নাসির আহমেদ
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৬:১৫ পিএম
একটা নিবিড় তন্ময়তার মেঘে মেঘে গেছে আত্মমগ্ন বেলাÑ
যখন সত্তা খুলে গেছে দেখি বিশ্ব কাঁপছে সন্ত্রাসঝড়ে!
চিনেছি নিজেকে, জেনেছি মিথ্যে প্রলোভন পাপ-
তখন কী ক’রে তোমার সঙ্গে থাকি!
তুমি তো বস্তুজগতের এই ক্লেদে কালিমায় লোভের পঙ্কে
শান্তির মতো শুভ্রতাকেও দিয়েছো জলাঞ্জলি!
তুমি তো গিয়েছো খুনির পক্ষে, ‘টুঁ’ শব্দ নেই গণহত্যায়ও!
এমন ভয়াল নৃশংসতায় আঁতকে উঠেছি!
ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপে উড়ছে ঈগল পরাশক্তির;
হাজারো মানুষÑনিরীহ মানুষ বোমায় ঝলসে যাচ্ছে এখনো।
কী ক’রে তোমার সঙ্গে থাকবোÑমানবতাহীন তুমি ভুলে গেছো
একাত্তরের গণহত্যার ভয়াবহ ছবি! মুক্তিযুদ্ধে যাওনি সেদিন!
ইতিহাস বিকৃত করে আজ নিচ্ছো খুনির পক্ষ, তাই তো
লাঞ্ছিত মানবতা তোমাকেও দিচ্ছে ঘৃণায় অভিশাপ আজ;
হাজার হাজার বছরের কত প্রত্নস্মৃতির সভ্যতা যারা ধ্বংস করেছে
ইরাকে এবং আফগান জুড়ে-
নীরবতা নিয়ে তাদেরই পক্ষে ধর্মের নামে রাজনীতি করো তুমি!
এর নাম যদি ধর্মচেতনা বিস্মিত আমি এই অধর্মে,
তোমাকেও ঘৃণা। আমি তো চেয়েছি স্বদেশের মতো
সবখানে তুমি মানবাধিকার রক্ষায় হবে সোচ্চার- সেই
তোমারই দেখছি বৈপরীত্যে দুমুখো চেহারা পোড়ামাটি নীতি!
আমি তো চেয়েছি সবুজে শ্যামলে প্রতিটি মানুষ
নিজ বাসভূমে শান্তিতে থাক। অন্ধকারের বিরুদ্ধে দেখো
জ্বলছে ঘৃণার লক্ষ লক্ষ আলোর জোনাকি, জ্বলবে সূর্য
আবার ওখানে আলোকিত গাছপালা পুনরায়
সাজাবে বাগান, নতুন বসতি।
মুখরিত হবে ওই জনপদ।
শান্তি! শান্তি! বলে প্রতারণা করে যারা আজও
বিশ্বশান্তি-গীতি গেয়ে যায়! তারাই তোমার বন্ধু যখন,
তাদের মুখোশ খুলে দেবো আজ শান্তি পদক শান্তি! শান্তি!
তুমিও খুনির সহচর হবে। দেখে তো হইনি মোটেও অবাক!
সব শেয়ালের এক-রা যে হবে তা তো জানা ছিল।
এই দ্রোহী ক্ষোভে জানি তুমি আজ ভীষণ ক্রুদ্ধ আমার ওপর।
আদিকবি বাল্মীকি যদি এক মিথুনে মগ্ন পাখি হত্যার দায়ে
চির অভিশাপ ব্যাধকে দিলেন! আমি কেন তবে
অগণিত শিশু-নারী হত্যার প্রতিবাদে জ্বলবো না!
যাদের আজকে ধ্বংস করছে ইসরাইলের বর্বরতার বিমান-কামান-
তারাও দাঁড়াবে একদিন নিজ মাতৃভূমিতে।
কেননা শক্তিশালী দানবেরও একদিন ঘটে চরম বিপর্যয়।
আর্তনাদের এই হাহাকার আকাশে-বাতাসে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি
তুলে কি শূন্যে মিলিয়েই যাবে? কক্ষনো নয়, কক্ষনো নয়।
অন্ধরাত্রি শেষে রৌদ্রের আলো আর ঘোর কৃষ্ণপক্ষ চিরে
ফিরে আসে পূর্ণিমা রাত্রিরা। মহাপ্রলয়ের পরেও দেখেছি ধ্বংসস্তূপে
মানব-বসতি, ফোটে কত ফুল!
গৃহহারা শরণার্থীকে যারা ধ্বংস করছে হাসপাতালেও!
গোলার আঘাতে প্রাণ কেড়ে নিতে এতটুকু দ্বিধা নেই!
এমন চরম পাশবিকতায় প্রতিবাদহীন ‘মানবতাবাদী’
তোমার সঙ্গে কী করে মিশবো তুমি তেল আমি জল।
আমি কবি চিরস্বাধীন সত্তা, আমার ভিতরে স্রষ্টার দয়া,
আমার দু চোখে ঘৃণার আগুন ঘাতকের প্রতি চিরনিন্দায় অশ্রুসিক্ত।
ঝর্ণা যেমন নদীর ভিতর নদী হয়ে মিশে যায় সমুদ্রে
আমার হৃদয়ে বিশ্বমানব সত্তার জাগরণ।
আমাকে জাগিয়ে রাখেন নিত্য সত্য ন্যায়ের সোনালি আলোয়
কী ক’রে আমাকে তোমার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছো
তুমি তো অন্ধ! হৃদয় আমার হাজার হাজার নারী ও শিশুর কান্নার ঢেউ।
আমি ভাবি সেই নবদম্পতি বোমার আঘাতে নিহত যাহারা,
তাদের জন্য কাঁদছে আমার চশমা, কলম; এই যে মরণ, এই অপঘাতÑ
তার অভিশাপে একদিন জানি ধ্বংস হবেই
ইসরাইলের খুনি ফেরাউন শাসকের দল।
দিকে দিকে আজ উঠুক আওয়াজ : মধ্যপ্রাচ্য এক হও, এক!
আজকে কোদাল লাঙ্গলজোয়াল চশমা কলম কৃষক শ্রমিক
যেমন ঐক্যে একাত্তরের জয়।
আরববিশ্ব জাগো তুমি আজ, তেমনি করেই একবার জাগো!
যেমন জেগেছে বাংলা-বাঙালি বাহান্ন আর একাত্তরের চরম দুঃসময়ে,
বাংলা ভাষাকে ডেকেছে মা-বলে, দেশকে জেনেছে গর্ভধারিণী,
তেমনি জাগো হে আরববিশ্ব! জাগো পৃথিবীর সচেতন কবি।