× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাতে ডিমের বাজার বন্ধ চায় বিপিএ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ২১:২৬ পিএম

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম

রাতে ডিমের বাজার বন্ধ চায় বিপিএ

চলতি মাসের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। ১৩০ টাকা ডজনের লাল ডিম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজনও ১৫০ টাকা। ডিমের এই দাম বৃদ্ধিকে তেজগাঁওয়ের ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কারসাজি। মূলত রাতে এই বাজারে ডিম বিক্রি হওয়ায় দাম এ ধরনের উঠানামা করছে বলে দাবি বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ)। শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।                                              

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপিএ’র উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য চাষী মামুন, সহ-সভাপতি বাপ্পা সাহা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার প্রমুখ। 

লিখিত বক্তব্যে সুমন হাওলাদার বলেন, ডিমের বাজারে দাম বাড়ানো ও কমানোর ক্ষেত্রে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি দায়ী। তারা দৈনিক ২০ থেকে ৩০ লাখ ডিম বেচাকেনা করে। কিন্তু সারা দেশের সাড়ে চার কোটি ডিমের বাজার নির্ধারিত হয় তাদের ফেসবুকের পোস্ট ও এসএমএসের কারণে। এই বাজারে রাতে ডিম বেচাকেনা করা হয়। তারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেয় ডিমের দাম কত হবে। বিভিন্ন ফেসবুকে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই অনুযায়ী সারা দেশে ডিম বিক্রি হয়। তাছাড়া মোবাইলে এসএমএস করেও ডিমের দাম নির্ধারণ করে থাকে। ডিমের দাম স্থিতিশীল করতে রাতে ডিম বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ করে দিনে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ সাড়ে ৯ টাকা থেকে সাড়ে ১০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা থেকে সাড়ে ১২ টাকা, ডিমের এই দাম যৌক্তিক। বর্তমানে ডিমের বাজার স্থির আছে ও উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে এবং ভোক্তাও ন্যায্যমূল্যে খাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ডিমের দাম উঠানামা করার কারণ হচ্ছে ডিম উৎপাদনকারীরা দাম নির্ধারণ করতে পারছে না। মূলত ডিম ব্যবসায়ী ও সমিতির কারসাজিতে মাঝে মাঝে বাজার অস্থির হয়ে যায়। এসব ব্যবসায়ীরা ১০০ ডিমে প্রতিদিন ১০ টাকা, ২০ টাকা করে কমিয়ে ডিমের দাম ৭ টাকা পিসে নিয়ে আসে। আবার একইভাবে দাম বাড়িয়ে প্রতি পিস ডিম ১৩ টাকায় তুলে ফেলে।   

ডিম কেনার পদ্ধতি সম্পর্কে সুমন হাওলাদার বলেন, খামারি থেকে চার দিন পর পর ডিম কেনা হয়। খামারি চাইলেও অন্য কারও কাছে ডিম বিক্রি করতে পারে না। তাদের একই পাইকারের কাছে ডিম বিক্রি করতে হয়। তেজগাঁও ডিমের বাজার থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে ক্যাশ মেমোর মধ্যে লিখে দেওয়া হয় সেই দামে সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও  কিনতে হয়। কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে যারা খুচরা ডিম বিক্রি করেন, তেজগাঁও ডিমের বাজারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের উপর নির্ভর করতে হয়। 

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও করপোরেট কোম্পানির পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার দামের কারসাজিতে প্রান্তিক খামারিদের ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বাজারে ডিম ও মুরগির দাম বাড়লেও খামারিরা উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছে। তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এ সংকটের কারণে আগামীতে ডিম ও মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে।  

সুমন হাওলাদার বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে ৮০ শতাংশ  ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিদের না রেখে শুধু কর্পোরেট কোম্পানিদের নিয়ে মিটিং করছে। তাদেরকে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ২৮ টাকার উৎপাদন খরচের মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণ করেছে ৬৭ টাকায়। বর্তমানে তারা সেসব মুরগির বাচ্চা বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে করপোরেট গ্রুপগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। এসব বন্ধ করতে মুরগির বাচ্চা আমদানির অনুমোদন দিতে হবে।  

তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিদের এই জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ও ডিম এবং মুরগির সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় এক কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। যাতে করে বন্ধ হওয়া খামারগুলো বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা নিয়ে উৎপাদনে ফিরে আসতে পারে। তাতে করে ডিম ও মুরগির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা