্যের জীবনীশক্তি শুষে নিয়ে হলেও বাকিদের পেছনে ফেলে নিজে একা সুখী হতে চায়; আবার কেউ কেউ আছে, অন্যের সুখীমুখেই কেবল নিজের সুখ খোঁজে। এ দুই রকম জীবনের একইরকম পরিণতি মন মানতে চায় না।

মানুষ মৃত্যুতে তারা না হলে আমার মৃত্যুতে তুমি তো সত্যিই একা হয়ে যাবে, জুমা। বললেন আলাওল সাহেব।

আনজুমান বিপন্ন মুখ করে বলে উঠলেন, আজ বারবার মৃত্যুর কথা তুলছেন কেন! কী হলো আজ আপনার!

আলাওল সাহেব বললেন, যে মৃত্যুর দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে সে জীবনের গল্প কী করে করবে, জুমা।

দড়গলায় আনজুমান বললেন, মৃত্যুর এখনও ঢের দেরি আপনার। তা ছাড়া মৃত্যুর জন্য যে প্রস্তুত, তাকে যমও ভয় পায়।

একটু প্রাণ খুলে হাসবেন, সে শক্তিটুকুও এখন নিজের মধ্যে নেই, এমনি নাজুক শরীর আলাওল সাহেবের। তা-ও যথাসাধ্য হেসে উঠলেন তিনি। বললেন, তোমার এ কথায় আমার যুদ্ধকালের একটা ঘটনা মনে পড়ছে, জুমা।

আনজুমান ধারণা করতে পারছেন, আলাওল সাহেব কোন ঘটনার কথা বলছেন। এ নিয়ে সেই গল্প মানুষটা তার কাছে অনেকবার করেছেন। এখন আরও একবার শুরু করলেন।

যুদ্ধের কালে এক রাতে তারা কজন মিলে বেরিয়েছেন এক রাজাকার নেতাকে খুন করতে। তখন পর্যন্ত একটা কোনো অভিযানে বেরোলে মৃত্যুভয় কাবু করত তাদের। যা হোক, মধ্যরাত তখন। সেই রাজাকার নেতার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে প্রথমটায় তারা একটা জঙ্গলমতো জায়গায় আশ্রয় নিল। অভিযান শুরুর আগে দলের একজনকে পাঠাল আরেক দফা রাজাকার নেতার বাড়ির চারপাশটা একনজর দেখে আসতে। রাজাকার নেতার বাড়ির খবরাখবর নিয়ে ছেলেটি তখনও ফেরেনি, এর মাঝে একটা অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটল। আচমকা করে অন্ধকার-ফুঁড়ে একটা অচেনা ছায়া তাদের কাছাকাছি ভেসে উঠতে সবাই ক্ষিপ্রহাতে সেদিকটায় তাদের অস্ত্র তাক করল। তাদের তৎপরতা ছায়াটা টের পেতে তখনি বলে উঠল, আমি গো আমি, তোমাদের শত্তুর নই। একটা নারীকণ্ঠ। পরে তারা দেখল, একটা বছর বিশ-বাইশের যুবতী, পরনে আটপৌরে শাড়ি। মেয়েটি কোনোভাবে তাদের এ অভিযানের খবর জানতে পেরে কাপড়মোড়ানো পোঁটলায় তাদের জন্য চিঁড়েগুড় নিয়ে এসেছে। এমন নিশিরাতে এমন ঘোরজঙ্গলে এই বয়সি একটা নারী, তাদের যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না। মেয়েটি যখন ফিরবে তাদের একজন এগিয়ে দিতে চাইলে মেয়েটি তখনি বলল, একাই তো এলাম। একা যেতেও পারব। যুদ্ধের দিনে এত ভয় পেলে চলে না। কথাটা যেন ছিল কোনো দেবীর বরাভয়। সেদিন থেকে যুদ্ধ নিয়ে তাদের ভয় একেবারে কেটে গেল। এবং বিলক্ষণ বুঝতে পারছিল, কিছুতে মানুষের ভয় কেটে গেলে সে মানুষ অজেয় হয়ে ওঠে।

আলাওল সাহেব থামলে আনজুমান বললেন, আমাদের মায়া না হয় আপনার কাছে তুচ্ছ-নগণ্য; যৌবনে নিজেদের জীবন বাজি করে জন্ম দেওয়া এ দেশটার মায়া কাটাতে আপনার কষ্ট হবে না?

আলাওল সাহেব উত্তরে বললেন, কষ্ট তো হবেই। জানো জুমা, আমার সর্বদা মনে হয়, দেশটা যেন বড় পরিসরে আমারই আরেকটা সত্তা। দেশটার মুখে কেউ কলঙ্ক দিতে এলে সেসব নিজের মুখে এসে লাগতে দেখি; কিছুতে দেশটার কোথাও খোঁচা খেলে নিজেরই গায়ে তার আঘাত টের পাই। হ্যাঁ, কষ্ট তো এখনও হয় যখন দেশটার দিকে তাকাই। মরবার আগে এ দেশটাকে আরও ভালো অবস্থায় দেখে যাব আশা ছিল। অন্য দশটা দেশের মতো সাদামাটা জন্ম নয় এ দেশটার। একটা স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য আর কোনো জাতি এতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে! ভেবেছিলাম, আমাদের পরের প্রজন্ম সেসব মনে রাখবে। চারদিকে এত অনাচার, বুকে লাগে। মানুষ কত সহজে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে! গোঁড়ামিতে ঢেকে যাচ্ছে যেন সমাজ! হ্যাঁ, দোষ আমাদেরও কম নয়। দেশটাকে নিজেদের করে পেতেই আমরা আমাদের দায়িত্ব সারা হয়ে গেল, ভেবে নিয়েছিলাম। দেশগঠনের কাজে আরও কিছুকাল আমাদের সযত্ন হাত নবজাতক দেশটার দরকার, আমরা ভাবতে পারিনি। বরং আমরা ভেবেছি, জন্ম নিতেই দেশটা গড়গড় করে চলতে শুরু করবে। এভাবে হয় না আসলে। একটা শিশু জন্মেই দাঁড়াতে শিখে যায় না; তাকে আরও কবছর পরম যত্নে আগলে রাখতে হয়, তবেই সে দাঁড়াতে শেখে। আমরা সে সময়টুকু এ দেশটাকে দেবার প্রয়োজন বোধ করিনি। তখন-তখনি আমাদের স্বভাবে একটা খাইখাই ভাব চলে এসেছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, এর মধ্যে আবার দেশের জন্য সবচেয়ে দরকারি মানুষটাকেও আমরা হারিয়ে ফেললাম। এরপর কেমন ভুলপথে যাত্রা হয়ে গেল আমাদের।

দেরিতে হলেও তো দেশটা দাঁড়াচ্ছে। বললেন আনজুমান।

আলাওল সাহেব বললেন, হ্যাঁ, তা দাঁড়াচ্ছে কিছুটা। কিন্তু এখনও নারীবান্ধব একটা সমাজকাঠামো তৈরি করা যায়নি; এখনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে চাপের মধ্যে থাকতে হয়; এদিকে আবার আমাদের ছেলেমেয়েগুলো যে শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, তাতে তারা মানবিক না হয়ে ভোগবাদী হয়ে উঠছে। কষ্ট দেয় এসব।

হঠাৎ প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে আলাওল সাহেব পুনরায় বললেন, উমাকে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে, জুমা। কতদিন হয় মেয়েটা এদিকে আসছে না!

আনজুমান আলটপকা হেসে উঠে বললেন, আপনারও যা কথা! মেয়েটার চাকরি আছে, নিজের সংসার আছে; প্রতিদিন বাপের বাড়ি আসতে পারবে নাকি! গত সপ্তাহেই তো ঘুরে গেল, শুক্রবারে, মোটে পাঁচ দিন হচ্ছে।

আলাওল সাহেব উদাস-ঠাটে বললেন, কে জানে! মনে হচ্ছে অনেক বছর হয়ে যাচ্ছে মেয়েটাকে দেখতে পাই না।

পরের কমিনিট চুপচাপ কেটে গেল। একসময় ফোনটা বেজে উঠলে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন আনজুমান। আশ্চর্য, উমার কথা বলতে না-বলতে উমাই ফোন করেছে। আনজুমান ফোন তুললেন।

মা, কী করছ?

তোর বাবার বকবক শোনা ছাড়া আমার আর কী কাজ।

বাবার শরীর এখন কেমন?

সেটা তোর বাবাকেই জিজ্ঞেস কর।

আনজুমান ফোনটা আলাওল সাহেবের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন।

আলাওল সাহেব ফোনটা কানে তুলতে ওপাশ থেকে উমা জানতে চাইল, বাবা, মায়ের সঙ্গে খুব বকবক করা হচ্ছে বুঝি?

আমার আর কে আছে যে জ্বালাতন করব।

উমা হেসে উঠে বলল, ঠিক আছে, ফোনের এ পাশে আমি রইলাম। যত ইচ্ছে বকবক করো তুমি।

ফোনে আর কত বকবক করা যায়।

দিনে ফোন করলে না কেন; না হয় অফিস শেষে তোমাদের দেখা দিয়ে আসতাম।

না রে, এমনি বললাম। পরশু একবার আসবি?

পরশু নয়, কালই আসব। অফিস শেষ করে সিধে তোমাদের ওখানে চলে যাব।

আলাওল সাহেব ফোন রাখতে রাখতে বিড়বিড় করে বললেন, ছেলেটা তো মানুষ হলো না। আমার এই মেয়েটা না থাকলে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে যেত।

এ কথায়, কেন কে জানে, আনজুমানের চোখদুটো সজল হয়ে উঠল। আলাওল সাহেবের অবশ্য সেদিকে নজর নেই। তিনি ফের একবার বালিশে মাথা এলিয়ে দিয়ে কী যেন ভাবনায় ডুবে গেলেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা