× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গল্প

পারিবারিক জীবন

ফজল হাসান

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৪ ১৪:১৭ পিএম

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪ ১৪:২২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পরদিন ভোরবেলা আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি। আমার বাবা এবং নববধূ তখনো ঘুমিয়ে ছিলেন; আবহাওয়া ছিল চমৎকার। আমি বাইরে বেরিয়ে যাই এবং যখন ফিরে আসি তখন সকাল প্রায় পেরিয়ে গেছে।

আমি বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করি, রান্নাঘরের দিকে; ফরাসি দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি তিনি রান্নাঘরে একা এবং টেবিলের ওপর ফাঁকা জায়গায় পাস্তা বানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ময়দার ঢিবির মাঝখানে ডিমের কুসুম ঢেলে হাতের আঙুল দিয়ে জোরে জোরে ময়ান করছেন। তিনি আমাকে লক্ষ করেননি। আমি জানালার শার্সির পেছনে গিয়ে থামি এবং অবাক হয়ে দেখি যে, আগের রাত থেকে তার চেহারা অনেকটা বদলে গেছে।

কীভাবে এত সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে এমন অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটতে পারে! তার পরনে আগের দিনের লাল সোয়েটার, একই স্কার্ট, একই পুরোনো জুতো; কিন্তু তিনি আমার কাছে অচেনা কেউ একজন। গতকাল আমার দৃষ্টিতে তাকে যতটুকু সুন্দর লেগেছিল, তার সবটুকু উধাও হয়ে গেছে।

আজও বাবার খেয়ালখুশি মেনে তিনি তার চুল আলগা করে রেখেছেন, কিন্তু তার অগোছালো কোঁকড়ানো চুল, গতকাল চমৎকার বেণি করা ছিল, আজ এলোমেলো এবং অপরিচ্ছন্ন কাপড়চোপড়ে তাকে সাধারণ লাগছে এবং পরনের জামাকাপড়ের কালোভাব, তার মুখমণ্ডলের ফ্যাকাশের বিপরীতে কিছু অস্পষ্টতা যোগ করেছে। সেই গাঢ় এবং ঢিলেঢালা ফ্যাকাশেভাব তার গাল থেকে গতকালের বিশুদ্ধ সাদা রঙ মুছে ফেলেছে; আর তার চোখের পাতা, যার অস্পৃশ্য কোমলতা আমাকে ফুলের পাপড়ির কথা মনে করিয়ে দেয় এবং যেগুলো গাঢ় আভায় অদ্বিতীয় দেখায়, নষ্ট হয়ে গেছে। বারবার ময়দা মাখানোর মাঝে তিনি হাত দিয়ে কপালের চুল সরিয়ে দিচ্ছিলেন এবং সেই ফাঁকে তার চোখের পাতা সামান্য ওপরের দিকে তোলেন। তার দৃষ্টি, যা আমি অনিন্দ্যসুন্দর বলে মনে করেছি, তা আমার চোখের পর্দার আড়ালে আবৃত, পশুর মতো এবং করুণ বলে মনে হলো।

এখন আবার তাকে দেখে আমি লজ্জা পেলাম। কেননা আগের দিন আমি তার সঙ্গে এত অন্তরঙ্গ হয়েছিলাম এবং এত দূর গিয়েছিলাম যে, আমি তাকে আমার গোপন কথা বলতে চেয়েছি। বেঞ্চের ওপর বিখ্যাত নেতাদের বই ছিল এবং সেই দৃশ্য আমার লজ্জা আরও বাড়িয়ে তোলে। রাগে-ক্ষোভে আমি ফরাসি দরজা খুলি এবং অবশেষে তিনি আমাকে দেখতে পান। তৃপ্তি আর বন্ধুত্বের অলৌকিক আলোয় তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং চোখেমুখে মিষ্টি হাসির প্রলেপ মেখে তিনি বললেন :

‘আর্তু?’

কিন্তু আমি সম্ভাষণের জবাব না দিয়ে কঠোর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাই, যেমন একজন অপরিচিত ও নিকৃষ্ট ব্যক্তি এমন কিছু স্বাধীনতার সুযোগ নিয়েছে, যা আমরা মেনে নিইনি। তৎক্ষণাৎ তার মুখমণ্ডল থেকে তার আত্মবিশ্বাসী এবং খুশির অভিব্যক্তি হারিয়ে যায়। তার হাসি মিলিয়ে যায় এবং আমি দেখলাম তিনি আমার দিকে এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছেন; হতাশ, প্রশ্নবোধক এবং বর্বর, কিন্তু অপমানিত হওয়ার মতো নয়। আমি তাকে একটি কথাও বলিনি; বেঞ্চ থেকে একটা বই নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

সেদিন এবং তার পরের দিনগুলোয় আমি তার উপস্থিতি এড়িয়ে চলি, এমনকি তার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে বাবার সঙ্গও ছেড়ে দিই। আমি কেবল তখনই তার সঙ্গে কথা বলি, যখন সত্যিই আমি কোনো কথা বলতে বাধ্য হই। সেসব বিরল সময়ে আমার আচরণ শীতল এবং আপত্তিজনক থকে, যাতে তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন যে, আমার কাছে তার মূল্য অপরিচিতের চেয়েও কম। আমার আচরণে ক্ষতবিক্ষত, যদিও আচরণের কারণ তিনি জানতেন না, তিনি দ্রুত ও অসামাজিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে উদাস দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকান। কিন্তু মাঝেমধ্যে, বিশেষ করে বেশিরভাগ সন্ধ্যায়, যখন আমাদের পরিবারের সবাই একত্র হন, তখন তিনি চোখেমুখে ভীরুতার চিহ্ন এঁকে প্রায়শ্চিত্তের হাসি ছড়িয়ে দেন, অথবা বিনীতভাবে চোখের ভাষায় জিজ্ঞেস করেন, কী কারণে তিনি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হারিয়েছেন। সে সময় আমি তার শরীরের জন্য সত্যিই ঘৃণা অনুভব করতাম। তার মুখ আমাকে বিশেষভাবে বিরক্ত করত, যা প্রথম দিনের দেখা তার মুখের বাকি অংশের মতো ছিল না। তার মুখ প্রাণহীন গোলাপি রঙ হয়ে উঠেছিল এবং শ্বাস নেওয়ার সময় তার ঠোঁট জোড়া সামান্য ফাঁক হয়ে যায় এবং চোখেমুখে দুর্বল, বোকা অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে।

সেসব দিনে আমার বাবা সব সময় তাকে দ্বীপের চারপাশে নিয়ে যেতেন এবং তারা একসঙ্গে থাকতেন; আমি কখনও তাদের সঙ্গে হাঁটতে যাইনি এবং তাদের সঙ্গ এড়িয়ে চলেছি। আবহাওয়া চমৎকার ছিল এবং আমি আমার একাকী জীবনের অভ্যাস অব্যাহত রেখেছি। আমি সাধারণত সকালে একটি বড় টুকরো রুটি ও পনির নিয়ে বাইরে যেতাম এবং অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত ফিরে আসতাম না। এ ছাড়া আমি আমার সঙ্গে একটি বইও নিতাম এবং যখন আমি ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, তখন নৌবন্দরের ক্যাফেতে যেতাম। ক্যাফের বিধবা মহিলা এনামেলযুক্ত কফিপটে তুর্কি কফি তৈরি করে দিতেন।

আমি ফিরে এসে নবদম্পতির খোঁজ না করেই সোজা আমার ঘরে যাই এবং দরজা বন্ধ করি। তারপর এক ধরনের নিঃসঙ্গতার অনুভূতি, যা আমি অতীতে কখনও জানতাম না, আমাকে আক্রমণ করা শুরু করে। এমনকি আমার মা, যিনি ছিলেন উপকথার সুন্দর সোনার ক্যানারি পাখি এবং আমার প্রথম আহ্বানে উপস্থিত হতেন, আমাকে উদ্ধার করতে আর কখনও আসেননি

সত্যি কথা বলতে কি, ওই সময়ে আমার কাছে অর্থকড়ি ছিল (অসাধারণ অভিনব উপায়ে বললাম)। কারণ আমার বাবা বিয়ে করতে যাওয়ার আগে আমাকে পঞ্চাশ লিরা দিয়েছেন এবং সেদিন সকালেই তিনি সেই টাকা কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অনভ্যস্ত পুঁজির, আমার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা, মালিক হয়ে আমি ক্যাফের বিধবাকে এক কাপ কফির জন্য অনুরোধ করি এবং ক্যাশ বাক্সের সামনের টেবিলের ওপর অগ্রিম টাকা রাখি। তারপর বাড়তি কোনো কথা না বলে ক্যাফের এক কোণে গিয়ে বসি। সেখানে যতক্ষণ খুশি আমি বই পড়ি। সে সময় ক্যাফের একমাত্র গ্রাহক ছিলাম আমি। বুড়ি হয় ঘুমিয়ে পড়েছে, নয়তো নিঃসঙ্গ তাস খেলায় মেতে উঠেছে। তার পরও প্রায়ই একজন বহিরাগত সন্ত্রাসীর হুমকির মাঝে আমি সিলভেস্ট্রোর বিখ্যাত অবৈধ লাইটারটি বের করি। যদিও দুর্ভাগ্যবশত লাইটারটিতে কোনো চকমকি পাথর ছিল না এবং যার ফলে ক্লিক করলেও আগুন জ্বলবে না, তবু আমি জ্বালানোর ভান করে ক্লিক করি। বই পড়ার সময় আমি টেবিলের ওপর সস্তা সিগারেটের প্যাকেট রাখি, যা আমি সম্প্রতি কিনেছি এবং প্যাকেটটি খুলিনি। আসলে অতীতে আমি মাঝেমধ্যে আমার বাবার খাওয়া সিগারেটের শেষাংশে কয়েকটি টান দিয়েছি এবং তখন আমি তামাকের বমি বমি ভাব অনুভব করেছি।

রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাফের বিধবা টেবিলের ওপর একটি ছোট মোমবাতি জ্বালিয়ে দেন এবং পুনরায় সেই আলোয় তাস খেলায় মনোনিবেশ করেন। তার মৃত স্বামীর প্রতিকৃতির সামনে জ্বলতে থাকা সেই মোমবাতির শিখা আশপাশে ঘোলাটে ছায়ার সৃষ্টি করে, যা প্রায় অশুভ প্রভাব বিস্তার করে। তখন আমি সত্যিই গর্ব বোধ করি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, আমি আসলেই সমুদ্রের জলদস্যু, অভিযাত্রীদের সন্দেহজনক সরাইখানায় বসে আছি; সম্ভবত প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে কোনো গ্রামে কিংবা মার্সেইয়ের পেছনের সরু গলিতে।

কিন্তু যখন থেকে সেই মোমবাতির ক্ষীণ আলো আমাকে পড়তে দেয়নি, তখন এক পর্যায়ে আমি বিরক্ত হই এবং কাউকে বিদায় না জানিয়ে রাতের বেলা ক্যাফে ছেড়ে কাসা দেই গুয়াগলিওনিতে ফিরে যাই।

আমি ফিরে এসে নবদম্পতির খোঁজ না করেই সোজা আমার ঘরে যাই এবং দরজা বন্ধ করি। তারপর এক ধরনের নিঃসঙ্গতার অনুভূতি, যা আমি অতীতে কখনও জানতাম না, আমাকে আক্রমণ করা শুরু করে। এমনকি আমার মা, যিনি ছিলেন উপকথার সুন্দর সোনার ক্যানারি পাখি এবং আমার প্রথম আহ্বানে উপস্থিত হতেন, আমাকে উদ্ধার করতে আর কখনও আসেননি। আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, তার অবিশ্বস্ততার কারণে তিনি আমাকে উদ্ধার করেননি। হঠাৎ তাকে খোঁজার ইচ্ছা আমি হারিয়ে ফেলি এবং তার রহস্যময় সত্তাকে অস্বীকার করি। আমার বিশ্বাসের অভাব, যা একসময় তাকে একা বাঁচিয়েছিল, এখন তাকেও মাটির নিচে নির্বাসিত করেছে। তিনি অন্যসব মৃতের মতোই, যাদের অস্তিত্ব কিছুই না এবং দেওয়ার মতো তাদের কাছে কোনো উত্তর নেই। যদিও আমি মাঝেমধ্যে তার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি। তখন তৎক্ষণাৎ আমি নিজেকে কর্কশভাবে বলি : ‘তুমি কী ভাবছ? তিনি মৃত।’

এভাবেই আমি কিছু কঠিন সময় সহ্য করেছি। কিন্তু এমন মুহূর্তেও আমি নবদম্পতির সঙ্গে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেয়ে একা থাকতে পছন্দ করতাম। আমরা তিনজন একসঙ্গে হতাম শুধু রাতের খাবারের টেবিলে।

আমার সৎ-মা আমাদের বাড়িতে এ নতুন নিয়মটি চালু করেন : প্রতি রাতে আমরা গরম খাবার খেতাম এবং দিনের পুরোটা সময় রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বলত। সত্যি কথা বলতে কি, এটাই ছিল আমাদের ঘরোয়া ব্যবস্থায় একমাত্র সংস্কার। বাদবাকির জন্য, একজন ভালো গৃহবধূ না হয়ে, তিনি বিছানার ওপর কম্বল ভাঁজ করার এবং প্রায়ই খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দারুণ শক্তি নিয়ে রান্নাঘর এবং অন্যান্য ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কাজের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন। আর তাই সৌভাগ্যক্রমে আমাদের বাড়িটি তার ঐতিহাসিক জঞ্জাল এবং তার স্বাভাবিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে কমবেশি আগের মতোই রয়ে যায়।

আমাদের কোস্তান্তে, এখন যার পরিবর্তে নববধূ এসেছেন, অত্যন্ত সন্তুষ্টির সঙ্গে রান্নাঘর ও চাকর হিসেবে তার দায়িত্ব ছেড়ে কৃষক জীবনে ফিরে যায়। নববধূ নিজেই আমাদের বাড়ির দেখভালের দায়িত্ব নিতে পারতেন। যাহোক, লোকটি সপ্তাহে একবার কিংবা দুবার আমাদের জন্য ফল ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য নিয়ে এসে দেখা করে।

রাতের খাবারের সময় বাবা আমাকে গলা উঁচিয়ে ডাকেন এবং আমি নিচে নেমে যাই। প্রথম দিনের সেই অনন্য উদ্‌যাপনের সন্ধ্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের একই সঙ্গে বসে নৈশভোজ করার রীতি নীরবে চলে যায়। আমার সৎ-মা আমার বাবার উপস্থিতিতে সব সময় ভীত এবং অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু প্রথম দিনের মতো নয়, বরং এখন তিনি অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রতি মুহূর্তে তার কাছে থাকেন এবং এমনকি তার পাশে জড়ো হয়ে বসেন। মাঝেমধ্যে আমার বাবা তাকে থাকতে দেন, তবে তার প্রতি মনোযোগ দেন না। আবার মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে তাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু যেমনটি আমি বলেছি, সেই প্রথম দিকের দিনগুলোয় তিনি কখনই বাবার কাছ থেকে আলাদা ছিলেন না।

রাতের খাবার খেয়ে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। সাধারণত আমি তাদের আগে যাই, দ্রুত আমার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করি এবং আলো না জ্বালিয়েই তত্ক্ষণাৎ লেপের নিচে ঢুকে পড়ি। বিছানা থেকে তখনই আমি হলওয়েতে তাদের পদধ্বনি এবং তাদের ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনতে পাই। আর তাদের ঘর থেকে আবার সেই কান্না শোনার ভয়ে আমি মুষ্টিবদ্ধ হাত দিয়ে কান ঢাকি। আমি নিজেকে কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারি না। তবে আমি পুনরায় কান্না শোনার চেয়ে আমার সামনে একটা হিংস্র জন্তুকে দেখতে পছন্দ করি।

লেখক পরিচিতি : এলসা মোরান্তে ছিলেন একজন প্রভাবশালী ইতালীয় ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক, কবি এবং অনুবাদক। তিনি ১৯১২ সালে রোমে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে শিশুতোষ গল্প, রূপকথা এবং নার্সারি ছড়া লেখেন। পরে এসব লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয় দ্য সিক্রেট গেম (১৯৪১) এবং দ্য বিউটিফুল অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্যাটারি ফ্রম দ্য ব্রেড (১৯৪২)। তার প্রথম উপন্যাস মেনজোনে ই সোর্তিলেজিও (হাউস অব লায়ারস্) ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়, যা ভিয়ারেজিও পুরস্কার লাভ করে। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস লিজোলা দি আর্তুরো (আর্তুরো’স আইল্যান্ড) প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে এবং একই বছর উপন্যাসটি স্ট্রেগা পুরস্কার লাভ করে। তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : দ্য আন্দালুসিয়ান শাল (১৯৬৩), দ্য ওয়ার্ল্ড সেভড বাই দ্য লিটল বয়েজ (১৯৬৮), লা স্টোরিয়া (১৯৭৪) এবং আরাকোয়েলি (১৯৮২)। মোরান্তে ১৯৪১ সালে বিখ্যাত ইতালীয় লেখক আলবার্তো মোরাভিয়াকে বিয়ে করেন, কিন্তু ১৯৬১ সালে সে বিয়ে ভেঙে যায়। তিনি ১৯৬০ সালে (বিবাহিত থাকাকালে) পৃথক বাড়ি নির্মাণ করে বিল মোরো নামে এক তরুণ আমেরিকান চিত্রশিল্পীর সঙ্গে বসবাস করেন। মোরো ১৯৬২ সালে উঁচু ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার পর মোরান্তে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং ১৯৮৩ সালে তিনি নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে ১৯৮৫ সালে রোমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মূল : এলসা মোরান্তে
অনুবাদ : ফজল হাসান

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা