× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সনদ জালিয়াতি

টাকা দিয়ে কেনা সনদের তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ০০:২৩ এএম

আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ০০:২৯ এএম

টাকা দিয়ে কেনা সনদের তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামানসহ বোর্ডের অন্য কর্মকর্তারা বছরের পর বছর টাকার বিনিময়ে সনদ ও মার্কশিট বিক্রি করেছেন। এসব সনদ ও নম্বরপত্র যারা কিনেছেন, তাদের তালিকা এখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে রয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামানের কাছ থেকে জাল সনদ ও নম্বরপত্রের এ তালিকা পাওয়া গেছে। এগুলো এখন যাচাই করা হচ্ছে। 

 শনিবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, শামসুজ্জামানসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা বছরের পর বছর টাকার বিনিময়ে সনদ ও মার্কশিট বিক্রি করেছেন। বিক্রি করা সনদগুলো কীভাবে শনাক্ত করা যায়, সে তথ্য শামসুজ্জামান আমাদের দিয়েছেন। আমরা এই তথ্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাব। পাশাপাশি বুয়েটের এক্সপার্টদের যুক্ত করে কাজটি কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, গত ১ এপ্রিল রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন রমজান মাসের শেষের দিকে। শামসুজ্জামান আমাদের কাছে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অনেক সাংবাদিক ফোন দিয়ে ঈদের বোনাস চেয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, কোনো সাংবাদিককে কখন, কীভাবে, কত টাকা দিয়েছেন।

হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, ডিবির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদি কোনো সংবাদিক শামসুজ্জামানের মুখোমুখি বসে কথা বলতে চান, আমরা তাকে সেই সুযোগ দেব। অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানির শিকার হন, সেটা আমরা চাই না। পাশাপাশি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা তাদেরও বলেছিÑ দুদক সম্পর্কে শামসুজ্জামান যে তথ্য দিয়েছেন, চাইলে আপনারাও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। যাদের নাম বলেছেন, সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, শামসুজ্জামান মনে করেছেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের চারপাশে দালাল প্রকৃতির লোক থাকে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও দুর্নীতি দমন কমিশন অনিয়ম তদন্ত করে। তারাও যদি তার পাশে থাকে, তাহলে সনদ বাণিজ্যটা বড় আকারে করতে পারবেন। সে কারণেই তিনি এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। শামসুজ্জামানের সহযোগী ফয়সালকে নিয়ে একটি আলাদা বাসায় বসে সনদ তৈরি করতেন। এ কারণে বিভিন্ন মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

ডিবিপ্রধান বলেন, বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্য থাকার পরেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করে। অভিযুক্ত শামসুজ্জামান কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চাকরিচ্যুত ফয়সালকে দিয়ে একটি বাসা ভাড়া করে সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরি করছিলেন। জাল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বোর্ডের ওয়েবসাইটে তারা আপলোড করেন। যা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যাচাইয়ের জন্য বৈধ বলে ওয়েবসাইট থেকে প্রমাণ করত।

তিনি বলেন, দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি রয়েছে। দুদক সম্পর্কে শামসুজ্জামান যা বলেছেন, যদি সেগুলো দুদক যাচাই-বাছাই করতে চায়, তবে তারা প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

দুদকের কর্মকর্তারা কীভাবে জড়িত, এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন-অর-রশীদ বলেন, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের চারপাশে দালাল শ্রেণির লোক, শিক্ষা বিটের সাংবাদিক এবং দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যদি শামসুজ্জামানের সঙ্গে থাকে তবে সে তার সার্টিফিকেট বাণিজ্য আরও বড় আকারে করতে পারে। এই উদ্দেশ্যে তিনি ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসার ভেতর সার্টিফিকেট বাণিজ্যের কারখানা গড়ে তুলেছিলেন।

গত ৩১ মার্চ মধ্যরাতে শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গেয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। ১ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ২১ এপ্রিল বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ত্রী জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসার পরে চেয়ারম্যান আলী আকবরকে ওএসডি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা