নোবেলজয়ী হান কাং
সারাহ শিন
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:১০ এএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:২০ পিএম
অনুবাদ : মজিবুল হক মনির
হান কাং রচিত কোরিয়ান উপন্যাস ‘চেয় সিক জুই জা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু ইংরেজি ভাষার পাঠকদের সঙ্গে হান কাংয়ের প্রথম পরিচয় ২০১৫ সালে। ওই বছর জানুয়ারিতে তার উপন্যাসটি ‘দ্য ভেজিটারিয়ান’ নামে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় যুক্তরাজ্যে। পরের বছরই, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার পর বিশ্বসাহিত্যাঙ্গনে আলোচনায় আসেন হান কাং। ২০১৬ সালে তিনি জিতে নেন বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ।
হান কাং রচিত আরও একটি আলোচিত উপন্যাস ‘সোনিওনি ওন্ডা’ বা হিউম্যান অ্যাক্ট। ১৯৮০ সালে কোরিয়ায় গুয়াংজুতে ঘটে যাওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন উপজীব্য করে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস। একটি শিশুর মৃত্যু কীভাবে গুয়াংজুর অধিবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় এবং কীভাবে গুয়াংজু বিদ্রোহে ভিন্ন একটি মাত্রা নিয়ে আসে তা নিয়েই রচিত এ উপন্যাস।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৭৯ সালে সামরিক একনায়ক পার্ক চুং-হি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার শিষ্য জেনারেল চুন দু-হোয়ান তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সারা দেশে সামরিক আইন জারি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত এবং রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করেন। ১৯৮০ সালের ১৮ মে ছাত্ররা এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গুয়াংজুতে সমবেত হলে সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে গুয়াংজুর দখল হারায় সামরিক জান্তা। ২৭ মে রক্তাক্ত সামরিক অভিযানে দমন করা হয় সে বিদ্রোহ।
দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রচারযন্ত্র বিদ্রোহসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। একে বিতর্কিত করে তুলতে গণবিদ্রোহকে সরকার উত্তর কোরিয়ার সমর্থিত কমিউনিস্টদের দাঙ্গা হিসেবে অভিহিত করে। হান কাংয়ের হিউম্যান অ্যাক্ট ইতিহাসের লুকোচুরি আর প্রতারণার বিরুদ্ধে সৃজনশীল একটি আঘাত।
২০১৬ সালের মার্চে লন্ডনভিত্তিক সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘হোয়াইট রিভিউ’-্এর অনলাইন সংস্করণ হান কাংয়ের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারটি নেন সারাহ শিন। দুজনের কথোপথনে উঠে আসে হিউম্যান অ্যাক্ট উপন্যাস এবং এর আলোকে কোরিয়ার নানা দিক। সাক্ষাৎকারটির অনূদিত চুম্বকাংশ ধানসিড়ির পাঠকদের জন্য-
বিংশ শতাব্দীর কোরিয়ার ইতিহাস নানা চড়াই-উতরাই, অসংখ্য ট্রমায় ভরপুর, আপনি বিশেষভাবে গুয়াংজু বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখার কথা কেন ভাবলেন?
হান কাং : বিংশ শতাব্দী কেবল কোরিয়ার ওপরই নয়, পুরো মানব জাতির ওপরই গভীর ক্ষত রেখে গেছে। আমি ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই আমি জাপানের দখলদারি (১৯১০ থেকে ১৯৪৫) বা কোরীয় যুদ্ধ (১৯৫০ থেকে ১৯৫৩) দেখিনি। ১৯৯৩ সালে, তেইশ বছর বয়সে আমার কবিতা এবং গল্প প্রকাশিত হতে শুরু করে। এটি ছিল ১৯৬১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর একজন বেসামরিক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় আসার প্রথম বছর। এ কারণে আমি এবং আমার সমসাময়িক লেখকরা উপলব্ধি করি, মানুষের মনের ভেতরকার বিষয়গুলো নিয়ে লেখার স্বাধীনতা আমাদের আছে, সেটা আমরা করতে পারি রাজনৈতিক কোনোরকম অবস্থান না নিয়েই।
আমার লেখার কেন্দ্রবিন্দু মানবমনের সেই গভীরতা। মানুষ একদিকে রেললাইনে পড়ে যাওয়া শিশুকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে রেলের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করে না, আবার সেই মানুষই নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে অন্যের ওপর অসহ্য নির্যাতন চালাতে পারে। শৈশব থেকেই অত্যাশ্চর্য সরলতা থেকে কঠোর নিষ্ঠুরতা পর্যন্ত বিস্তৃত মানব জীবন আমার কাছে জটিল এক ধাঁধা। আমার উপন্যাসগুলোকে মানব সহিংসতার এ দিককার বিভিন্ন রূপ বলা যেতে পারে। মানুষের মুখোমুখি হওয়া কেন এত যন্ত্রণাদায়ক আমি তা খুঁজে বের করতে চেয়েছি। আমি আমার মনের গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছি, সেখানে আমি গুয়াংজুর সঙ্গে পরিচিত হই, ১৯৮০ সালে পরোক্ষভাবে যার অভিজ্ঞতা আমি পেয়েছি।
উপন্যাসের একটি চরিত্র হিসেবে আপনাকে উপস্থিত হতে দেখা যায়, যেখানে ঘটনাসমূহ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে আপনার নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়। এ প্রক্রিয়া জীবন এবং শিল্প, অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে একটি খুব কার্যকর সংযোগ তৈরি করে। আপনি প্রথমবার কীভাবে এ ধরনের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন?
হান কাং : আমি গুয়াংজুতে জন্মগ্রহণ করেছি এবং নয় বছর বয়সে আমাদের পরিবার সিউলে চলে যায়, গণহত্যার মাত্র চার মাস আগে। আমরা হুট করেই এ স্থান ত্যাগ করেছিলাম, খুব ছোট এ সিদ্ধান্ত আমাদের পরিবারকে অত্যাচার থেকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু এ ঘটনা আমাদের পরিবারের মধ্যে এক ধরনের ‘বেঁচে থাকার অপরাধবোধ’ সৃষ্টি করে, যা অনেক দিন ধরে আমাদের পীড়িত করে।
আমার বারো বছর বয়সে একটি ফটোবুক দেখতে পাই, গণহত্যার সাক্ষী রাখতে বইটি গোপনে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছিল। আমার বাবা এটি গুয়াংজু থেকে নিয়ে এসেছিলেন। বইটি খোলার সময় আমি জানতাম না কী ভয়ংকর সহিংসতার প্রমাণ এতে রয়েছে।
মানুষ কীভাবে একে অন্যের প্রতি এমন আচরণ করতে পারে? এ প্রশ্নটির পরপরই আমার মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন তীব্রভাবে জেগে ওঠেÑ এ ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হলে আমাদের করণীয় কী?
আমি আজও সেই ছবিটির কথা ভুলতে পারি না; অসংখ্য মানুষ আহতদের রক্তদানের জন্য হাসপাতালের বাইরে সারিবেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। অসংখ্য মানুষ তাদের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে আহতদের সাহায্য করতে চলে এসেছিল। এক পর্যায়ে সামরিক বাহিনী শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সাধারণ নাগরিক সরে আসেনি। এ-সংক্রান্ত ছবিও বইটিতে ছিল। এভাবে আমি দুটি অমীমাংসিত ধাঁধার মুখোমুখি হইÑ মানব সহিংসতা এবং মানব মর্যাদার ধাঁধা। এ ধাঁধা আমার হৃদয়ে একটি সিলমোহরের মতো মুদ্রিত হয়ে যায়। হিউম্যান অ্যাক্ট হলো সেই দুটি ধাঁধা নিয়ে আমার হিমশিম খাওয়ার প্রামাণ্য দলিল।
উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর কোরিয়ার রাজনীতিতে কী ধরনের বদল এসেছে? আপনি কি মনে করেন এটি এ সময়ে প্রকাশিত হলে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারত?
হান কাং : হিউম্যান অ্যাক্ট প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। বাস্তবে আমার প্রত্যাশার বিপরীতে প্রায় সব মিডিয়া আউটলেট বইটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখায়। পাঠকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক, তাদের মানসিকতা ছিল ‘আমরা এ সময়েও গুয়াংজুর স্মৃতি ধরে রাখতে চাই, আমরা চাই না এটি মুছে যাক।’ আমার ধারণা, ২০১৪ সালের মে মাসে হিউম্যান অ্যাক্ট নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া আমি দেখেছি সে একই প্রতিক্রিয়া উপন্যাসটি এ সময়ে প্রকাশিত হলেও পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে, এটি আরও খারাপ হতে পারে আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে মানুষ আরও বেশি করে গুয়াংজুকে মনে করবে। কারণ গুয়াংজু এমন একটি নাম, যেখানে মানব সহিংসতা এবং মর্যাদা অবিচ্ছেদ্যভাবে সহাবস্থান করে।
হিউম্যান অ্যাক্ট উপন্যাসে মানব জীবনের একটি বিস্তৃত পরিসর আছে, যেখানে বর্বরতা থেকে কোমলতা পর্যন্ত অনেক কিছু দেখা যায়। উপন্যাসটি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরত এক তরুণ জাতির যুদ্ধপরবর্তী বিকাশ উপজীব্য করে রচিত, দ্য ভেজিটারিয়ান থেকে একে অনেক ভিন্ন মনে হয়। দ্য ভেজিটারিয়ান উপন্যাসের পরিসর ছিল গভীরভাবে ব্যক্তিগত ও একক।
হান কাং : এ দুটি উপন্যাস খুব আলাদা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলোকে একটি জুটি হিসেবে দেখা যেতে পারে, এদের শিকড় একসঙ্গে প্রোথিত। দ্য ভেজেটারিয়ান লেখার সময় মানব সহিংসতা এবং সরলতা নিয়ে আমি অনুসন্ধান করেছিলাম। প্রধান চরিত্র ইয়ং-হাই তার মানবশরীর পরিত্যাগ করে এবং একটি উদ্ভিদে রূপান্তরিত হয়ে সহিংসতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার যে চরম চেষ্টা করে, তা প্রকারান্তরে মানবতা সম্পর্কে গভীর হতাশা ও সংশয় প্রকাশ করে। আমার আরেকটি বই ‘গ্রিক লেসন’-এ প্রধান চরিত্র ভাষার সহিংসতা প্রতিরোধ করতে কথা বলার ক্ষমতা পরিত্যাগ করে।
প্রত্যাখ্যানের এ অঙ্গভঙ্গি নিজেই একটি আত্মবিধ্বংসী কাজের মাধ্যমে মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং অনেক কষ্টকর প্রয়াস। হিউম্যান অ্যাক্টের শুরুও হয়েছিল মানব সহিংসতার যন্ত্রণা নিয়ে। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম শেষ পর্যন্ত মানব মর্যাদার সেই উজ্জ্বল দিকে উত্তীর্ণ হতে, যেখানে ফুল ফোটে। এটিই ছিল এ উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বিস্ময়করভাবে উপন্যাসটির শুরু এবং শেষ হয়েছে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে, যে মোমবাতিটি মৃতদের জন্য শোক প্রকাশের লক্ষ্যে প্রজ্বালিত। উপন্যাসে এ শোকের ভূমিকা কী?
হান কাং : উপন্যাসটির একেবারে শুরুতে এবং শেষে আমি একটি মোমবাতি জ্বালাতে চেয়েছি, সর্বোত্তম উপায়ে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে। মৃত মানুষগুলো আমাদের মাঝে ফিরে আসে, মোমবাতির প্রজ্বালিত শিখার মতো তারা আমাদের হৃদয়ে ফিরে আসে। আমি চেয়েছিলাম মোমবাতির আলোয় অতীত এবং বর্তমান, মৃত এবং জীবিত, একে অন্যের মুখোমুখি হোক।
হিউম্যান অ্যাক্ট উপন্যাসটিকে একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে বর্ণনা করা ভুল হবে, কারণ এটি যে প্রেক্ষাপটে রচিত তা এখনও অতীত হয়ে যায়নি। স্মৃতি এবং ক্ষতগুলো অতীতকে বর্তমানের মধ্যে প্রবাহিত করে দিয়েছে। আজও গণহত্যার ঘটনাটি স্মৃতিতে ও নথিপত্রে উভয়ভাবেই জীবিত, তাই আপনার গবেষণা ও পরিকল্পনার প্রক্রিয়াটি কী ছিল? আপনি কি আপনার গবেষণায় ঐতিহাসিক আর্কাইভগুলো ব্যবহার করেছেন?
হান কাং : উপন্যাসটি লেখার সময় আমি গুয়াংজুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যত্নসহকারে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। মে, ১৯৮০-কে হঠাৎ হাজির না করে, আমি দেখাতে চেয়েছি ১৯৭০-এর দশকে সামরিক জান্তার মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শ্রম আন্দোলন দমানোর চেষ্টা কীভাবে আন্দোলনের বারুদ জ্বালিয়ে দেয়।
যদি আমি ১৯৯০-এর দশকে এ বইটি লিখতাম, তাহলে নথিপত্র সংগ্রহ করাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে যেত। আমি ২০১২ সালে যখন লেখা শুরু করি তখন গবেষণা কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রচুর উপকরণ সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। ফলে আমার চ্যালঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় এ বিশাল পরিমাণ উপকরণ ঠিকভাবে কাজে লাগানো। বিশেষ করে শত শত মানুষের লিখিত সাক্ষ্য ছিল, যা একত্রে ছিল দুই হাজারের বেশি পৃষ্ঠার; এগুলো সতর্কতার সঙ্গে পড়া আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি চেয়েছি উপন্যাসটিকে শুধু একটি প্রামাণ্য দলিলে পরিণত না করতে। আমি চেয়েছি এটিকে একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
আপনি কারও সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন?
হান কাং : আমি মৃত বা আহতদের কোনো পরিবারের কোনো সদস্যের সাক্ষাৎকার নিতে চাইনি। আমি তাদের আরেকবার সাক্ষাৎকার দিতে বাধ্য করতে চাইনি, কারণ তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে, এটি করা ঠিক হবে না। এর পরিবর্তে আমি পরিচিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতাম এবং তাদের কাছে গুয়াংজু সম্পর্কে জানতে চাইতাম। তারা প্রথম কবে এ সম্পর্কে জানল? কীভাবে গুয়াংজু তাদের জীবন বদলে দিয়েছে? আমি এমন সব বিষয়ে জানতে চাইলে অপ্রত্যাশিতরকম সাহায্য পেয়েছি। এমন অনেক কিছু আমি জেনেছি, যা আমি আগে জানতাম না। এভাবে আমি মূল্যবান অনেক নথির অস্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। তা ছাড়া ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের নানা বর্ণনা আমি খুঁজে পাই। এসব তথ্য আমার প্রয়োজন ছিল। যারা এভাবে আমাকে হৃদয় খুলে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ।