× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এডগার অ্যালান পো : ভয়ের মহাকবি

মজিবুল হক মনির

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:২৮ এএম

এডগার অ্যালান পো, ১৯ জানুয়ারি ১৮০৯-৭ অক্টোবর ১৮৪৯

এডগার অ্যালান পো, ১৯ জানুয়ারি ১৮০৯-৭ অক্টোবর ১৮৪৯

‘কাহিনীটা বেশ দারুণ, কিন্তু কেউ হয়তো এটা বিশ্বাস করবেন না, নিজের চোখে দেখেও আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না!’Ñ এভাবেই শুরু কালো বিড়াল (দ্য ব্ল্যাক ক্যাট) নামের গল্পের। প্রথম কয়েকটা বাক্য যখনই পাঠককে সত্য কিন্তু অবিশ্বাস্য ঘটনার অজানা রহস্যে প্রবেশের হাতছানিটা দেয়, তখনই তাঁর মনে অনিবার্য একটা প্রশ্ন উঁকি দেয়, অবিশ্বাস্য হলে গল্পটা বলার এত প্রয়োজন হলো কেন? লেখক এই ক্ষেত্রে হুট করেই হাজির হন চমকপ্রদ এক তথ্য নিয়ে। তিনি বলছেন, ‘গল্পটা বলা জরুরি, কারণ কাল আমি মরে যাচ্ছি!’ মুত্যুপথযাত্রীর কাছ থেকে এই তথ্য জেনে পাঠক একদিকে যেমন আঁতকে উঠতে বাধ্য; অন্যদিকে তেমনি রহস্যের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার অলঙ্ঘনীয় আকর্ষণের বাছে নিজেকে সমর্পণ করারও প্রস্তুতি নিয়ে নেন। 

গল্পটির লেখক দুনিয়া জোড়াখ্যাত বিচিত্র রোমহর্ষক, ভয়ংকর আর গা-ছমছম করা রচনার জন্য। তাঁকে বলা হয় গোয়েন্দা কল্পকাহিনীর জনক। বলছি গোথিক সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা এডগার অ্যালান পোর কথা। গোথিক সাহিত্যের মূল উপজীব্যই হলো কল্পকাহিনী, মৃত্যু, রহস্য, নৃশংসতার ভয়ংকর বর্ণনা ইত্যাদি। যে ছয়জন সাহিত্যিককে গোথিক সাহিত্যের পুরোধা বা ‘গোথফাদার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, পো তাঁদের একজন। রচনায় ভীষণ নৈপুণ্য দিয়ে ভীতিকর একটা পরিবেশ তৈরি করে পারতেন বলে এলান পোর আরেক নাম ‘ভয়ের মহাকবি’! 

গোয়েন্দা গল্পের তিন কিংবদন্তি— এডগার অ্যালান পো, স্যার আর্থার কোনাল ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টিকে নিয়ে এবারের আয়োজন। গোয়েন্দা গল্পের জনক হিসেবে ধরা হয় অ্যালান পোকে। আর অন্য দুজন সাহিত্যের এ ধারাকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। এ তিন জনকে নিয়ে তিনটি লেখা পত্রস্থ হলো এ সংখ্যায় 

১৮০৯ সালে জন্ম নেওয়া এডগার অ্যালান পোর হাত ধরেই গোয়েন্দা কাহিনীর জন্ম। পার্কম্যান নামের এক ভদ্রলোকের রহস্যজনক মৃত্যু বেশ আলোড়ন তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এ ঘটনার প্রায় আট বছর পর ১৮৪১ সালে প্রকাশিত হয় পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম গোয়েন্দা কল্পকাহিনী হিসেবে স্বীকৃত ‘দ্য মার্ডার ইন দ্য রু মর্গ’। ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড, রহস্য এবং সেই রহস্যের সৃজনশীল সমাধান নিয়েই এই গল্প। পোর এই রচনা প্রথমবারের মতো পাঠকের মধ্যে অপরাধ এবং মৃত্যু সংক্রান্ত রহস্য নিয়ে গভীর আগ্রহ আর মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়। 

রহস্যময়তা, ভয় আর মানুষের মনোজাগতিক অঞ্চলের নানা বৈপরীত্য আর দ্বিধাসমৃদ্ধ রচনার মাধ্যমে অ্যালান পো পাঠকদের রহস্যময়তার এমন এক অন্ধকার জগতে নিয়ে যেতে পারতেন যেখানে বাস্তবতা, পরাবাস্তবতা ও অতি প্রাকৃত সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। পোর অনন্যতা হলো, তিনি এমন গল্প নির্মাণ করতে পারেন যেখানে সৌন্দর্য ও ভীতি একসঙ্গে মিশে থাকে। তিনি জীবন ও মৃত্যু দারুণ ভারসাম্য এবং পাগলামো ও যৌক্তিকতার মধ্যকার লড়াইকে তাঁর গল্পগুলোতে তুলে এনেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো প্রায়ই পাগলামির কিনারায় দাঁড়িয়ে, পাঠকদের টেনে নিয়ে যায় এক গভীর ধাঁধার মধ্যে, যেখানে আবার ভয় ও অপরাধবোধ ঘুরপাক খায়।

একাকিত্ব, নির্জনতা, ভয়, হতাশাও ছিল অ্যালান পোর সৃজনশীল রচনার অন্যতম উপজীব্য। ‘দ্য র‌্যাভেন’ বা ‘দাঁড়কাক’ নামের কবিতাটি প্রথমবারের মতো অ্যালান পোকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। কবিতাটিতে একটি নির্জন মধ্যরাত্রি কবির কাছে এসে হাজির হয় একাকিত্ব, শোক ও পাগলামির গভীর মিথস্ক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়ে। কবি সেখানে একা, হতাশ, মনমরা আবার আতঙ্কিতও। বিবর্ণ সেই মধ্যরাতে কবি খুব ক্লান্তি আর আলস্য নিয়েই পুরোনো দিনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো লোকগাথার পাতা উল্টাচ্ছিলেন। তাঁর চোখে ঘুমের ঢুলুনী, আশপাশে কেউ নেই। তাঁর মনে হচ্ছিল ফ্লোরে কোনো ভূতের কঙ্কাল নাচ করছে। দরজার বেশ কয়েকবার কড়া নাড়ার শব্দে শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে দেখেন কেউ নেই, কেবলই অন্ধকার! কবি তাঁর প্রিয়তম হেলেনের বিরহেই এমনতর কাতর, হতাশ ও বিষাদগ্রস্ত।

সম্ভবত বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত, বিশৃঙ্খল ব্যক্তিগত আর পারিবারিক জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে অ্যালান পো ‘দ্য র‌্যাভেন’ কবিতাটি রচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্যজীবনটা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনটা দীর্ঘ সংগ্রামের। পোর ব্যক্তিগত জীবন সংগ্রাম বেশ গভীরভাবেই প্রতিফলিত হয় তাঁর রচনায়। মা-বাবাকে হারিয়ে ছোটবেলায়ই অনাথ হয়ে পড়েন তিনি। বড় হন পালক বাবা-মায়ের কাছে, পালক বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সব সময়ই ছিল বেশ অশান্ত। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে এডগার অ্যালান পোকে। আর্থিক অনটনের কারণে ছাড়তে হয় ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা। পরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও স্থিতু হতে পারেননি সেখানেও। প্রিয় স্ত্রী ভার্জিনিয়া ক্লেমও তাঁকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে যান খুব অল্প বয়সেই, যক্ষ্মায় ভার্জিনিয়ায় মুত্যু হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ছিল মাত্র দশ বছরের মতো। প্রিয়তম স্ত্রীর এই বিরহ পোকে আরও গভীর হতাশ করে তুলে, ঠেলে দেয় মদ্যপানের দিকে। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায়। ব্যক্তিগত এই ঝড়ঝঞ্ঝার বাধা পেরিয়ে অ্যালান পো সাহিত্যিক খ্যাতি অর্জন করতে পারলেও আজীবন নিশ্চিত করতে পারেননি আর্থিক স্বস্তি। সম্ভবত ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিগুলোই তাঁর গল্প-কবিতাকে প্রভাবিত করেছে। আর এজন্যই হয়তো তাঁর গল্প ও কবিতায় শোক, পাগলামি এবং মৃত্যুকে খুব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন তিনি, খুব কাছ দেখে দেখার অসহায় অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো। 

গোয়েন্দা কল্পকাহিনী, ছোটগল্প আর কবিতার পাশাপাশি অ্যালান পো লিখেছেন বেশ কিছু সমালোচনামূলক প্রবন্ধও। জগৎজোড়া বিখ্যাত হয়ে আছে কবিতার সংকলন ট্যামারলেইন অ্যান্ড আদার পোয়েমস, আল আরাফা, ট্যামারলেইন অ্যান্ড মাইনর পেয়েমস এবং দ্য র‌্যাভেন অ্যান্ড আদার পোয়েমস। অ্যালান পোর ছোটগল্পের প্রধান কয়েকটি সংকলন টেইলস অব দ্য গ্রোটস্কু অ্যান্ড আরাবস্কু ও দ্য লিটারেটি অব নিউইয়র্ক। এ ছাড়াও তাঁর আরও কয়েকটা ছোটগল্প সংকলন প্রকাশিত হয়। তিনি দ্য সাউদার্ন লিটারারি মেসেঞ্জার এবং গ্রাহামস ম্যাগাজিনসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। তবে নিজের জীবদ্দশায় অ্যালান পো নিজের রচনাগুলোকে খুব একটা সমাদৃত হতে দেখে যেতে পারেননি। পরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মার্কিন লেখকদের তালিকায় বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে বিবেচনা করা হলেও জীবদ্দশায় অ্যালান পোর রচনাকে সমসাময়িক সমালোচকরা বিরক্তিকরই মনে করতেন। কেউ কেউ পোর রচনাকে অভিযুক্ত করেছেন মাত্রাতিরিক্ত নৃশংতায় পরিপূর্ণ বলেও। দ্য ব্ল্যাক ক্যাটের মতো ছোটগল্প সম্ভবত পো সম্পর্কে এই ধারণা গ্রহণে উৎসাহিত করে থাকবে। গল্পটির কয়েকটি বাক্য এ রকমÑ ‘বিড়াল মহাশয়কে হত্যা করতে এক কোপ বসিয়ে দিলাম’ কিন্তু স্ত্রী হাত বাড়িয়ে তাতে বাধা দেন। ক্ষেপে আগুন আমি সজোড়ে কুড়ালের কোপ বসিয়ে দিলাম স্ত্রীর মাথাতেই। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হলো, আর্তনাদের একটা শব্দও বের হয়নি তাঁর মুখ থেকে।’ 

কিন্তু অ্যালান পোকে চেনা যায় রচনাগুলোকে খানিকটা গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে। এ যেমন দ্য ব্ল্যাক ক্যাট পড়লে কিছুক্ষণ মনে হতে পারে, এটা স্রেফ কিছু নৃশংস ঘটনার বিবরণ। কিন্তু কাহিনীর গভীরে গেলেই দেখা যাবে পো এখানে মানব চরিত্রের অনিবার্য কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন, হয়তো কিছুটা কঠিন উপায়ে। গল্পটি আবর্তিত হয় নৈতিকতা, অপরাধবোধ, মদ্যপান এবং নিষ্ঠুরতার পরিণতি নিয়ে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে অপরাধবোধ এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব একজন মানুষকে গ্রাস করতে পারে। মানুষের অযৌক্তিক আচরণ এবং জীবনের প্রতি অবহেলা শেষ পর্যন্ত তার পতনেরই কারণ হয়। পো এখানে দেখাতে চেয়েছেন নিষ্ঠুরতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের পরিণাম আসলে লোকানো যায় না।

এডগার অ্যালান পোর গল্পগুলোতে মানব চরিত্রের মনোজাগতিক নানা স্তর, মানসিক টানাপড়েন, বৈপরীত্য, ক্ষোভ-ভয় তুলে ধরেছেন দারুণ শৈল্পিকতায়। ধরা যাক দ্য টেল-টেল হার্ট গল্পের নেই খুনির কথা। খুনি তার শিকার বৃদ্ধকে ভালোবাসে, কিন্তু তাকে আবার হত্যাও করতে চায়। ‘আমি বৃদ্ধ লোকটিকে ভালোবাসতাম। সে কখনও আমার ক্ষতি করেনি। আমাকে সে কখনও অপমান করেনি।... আমি খুব ধীরস্থিরতার সঙ্গে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলাম।’ বৃদ্ধকে ভালোবাসলেও তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত খুনি নিয়েছে, কারণ বৃদ্ধের চোখ দেখলে তাঁর ভয় হয়। খুনির কাছে বৃদ্ধের চোখগুলো ছিল শকুনের চোখের মতো। বৃদ্ধকে হত্যা করে সেই চোখ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছে। খুন করার পর আবার অপরাধবোধ গ্রাস করেছে খুনিকে। বাস্তবতা আর বিভ্রমের সীমারেখা টানতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়ে খুনি। 

অপরাধবোধ যত গভীরেই লোকানো থাকুক না কেন, তা এক দিন প্রকাশিত হবেই এবং অপরাধীকে সেই অপরাধবোধ নিয়ে যাবে পতনের দিকেÑ দ্য টেল-টেল হার্ট গল্পে বৃদ্ধের প্রতি ভালোবাসা থাকার পরও, তাঁকে হত্যা করা, পরে আবার সেই অনুতাপে খুনির উন্মাদ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পো সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন। গল্পে হত্যার পর হত্যাকারী নিজের কাজকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করার এবং নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও অপরাধবোধ তাকে পাগলামির দিকে ঠেলে দেয়। অপরাধ করে জাগতিক শাস্তি থেকে পালানো সম্ভব হলেও নিজের বিবেকের বোঝা সহ্য করা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে, এই বোঝা শেষ পর্যন্ত আত্মবিধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়Ñ গল্পটিতে এই বার্তা বেশ স্পষ্ট।

মানব চরিত্রের অনিশ্চয়তা, অবিরাম যন্ত্রণা, ধ্বংসের দিকে ধাবমান জীবন, মৃত্যু, পাগলামির দগদগে প্রতিফলন আছে অ্যালেন পোর বিখ্যাত ‘দ্য ফল অব দ্য হাউস অব আশার’ শীর্ষক গল্পে। গল্পটিতে আশার বংশের একটি ভবনের কথা বলা হয়েছে আর বলা হয়েছে ভবনের দুই বাসিন্দার কথা, যারা কি না আশার বংশের শেষ প্রতিনিধি। আশার বংশের এই বাড়ি বা প্রাসাদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে, ভগ্নপ্রায় এর দেয়াল, এর পরিবেশ ভুতুড়ে। তেমনি ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক জীবনযাপন করছে এর দুই বাসিন্দা, দুই ভাইবোন রডেরিক ও ম্যাডেলিন। ম্যাডেলিন মারা যায় রডেরিকের আগেই। আর রডেরিক অপেক্ষা করছে মৃত্যুর, সম্ভবত সে কামনাই করছে দ্রুত একটা মৃত্যুর। মৃত্যুই যে তাকে কেবল মুক্তি দিতে পারে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে। নানা কারণেই রডেরিকের জীবন এখানে অসহ্য হয়ে উঠেছে। সব ধরনের খাবার তার শরীর বরদাশত করতে পারে না, কেবলমাত্র স্বাদহীন খাদ্যবস্তুই সে সহ্য করতে সক্ষম। আর পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারেও আছে কড়া বাধানিষেধ, কেবলমাত্র বিশেষ ধরনের হাতের তাঁতে বোনা কাপড়ের পোশাকই তিনি ব্যবহার করতে পারেন। আলোকরশ্মি তার কাছে বড্ড পীড়াদায়ক! 

দ্য ফল অব দ্য হাউস অব আশার গল্পটি শুধু একটি বাড়ি বা ভবন আর এর দুজন বাসিন্দারই নয়। গল্পটি বরং একাকিত্ব, ভয় এবং মানসিক অস্থিরতার ধ্বংসাত্মক শক্তির। গল্পটিতে পো দেখিয়েছেন কীভাবে একাকিত্ব, মৃত্যুর ভয় এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগের অভাব অপরিহার্যভাবে সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

প্রতিভা, দক্ষতা বা সামর্থ্যের তুলনায় এডগার অ্যালেন পোর রচনা সম্ভার সীমিতই বলা যায়। আরেকটু বেশি সময় পেলে হয়তো তিনি সম্ভারটা আরও একটু সমৃদ্ধ তিনি করতে পারতেন। কিন্তু মানবজীবনের অন্ধকার পৃথিবী, মৃত্যু, রহস্য এবং মানব মনের গভীর নানা জটিলতায় পাঠককে দারুণভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রাখার অসামান্য ক্ষমতাশালী এই কথাসাহিত্যিক বেঁচেছিলেন মাত্র চল্লিশ বছরের মতো। সাহিত্যজীবনটাও তাঁর ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে মানসিক অস্থিরতা, অপরাধবোধ আর মানুষের ভঙ্গুরতার যে প্রতিচ্ছবি তিনি নির্মাণ করে গেছেন তা নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করে এই সময়ের মনোযোগী পাঠককেও।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা