× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ট্রান্সকমে সম্পত্তি ও শেয়ার বিরোধ

সিইওর বিরুদ্ধে ভাই হত্যার অভিযোগ ছোট বোনের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৪ ২২:৫৪ পিএম

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের বড় মেয়ে সিমিন রহমান (বামে) ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হক (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের বড় মেয়ে সিমিন রহমান (বামে) ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হক (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে এবার তার ভাইকে বিষ প্রয়োগ বা শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ আনলেন ছোট বোন শাযরেহ হক। গত শুক্রবার তিনি গুলশান থানায় এই হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে মামলার অভিযোগে বলেছেন, তার বড় বোন সিমিন রহমানসহ আসামিরা তার বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে বিষ প্রয়োগ বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন সিমিন রহমানের ছেলে যারাইফ আয়াত হোসেন, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপক ডা. মুরাদ এবং পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) কামরুল হাসান, আইন কর্মকর্তা মো. ফখরুজ্জামান ভুঁইয়া, ব্যবস্থাপক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) কেএইচ মো. শাহাদত হোসেন, কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ও সেলিনা সুলতানা এবং গ্রুপের কর্মচারী রফিক ও মিরাজুল। প্রসঙ্গত, আরশাদ ওয়ালিউর রহমান গত বছরের ১৬ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান।

এর আগে কোম্পানির সম্পত্তি ও শেয়ার-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড় বোন ও গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান মা শাহনাজ রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাযরেহ। তাতে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও দলিল জালের মাধ্যমে শাযরেহ ও তার প্রয়াত ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এরই মধ্যে মামলার আসামি ট্রান্সকম গ্রুপের পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। কারাগারে থাকা কর্মকর্তারা হলেন প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক এবং সহ-কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক।

এজাহারে যা উল্লেখ করেন শাযরেহ 

এজাহারে শাযরেহ হক বলেন, মুসলিম শরিয়া আইন অনুযায়ী তিনি ও তার মৃত বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান (৫৭) এবং মামলার এক নম্বর আসামি সিমিন রহমান তার পিতার সকল স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ। লতিফুর রহমানের স্থাবর সম্পত্তিসহ তার প্রতিষ্ঠা করা ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার এবং পজিশন নিজেদের অনুকূলে হস্তগত করার পাশাপাশি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বাদী (শাযরেহ) এবং তার বড় ভাইকে (আরশাদ)। বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন সিমিন রহমান ও তার ছেলে যারাইফ আয়াত হোসেন। 

তাদের জাল-জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত বছরের ৮ জুন আরশাদ ওয়ালিউর রহমান পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেন। এতে সিমিন রহমান ক্ষিপ্ত হন আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের ওপর। তখন তিনি জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর ৮ দিন পর গত বছরের ১৬ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আরশাদ। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশান-২-এর নিজের বাসার শয়নকক্ষে মৃত ও চিৎ অবস্থায় দেখতে পান। যদিও তার শরীরে কোনো জটিল রোগ ছিল না। 

মামলার এজাহারে শাযরেহ হক আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সকল আসামিকে তিনি দেখতে পান। কিন্তু তার মারা যাওয়ার কথা বা অসুস্থতার কথা কেউই জানাননি। পরে দ্রুত তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে মৃত্যুর সনদপত্র নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা হয়। সেদিন বিকালেই তাকে দাফন করা হয়। 

শাযরেহ হক মামলায় উল্লেখ করেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকরা সিমিন রহমানের উদ্দেশে বলেন, উনি অনেক আগেই মারা গেছেন। কেন তাকে এত পরে হাসপাতালে আনা হলো? তখন পারিবারিক চিকিৎসক ডা. মুরাদ হাসপাতাল প্রশাসনকে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ রিপোর্ট করার প্রয়োজন নেই।’ 

শাযরেহ হক আরও উল্লেখ করেন, তিনি মনে করেন ১১ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তার বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে বিষ প্রয়োগ বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেÑ যা আসামিদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘বাদীর লিখিত অভিযোগটি গুলশান থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা