× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ : ঘরে বাইরে

মুনীরা বশীর

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৪:৪২ পিএম

দাদা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র কোলে লেখক। পাশে দাদি মোসাম্মৎ মরগুবা খাতুন। ছবি : মুর্তজা বশীর

দাদা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র কোলে লেখক। পাশে দাদি মোসাম্মৎ মরগুবা খাতুন। ছবি : মুর্তজা বশীর

বর্ষণমুখর সন্ধ্যা! পিতা মফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মাতা হরুন্নেছা খাতুনের আদেশে বিয়ে করতে চললেন। অবিভক্ত ভারতের চব্বিশ পরগনার পেয়ারা গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিএ ক্লাসে অধ্যয়নরত এক যুবক। গ্রামের কাঁচা রাস্তা, তার ওপরে মুষলধারে বৃষ্টি। সব মিলিয়ে বরযাত্রীদের নাজেহাল অবস্থা। কন্যাপক্ষের বাড়িতে তারা পৌঁছালেন একেবারে কাকভেজা হয়ে। ততক্ষণে তাদের কাদামাখা পায়ের জুতা উঠেছে হাতে। বরযাত্রীদের নগ্নপায়ে বিয়ের আসরে ঢুকতে দেখে কন্যাপক্ষের লোকেরা বলাবলি করতে থাকে, ‘এ কোন ছোটলোক, বিয়ের আসরে জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে বিয়ে করতে এসেছে।’

এরই মধ্যে মৌলভি অন্দরমহলে গিয়ে কনের রেজামন্দি মানে ‘কবুল’ শুনে এসেছেন। তারপর বরের রেজামন্দি নিতে এসে দেখেন দুই পক্ষে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে। এক পর্যায়ে বরের বাবা মফিজ উদ্দিন আহমদ (সরকারি জরিপ বিভাগের কর্মকর্তা) প্রচণ্ড রেগে গেলেন এবং বরকে বললেন ‘উঠে এসো, এ বিয়ে হবে না।’ এ পরিস্থিতিতে বর বিয়ের আসর থেকে উঠে আসতে বাধ্য হলেন। পরে কন্যাপক্ষ তাদের অশোভন আচরণের জন্য তার পিতার কাছে ক্ষমা চান এবং বরকে অর্থের প্রলোভন দেখান। কিন্তু বর বললেন, ‘আমি পিতার কুপুত্র নই। পিতা যে বিয়েতে রাজি নন, আমিও সেখানে রাজি নই।’ তাই তিনি সে বিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করলেন।

এদিকে কন্যা ‘কবুল’ পড়ে ফেলেছেন! বর নিরহংকার ও সাদামাটা মানুষ। জীবনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে সপরিবার বিয়ের আসর থেকে উঠে চলে এলেন। মফিজ উদ্দিন আহমদ ছেলের বিয়ের জন্য সবান্ধব এসেছিলেন। বিমর্ষ মনে এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাবেন কীভাবে তা নিয়ে মহাচিন্তিত। এ সময় বরযাত্রীদের মধ্য থেকে তার এক বন্ধু বলে উঠলেন, ‘আমার ১১ বছরের একটি কন্যা আছে। তোমার আপত্তি না থাকলে আমার মেয়ের সঙ্গে তোমার ছেলের বিয়ে দিতে আমি সম্মত আছি।’ এরপর সেই যুবক বর ১৯১০ সালের ১০ অক্টোবর চব্বিশ পরগনার বারসাত মহকুমার ভাসলিয়া গ্রামের জমিদার মুন্সী মুহম্মদ মুস্তাকিমের কন্যা মোসাম্মৎ মরগুবা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ে নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছিল ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র জীবনে। পরে তিনি এ ঘটনাটি মাঝে মাঝে উল্লেখ করে রসিকতার ছলে বলতেন, ‘আমার জীবনে ১০ সংখ্যাটি খুব ঘনিষ্ঠ। জন্ম তারিখ ১০ জুলাই, আমার বিয়ের তারিখ ১০ অক্টোবর (ইংরেজি ক্যালেন্ডারের দশম মাস)।’

ভারতীয় উপমহাদেশের স্মরণীয় বাঙালি বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক এবং দার্শনিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। ভাষাবিজ্ঞানের প্রায় সব শাখায় তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। আয়ত্ত করেছিলেন বাংলা, উর্দু, ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত, পালি, আসাম, উড়িয়া, আরবি, ফারসি, হিব্রু, আবেস্তান, ল্যাটিন, তিব্বতী, জার্মান, ফরাসি, প্রাচীন সিংহলী, পশতু, মুন্ডা, সিন্ধি, মারহাটী, মৈথালী ভাষা। ভাষার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সানন্দে বলতেন, ‘আমি বাংলা ভাষাই জানি।’

আমার সঙ্গে এ মনীষীর সম্পর্ক রক্তের। সৌভাগ্যবশত আমি এ মনীষীকে খুব কাছে পেয়েছি। এ মনীষীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান মুর্তজা বশীর আমার বাবা। আমার ঘরোয়া নাম যুঁই। দাদা এ নামটি দিয়েছিলেন। যা আমাকে গৌরবান্বিত করেছে। যদিও তাকে চেনার বা জানার বয়স তখন আমার হয়নি। কিন্তু তার কোলে চড়ার মতো দুর্লভ মুহূর্ত আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। আমি তার নাতনি, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আমার দাদা।

মৃত্যুর কয়েক বছর আগেও তিনি তার কনিষ্ঠ পুত্র চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরকে শবেবরাতে তার মায়ের কবর জিয়ারত করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমাজে একজন বুরজুক ও আলেম বলে পরিচিত ছিলেন। উনার বেগমসাহেবা আমার দাদি মরগুবা খাতুন শবেবরাতে নিজ হাতে রুটি-হালুয়া বানাতেন। ইসলাম সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র গভীর জ্ঞান ও দূরদর্শিতার উদাহরণ অনেক। এ রকম একটি ঘটনা আমার বাবা মুর্তজা বশীরের মুখে : ১৯৬০ সালে দাদা লাহোরে থাকাকালে একবার করাচিতে এসেছিলেন। তখন তিনি করাচিতে উর্দু ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চিফ এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুর্তজা বশীর তাকে বললেন, ‘আমি ছবি আঁকি এবং মুসলমান হিসেবে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই।’ তিনি জানতে চান ইসলামে ছবি আঁকা নিষেধ কি না? ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ জবাব দিলেন, ‘যদি সেই প্রতিকৃতি দেখে মনে কোনো রকম ভাবের সৃষ্টি হয়, সেটা শিরক হয়ে যায় এবং তা গুনাহ।’ তখন সৌদি আরবে ডাকটিকিট, ব্যাংক নোট ও মুদ্রায় কোনো প্রাণীর ছবি ছাপা হতো না। কিন্তু আজ সৌদি আরবে ডাকটিকিট, ব্যাংক নোট ও মুদ্রায়ও বাদশাহর ছবি ছাপা হচ্ছে। বাবা মুর্তজা বশীরের কাছে অনেক গল্প শুনেছি। তিনি বলতেন, ‘আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই বাবুর (পিতা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কে বাবু বলতেন) সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব ছিল। একমাত্র সকালে ও সন্ধ্যায় নামাজ পড়া ছাড়া তার সঙ্গে দেখা হতো না। তিনি সে নামাজের ইমামতি করতেন এবং সে নামাজে সন্তানদের উপস্থিত থাকাটা ছিল বাধ্যতামূলক। আমার মাকে কেন্দ্র করেই ছিল আমাদের জীবন। প্রত্যেক রবিবার এবং মাসে এক দিন বাবু যেদিন বেতন পেতেন, আমাদের কাছে সেই দিনটি উৎসবমুখর হয়ে উঠত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাসের প্রথম দিন বেতন পেয়ে তিনি টেবিলে সমস্ত টাকা বিছিয়ে দিতেন এবং সন্তানদের বলতেন যার যা খুশি তুলে নিতে। আমার মা তখন সেখানে থাকতেন না। মা থাকতেন ঘরের বাইরে দরোজার আড়ালে। ভাইবোনেরা যখন একেকজন বের হতাম মা তখন হাত থেকে সেই টাকা তুলে নিতেন এবং তার কাছে থাকত একেক ছেলের নামে একেকটি ছোট কাঠের বাক্স। সেখানে সেই টাকা তিনি জমা রাখতেন। সেই টাকাগুলো দিয়ে মা পরবর্তীকালে চব্বিশ পরগনায় আমাদের দেশের বাড়ি পেয়ারায় একটি ফলের বাগান কিনেছিলেন, যেখানে নানানরকম ফলের গাছ ছিল। আমরা গরমের ছুটিতে কিংবা অন্য কোনো সময় মার সঙ্গে দেশের বাড়িতে যেতাম। বাগান থেকে আমরা ইচ্ছামতো ফল পাড়তাম, নষ্ট করতাম, এজন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হতো না। কেননা যৌথ পরিবারে অনেক সময় এমন হতো, কাঁচা আমটা পেড়েছি, সেজন্য বকুনি খেতে হয়েছে। অথবা ডাব খেতে চেয়েছি, সেটা পাইনি। মার আভিজাত্যে এটা লাগত। দেশের বাড়িতে এরকম ঘটত না। রবিবারে বাবু তার সন্তানদের সঙ্গে বিলাতি সাহেবি কায়দায় খাবার খেতেন। ডিনার সেট, কাঁটা চামচ এবং ন্যাপকিনে সজ্জিত খাবার টেবিলের নির্দিষ্ট কিছু শিষ্টাচার শেখাতেন। বলতেন, অন্যের সঙ্গে একই টেবিলে খেতে বসলে হাত-মুখ ধুয়ে পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি অবস্থায় খেতে আসবে। কাঁটা চামচ থাকবে বাঁ হাতে আর চামচ বা ছুরি থাকবে ডান হাতে। কীভাবে তা ধরতে হয় তা নিজ হাতে ধরে সন্তানদের শিখিয়ে দিতেন। ন্যাপকিনটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা-ও দেখিয়ে দিতেন। মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করতেন এবং খাবার খাওয়া ও পানি পান করার সময় শব্দ করতে মানা করতেন। খাবারের অব্যবহৃত অংশ টেবিলে না ফেলে বোনপ্লেটে ফেলার নির্দেশ দিতেন। আর সবটাই দরজার আড়াল থেকে তদারকি করতেন আমার মা। বাবুকে তার সন্তানরা খুব একটা কাছে পেতেন না। সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। যা কিছু আবদার ছিল মায়ের কাছে।’

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কে নিয়ে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, উনি ভীষণ রকম রক্ষণশীল। আদতে তিনি তা ছিলেন না। ছিলেন ব্যক্তিজীবনে নিষ্ঠাবান ধার্মিক। তিনি বলেছিলেন ‘হিন্দু মুসলমান মিলিত বাঙালি জাতি গড়িয়া তুলিতে বহু অন্তরায় আছে, কিন্তু তাহা যে করিতেই হইবে।’ তার আশা ছিল ভবিষ্যতে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান মিলিত বাঙালি জাতি বিশ্বসভায় ফরাসি, জার্মান জাতির মতো আপন সম্মানজনক স্থান অধিকার করবে। তিনি বলেছেন, ‘আশা কানে কানে গুঞ্জন করিয়া বলে পারিবে’। আরও বলেছেন, আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারা ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ এঁকে দিয়েছেন যে মালা তিলক টিকিতে বা টুপি লুঙ্গি দাঁড়িতে তা ঢাকবার জো নেই।’

বাবার কাছে শুনেছি দাদা উদার মনের অধিকারী ছিলেন বলেই পিতা হিসেবে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চেয়েছিলেন সামাজিক ও পরিশীলিত হয়ে সন্তানরা বেড়ে উঠুক। মুর্তজা বশীর শিল্পী হোন, তা চাননি। প্যারিসে থাকার সময় তিনি দেখেছিলেন শিল্পীদের জীবন কত মানবেতর ও কষ্টসাধ্য। কিন্তু মুর্তজা বশীর তখন শিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল। ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে তিনি কঠিন দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, ‘বেশ। তবে সিনারি এঁকো।’ হাতে তুলে দিলেন ভর্তির টাকা। এ বাবাই ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ন্যুড রমণীর ছবির বই। কারণ তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, অন্যদের কাছে যেটি ন্যাকেড, ছেলের কাছে সেটি ন্যুড।

আমার বাবা মুর্তজা বশীর আজকে যে খ্যাতি বা যশ পেয়েছেন, তাতে প্রত্যক্ষভাবে আমার দাদার অবদান না থাকলেও পরোক্ষভাবে আছে। দাদা তাকে বলেছিলেন নটোরিয়াস বা ফেমাস হবে, মিডিওকার হও তা আমি চাই না। দাদার এ কথার পর থেকেই তিনি নিজের পারিবারিক নাম আবুল খয়র মুর্তজা বশীরুল্লাহ কেটে নিজের দেওয়া নাম মুর্তজা বশীর হিসেবে পরিচিত এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা পেয়েছিলেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তার ছেলে মুর্তজা বশীরকে বলেছিলেন, তিনটি ডব্লিউ থেকে বিরত থেকোÑওম্যান, ওয়ার ও ওয়াইন। মেয়ে, যুদ্ধ ও মদ সব ধ্বংসের মূল।

তার নাতনি হিসেবে আমাদের কাছে এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপেরÑদাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হননি। তার ছাত্র এবং বন্ধুরা উপাচার্য হয়েছিলেন। এমনকি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিজীবনে পূর্ণ অধ্যাপকও হননি। তিনি রিডার (সহযোগী অধ্যাপক) রূপে অবসর গ্রহণ করেন। এমনকি তার স্বপ্নের ফসল বাংলা একাডেমির সভাপতি পদেও তাকে আসীন করা হয়নি। বাংলা একাডেমির পুরস্কারও তার কপালে জোটেনি। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অশুভ রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন। জীবনভর ভাষা ও সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ এ জ্ঞানতাপস তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ এবং ১৯৬৭ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক ‘নাইট অব দি অর্ডারস অব আর্ট লেটার্স’ পদকে ভূষিত হন। ১৯৮০ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার এবং ২০০২ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।

বাবার কাছে শুনেছি আজীবন উদ্যমী আমার দাদা সর্বদা ছিলেন কর্মচঞ্চল। ১৯৬৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রথম সেরিব্রাল থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হন এ জ্ঞানানন্দ প্রবাদপুরুষ। জীবনসায়াহ্নে যখন হাসপাতালের বিছানায়, তখন ডান হাতে লেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। এতে খুব দুঃখিত হয়ে বলেছিলেন, ‘ভালো হয়ে নিই, আমার বাম হাতে লেখার অভ্যাস করব।’ ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই সুদীর্ঘ কর্মজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে তার। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অসিয়ত করে শ্রদ্ধেয়া মাতা হরুন্নেছা খাতুন এবং প্রাণপ্রিয় স্ত্রী মোসাম্মৎ মরগুবা খাতুনের মাঝখানে ঐতিহাসিক পারিবারিক কবরস্থান, নীলক্ষেত বাবুপুরার বাককু শাহ মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চেয়েছিলেন। আমার দাদার অসিয়ত উপেক্ষা করে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসংলগ্ন মূসা খান মসজিদের পশ্চিম পাশে শেষশয্যায় শায়িত করা হয়। ১৯৬৯ সালে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মৃত্যুর এক কি দুই দিন আগে দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার ‘শেষের পাতা’ কলামে হেদায়েত হোসাইন মোরশেদের একটি লেখা প্রকাশ পায়। সেখানে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি জাতির উদ্দেশে কি কিছু বলবেন?’ তিনি অকুণ্ঠ চিত্তে যে কথাটি বলেছিলেন, তা তার আজীবনের সাধনা বাংলা ভাষায় নয়, ছিল ইংরেজিতে-‘আই উইল সুন বি ফরগটেন’। বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জন্ম বা মৃত্যু দিবস পালন করে না!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা