প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৪ ২৩:৫২ পিএম
টুর এন্ড ট্রাভেলস ব্যবসার অনুমোদন নিয়ে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান কিরগিজস্থানসহ বিভিন্ন দেশে চাকুরী দেওয়ার নাম করে লোক পাঠানোর বিজ্ঞাপন দেয় ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করার অনুমোদন না থাকা সত্বেও কিরগিজস্থানে পাঠানোর জন্য ৩০ ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক। কিন্তু কাউকেই কিরগিজস্থানে পাঠাতে পারেনি। বরং ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত চাওয়ায় নদীতে ফেলে হত্যার হুমকি দেয়। ফলে প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিরা কেউ আর টাকা ফেরত চাইতে যায় না। এভাবে দীর্ঘ ১ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে অবৈধ এ ‘রিক্রুটিং এজেন্সি’। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির তদন্তে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতারনার অভিযোগে গত সোমবার পল্টনে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিখ ইব্রাহীম মল্লিক নাহিদসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলোশারমিন হোসেন লাবনী ও আরিফুর রহমান সাদী। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহজাহান শিকদারের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
সিআইডি জানায়, এক রিক্সাচালককে কিরগিজস্থানে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন ইব্রাহীম। কিন্তু ওই রিক্সা চালককে পাঠাতে পারেনি। রিক্সচালক মামলা করলে সিআইডির মানব পাচার ইউনিট তদন্তে নামে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের সত্যতা পায় সিআইডি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শিকদার জানান, জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ট্যুর এন্ড ট্রাভেল ব্যবসার জন্য অনুমোদন পায় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু এর আগ থেকেই প্রতিষ্ঠানটি তিরগিজস্থান, কাজাগিস্থান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকুরী পাওয়ার সুযোগ আছে বলে ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করে। তাদের বিজ্ঞপন দেখে যারা যোগাযোগ করে তাদের ভালো কাজে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা করে নেয়। এরপর অন্য রিক্টুরিং এজেন্সির মাধ্যমে পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সিআইডি ৬জন ভিকটিমের খোজ পেয়েছে যাদের তুরস্কে পাঠানো হয়েছে ভালো কাজের কথা বলে। কিন্তু এজজনও কাজ পায়নি। তাদের অবৈধভাবে পাঠানো হয়েছে। ফলে ওই ৬ ব্যক্তি এখন তুরস্কে মানবেতন জীবন যাপন করছে।
সিআইডি জানিয়েছ পল্টনে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের অফিসে তল্লাসী চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ব্যক্তির নথিপত্র পাওয়া গেছে।