দাউদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:১০ এএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:১০ এএম
নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর (বামে) ও আশিকুল ইসলাম খোকন (ডানে)। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় ভূমিদস্যু আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলমের সহযোগী নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টারসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাউদপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা এ কে এম মাহমুদুল হক মামুন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ভাঙচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগ ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে বাদীকে হত্যাচেষ্টা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যের ছবি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বাদী নিজ পরিচয় উল্লেখ করেন, তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের কার্যকরী সদস্য। তার দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেনÑ মো. নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার (৫৫), আশিকুল ইসলাম খোকন (৩৮), রুবেল (৩৮), বিপ্লব (৩৬), দুলাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৪২), বাবুল (৪৮), মোতালিব (৪৫), শহিদুল ইসলাম (৪০), হারিছুল (৩৭), তৌহিদ (৪৫), আল আমিন মালুম (৪৯), রুবেল (২৮), মুনজুর হোসেন (৩৫), লুৎফর রহমান (৩২), শাহিনুল (২৬), সাগর (২৫), খোকন (৪৮), জালাল (৪০), সেকান্দর আজাদ (৩৭), সামসুল (৩৫), গুলজার (৪৮), জাকারিয়া (৩০), শুভ মিয়া (২৮), আল আমিন (৩৫), জামান (৪৫), বাবুল (৪৭), তুহিন (৪২), হোসেন আলী মুন্সি (৪৫), ইমান আলী খান (৪৭), আরমান মিয়া (৪৬), জবল হক খান (৪৮), মোশারফ হোসেন (৪৮), মো. আনোয়ার হোসেন (৪০), আব্বাস (৩৫), ওয়াসিম (৩৭), আরিফ ভূইয়া (৪৭), মো. মোশারফ হোসেন (৩৫)-সহ আরও ৪০ থেকে ৫০ জন।
এজাহারে বাদী বলেন, এসব আসামি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারী। তারা রাজনীতির নামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিকারী। আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনীতির নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাস ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছে। এর মাধ্যমে সুশীল সমাজ ও সুশৃঙ্খল আওয়ামী রাজনীতিকে কলুষিত করছে। তারই জের ধরে নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টারের হুকুম ও নির্দেশনা মোতাবেক এজাহারনামীয় ৩৮ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জন বেআইনি জনতাবদ্ধে হয়। তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল ও বন্দুক; দেশীয় অস্ত্র, ধারালো রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, হকিস্টিক ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি বেলা ১১টার সময় দাউদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খাস দাউদপুর বটতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা করে। আসামিরা কার্যালয়ে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। কার্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সমাবেশ চলাকালীন লোকজনদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্কগ্রস্ত করার মাধ্যমে বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে সরিয়ে দেয়। আসামিরা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে বড় হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে ভাঙচুর করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওই কার্যালয়ের দরজা, জানালা, থাই গ্লাস, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করে। এতে অনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়।
আসামি আশিকুল ইসলাম খোকন, রুবেল ও বিপ্লব অঙ্গ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের ওয়াড্রবের ড্রয়ার থেকে ফান্ডের নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আসামিরা কার্যালয়ের দেওয়ালে টাঙ্গানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীকের ছবি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
বাদী আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। হকিস্টিক এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় আসামি আশিকুল ইসলাম খোকন, রুবেল ও বিপ্লব তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকালে ভিক্টিমদের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। তখন আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
বাদী আরও বলেন, গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় রূপগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল থেকে তিনি চিকিৎসা নেন।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩, ৪৪৮, ৪৩৫, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৩, ১১৪, ৫০৬(২), ৩৪ ধারা, বিস্ফোরক উপাদানাবলি আইনে রেকর্ড করেছে। এছাড়া বে-আইনি জনতাবদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশপূর্বক মারপিট করে হত্যার উদ্দেশ্যে জখম, চুরি, ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর ও হুকুম দেওয়ার অপরাধ হিসেবে মামলাটি রেকর্ড করেছে পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে দাউদপুরে হামলা, ভাঙচুর, গাড়ি ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, হত্যাচেষ্টা, ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।